"/> অন্তর্জাল
পানীয়
JAPAN DIARY হালাল/হারাম?
-11/11/2016





ড়োজাহাজে উঠলে আমি সাধারণত শক্ত হয়ে বসে থাকি। আমার একটু উচ্চতা ভীতি আছে!  টোকিয়ো আসার পথে ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুর এয়ার লাইন্সের জাহাজটি আকাশে ওড়ার পর থেকেই নিম্ন চাপ ‘নাডা’র প্রভাব খুব ভাল ভাবেই টের পাচ্ছিলাম, পুরো প্লেন থর থর করে কাঁপছে, ককপিট থেকে বলল, ডিই টু ব্যাড ওয়েদ্যার এমন হচ্ছে, সবাই সিট বেল্ট বেঁধে বসে থাকুন! মাঝখানের সারির মধ্যম সিটে বসা আমি, পাশে চাদর মুড়ি দিয়ে বসে থাকা ছেলেটিও কাঁপছে উড়োজাহাজটার মতই! অনেকক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে আছে সে, কিছু একটা বলবে; কিন্তু আমি তো জানি সে ভয়ে এমন করছে, তাই আর তাকাই না ওর দিকে, কারণ ভয় সংক্রামক! অনেকক্ষণ পর সব কিছু স্বাভাবিক হলে আমি ওর দিকে তাকাই, সে ফ্যাঁকাসে হেসে বলে ‘প্লেন কি চলে ভাই’! আমি হেসে বললাম ‘জী চলে না খালি দৌড়ায়!’ তারপর আমিই প্রশ্ন করলাম, ‘এবারই প্রথম? হেসে ঘাড় কাত করে বলে ‘জী’; আমার নাম মিলন যশোর থেকা আসছি। কিন্তু ভাই ‘সবাই যে এত কিছু কোল প্লেনে উঠার আগে, পেটের ভিতর নাকি খালি হয়া যায়, খুব নাকি ভয়; কই? আমি হেসে একটু নড়ে চড়ে বলি, আরে না কিসের ভয়! তখনি প্লেন খুব জোড়ে একটা ঝাঁকুনি খেলো, আমার একটা হার্ট বিট মনে হয় মিস হল! মিলন ভাইয়েরও নিশ্চয়ই! দুজনের একটু ফ্যাকাসে হাসি বিনিময় হল!  

 

একটু পর সব ঠিক হয়ে গেলে কেবিন ক্রু এসে মইন ভাইকে বললেন স্যার ল্যাম্ব অর মাশরুম, মইন ভাই হেসে তাকিয়ে থাকলেন, কিছু না বলে একটা ঢোক গিললেন। কেবিন ক্রু কি বুঝল কে জানে, তাকে দেয়া হল মাশরুমের একটা প্রিপারেশন সাথে অরেঞ্জ জুস আর সাদা পানি। অন্য সারি থেকে আরেকজন কেবিন ক্রু এসে আমার ডান পাশের জনকে জিজ্ঞেস করলেন স্যার ডু ইউ ওয়ানট ‘হালাল’? তিনি জোড়ের সাথে বললেন অফ কোর্স। তাকে দেয়া হল ল্যাম্ব উইথ বাসমতী রাইস। আমি বামে তাকিয়ে দেখি মিলন ভাই প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে, তার খাবারটার দিকে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন ভাই এখানে কিসের মাংস? আমি বললাম কিসের মাংস জানি না, কিন্তু ওনারা বলছেন যারা হালাল খেতে চায় তাদের জন্যে এটা না! তখন সে খুব আহত দৃষ্টিতে খাবার টার দিকে তাকিয়ে বলল ভাই আপনি বলে একটু বদল করে দেন না! আমি কেবিন ক্রু কে রিকোয়েস্ট করে তার খাবারটা বদলে দিলাম। সে হাউমাউ করে খেতে থাকলো। বেচারার খুব খিদে পেয়েছিল বোঝা গেলো। এরপর এপাশ থকে কেবিন ক্রু জিজ্ঞেস করলেন স্যার এনি ড্রিঙ্ক? আমার ডান পাশের জন একটু নিচু গলায় বললেন ‘হুইচকি’ আছে, কেবিন ক্রু হেসে ‘অফ কোর্স’; তাঁকে লাল পানিয় দেয়া হল। সে এক চুমুক খেয়ে মুখ চোখ বিক্রিত করে বসে থাকলো। মইন ভাইয়ের হাতের খোঁচায় এবার বামে তাকালাম, তিনি তার পানির গ্লাসটা দেখিয়ে বললেন, ‘এটা কি?’ আমি বললাম পানি। তিনি আবার বললেন ‘সাদা পানি?’ আমি বললাম জী সাদা পানি। কিন্তু আমার কথায় তিনি খুব একটা ভরসা পেলেন না মনে হয়! পানি না খেয়েই চোখ মুখ শক্ত করে বসে থাকলেন! এরপর ডানের হালাল খাদ্য গ্রহণকারীর দিকে তাকিয়ে বললাম কি ভাই খাচ্ছেন না যে! তিনি একটু লাজুক হেসে বললেন, খুব কড়া; একটু জুস লাগবে! আড়চোখে দেখলাম মইন ভাই বকের মত গলা লম্বা করে গ্লাসটার দিকে তাকিয়ে আছে!