"/> অন্তর্জাল
গ্রাহক সেবা
সময় পেলে ভেবে দেখবেন
-11/11/2016





 

১। যারা মনে করছেন যে, সব সিম নিবন্ধিত হয়েছে এবং ফোনকলের মাধ্যমে হয়রানি/ প্রতারণার দিন শেষ তারা নিশ্চিতভাবেই ভুলের মধ্যে আছেন। এখনো অনেক অনিবন্ধিত সিম দিব্বি চলছে এবং অনেক সিম ভুয়া আইডি ব্যাবহার করে নিবন্ধন করা হয়েছে। এই সিমগুলো দিয়েই বর্তমানে অপরাধীরা মারাত্মক সব অপরাধকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

কদিন আগেই আমার এক জুনিয়রকে রবি এবং জিপি সিম থেকে ফোন দিয়ে প্রতারিত করা হয়েছে। সিমগুলো নিবন্ধিত ছিল না। মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমার জুনিয়রের যে এয়ারটেল সিমে ফোন দিয়ে প্রতারিত করা হয়েছে সেটাও নিবন্ধিত নয়। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে,তোমার সিম নিবন্ধন ছাড়া চলছে কিভাবে? সে বললো যে, এটা সে নিজেও জানে না। নিবন্ধন করেনি কিন্তু বন্ধও হয়ে যায় নি।

হয়ত দেখা গেলো কেউ আপনাকে সুন্দর করে ইংরেজিতে মেসেজ লিখে হত্যার হুমকি হিয়েছে আর আপনি খোঁজ নিয়ে দেখলেন যে,এই সিম এমন একজনের নামে নিবন্ধন করা যে ইংরেজিতে মেসেজ লিখবে তো দূরের কথা ঠিকমত ফোনটাও ব্যাবহার করতে পারে না!

২। যারা ডেভেলপার কোম্পানির কাছ থেকে অগ্রিম টাকা দিয়ে ফ্লাট কেনার চিন্তা করছেন তাদের অনেক বেশি সতর্ক থাকা জরুরি। এদের প্রতারণার যেমন কোন ধরণ নেই তেমনি কোন সীমাও নেই। এদের দ্বারা মারাত্মকভাবে প্রতারিত হয়েছে এমন মানুষের সংখ্যা নিতান্তই কম নয়। আপনার টাকা দিয়েই ওরা বিল্ডিং বানাবে কিন্তু সময়মত আপনি বুঝে পাবেন না। গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা ব্যাংকে রেখে,ব্যবসায় খাটিয়ে মুনাফা লুটবে আর এই মুনাফার টাকায় আপনার স্বপ্নের নিবাস গড়ে উঠবে। চুক্তি অনুযায়ী সময়মত ফ্লাট বুঝে পাওয়া তো দূরের কথা অনেকক্ষেত্রে বছর পার হয়ে গেলেও খবর থাকে না। আর মাঝপথে এসে জোর খাটিয়ে ওদের সুবিধামত চুক্তির পরিবর্তন খুব কমন ব্যাপার।

আমার খুব নিকট এক আত্মীয় সুপরিচিত এক ডেভলপার কোম্পানির কাছ থেকে নির্মাণাধীন বিল্ডিং এর ফ্লাট বুকিং দিয়েছিল ৭০ লক্ষ টাকায়। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ফ্লাট বুঝিয়ে দেয়ার কথা ছিল। ২০১৫ সালের শুরুতেই সব টাকা পরিশোধ করে দেয়া হয়েছে। আর এখন ২০১৬ শেষ হতে চলেছে। ফ্লাট হস্তান্তরের কোন খবর নেই। খবর নিতে গেলে নানা অজুহাত দেখায়,চাপ দিতে চাইলে নানান ধরনের হুমকি। অমুক নেতা তমুক নেতা তাদের ডান/বাম হাত। কেউ অভিযোগ করে কিছুই করতে পারবে না তাদের ইত্যাদি ইত্যাদি। ভুক্তভোগী আত্মীয়টির সাথে কালই কথা হয়েছে। ২০১৪ যে ফ্লাট বুঝিয়ে দেয়ার কথা তা ২০১৬ সালেও বুঝে পাওয়ার সম্ভবনা নেই বলে জানিয়েছেন।এছাড়াও চুক্তি অনুযায়ী ফ্লাট যে মানের হওয়ার কথা তার থেকে অনেক কম মানের ফ্লাট তৈরি করা হচ্ছে।আপনার কষ্টার্জিত টাকা ঢেলে দিয়ে এমন হয়রানি আর প্রতারণার স্বীকার হলে আপনার কেমন লাগবে? অগ্রিম টাকা দিয়ে নির্মাণাধীন বিল্ডিং এর ফ্লাট কেনার ব্যাপারে সতর্ক থাকার অনুরোধ রইল।

সব শেষে একটা হিসেব দিয়ে যাই। সময় পেলে ভেবে দেখবেন।
একটা বিল্ডিং এ যদি ৫০ টি ফ্লাট হওয়ার কথা থাকে আর ফ্লাটপ্রতি ৭০ লক্ষ টাকা করে গ্রাহকদের কাছ থেকে নেয়া হয় তাহলে ২ বছরে ওই টাকা ব্যাংকে রেখে/ ব্যবসায় খাঁটিয়ে কত মুনাফা আসতে পারে। একটু চিন্তা করলেই বুঝবেন এদের ব্যবসাটা আসলে কোথায়।

বি:দ্র: সব ডেভলপার কোম্পানি এক নয় তবে অধিকাংশই এক।