"/> অন্তর্জাল
আমেরিকা
ওয়েলফেয়ার রেপিস্ট হিসাবে ট্রাম্পকে চাইতেছেন বিপ্লবীরা
-11/11/2016





 

মার্কিন ইলেকশন লইয়া জিজেকের একটা ভাবনা ঘুরতেছে দুনিয়ায়, ভাবনাটা শেয়ার করা লোকজনও দেখতেছি বহুত। ভাবনাটা হইলো এমন মনে হয়: ট্রাম্প খারাপ, খুবই খারাপ, কিন্তু ট্রাম্প জিতলে সব পক্ষ নিজেদের লইয়া ভাবা শুরু করবে--একদম গোড়ায় যাইয়া; ভাবতে বাধ্য হবে, সামথিং রং উইথ এভরিথিং এরাউন্ড আস, নাইলে ট্রাম্প হইতে পারে না!

আমি নাই এই দলে। পয়লা কারণ, ভাবনাটা বিচার করলে দেখবেন, এইটা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সভ্রেইন ধইরা নেয়--যেনবা যা ইচ্ছা তাই করতে পারে সে, যুদ্ধ থিকা ফরেন পলিসি তার পার্সোনাল ডিসিশন!

বাস্তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পাওয়ার ততো না। মার্কিন স্টেটের পাওয়ার ফর্মালিই ভাগাভাগি করা আছে প্রেসিডেন্ট এবং সিনেট/কংগ্রেসের মাঝে, জেনারেলদের মতকে পাত্তা দিতে হয়, স্টেটগুলিও অথরিটি হোল্ড করে সেন্টার/প্রেসিডেন্টের বিপরীতে। প্রেসিডেন্টের ইচ্ছা হয়তো ১০%-২০% এদিক-ওদিক ঘটায়, বড়জোর! ফর্মাল ভাগাভাগির বাইরেও কর্পোরেট, ইসরায়েল লবি, আরব শেখ লবি, ন্যাটোর দোস্তরা, রিজিওনাল দোস্ত (ভারত যেমন)--এইসব হিউজ ডিফরেন্স ঘটাইয়া দেয়।

তবু ১০-২০% হয়তো অনেক কিছুই ঘটাইয়া দিতে পারে; কিন্তু জিজেকদের ঐ ভাবনার ব্যাপারে আমার বড়ো আপত্তি আরেক পয়েন্টে; ভাবনাটা খুবই হার্টলেস। কেমনে?

ঢাকায় ধরেন একটা আর্থকোয়েকে ৩৫টা বিল্ডিং পইড়া ১০০০ লোক মারা গেল, আমরা শোকটোক করলাম, তারপর আগের সেই ঢাকাই কন্টিনিউ করলাম। বাট ম্যাসিভ একটা ফাউন্ডেশনাল চেঞ্জ তো আসলেই দরকার, আমি তাই চাইলাম কোয়েকটা আরো ৪ মাত্রা বেশি হৌক, ৩ লাখ বিল্ডিং পইড়া ৭০ লাখ মানুষ মরুক...! তখন একদম গোড়ায় চেঞ্জটা হইতে বাধ্য, আগের ঢাকায় আমরা আর ফেরত যাইতে পারবো না, নতুন এক ঢাকা বানাইতে হবে, গোড়া থেকে। কেমন লাগতেছে প্লানটা?

আমি এইটারে কইবো হার্টলেস উইশ/প্লান। দুনিয়ায় রেভোল্যুশনের আইডিয়া ফেরি করা লোকের মাঝে প্রায়ই এমন হার্টলেস প্লান দেখা যায়। রেভোল্যুশন চাইতেছেন তারা, মানুষ জীবন বা পেইনের দাম নাই তাগো কাছে, তারা ছদকা দিতে চাইতেছেন মানুষ! উল্টাইয়া ভাবেন এখন; মানুষের জীবন আর পেইনের যদি দামই না থাকে, এইভাবে ছদকা যদি দিতে পারেন মানুষ, তাইলে রেভোল্যুশন আদৌ কেন চাইতেছেন তারা? নিজেদের সাকসেস দেইখা মরার লোভ?

এইটার লগে ক্যাপিটালিজম বোঝাবুঝির একটা ঢঙের রিলেশন আছে; বুর্জোয়া সিস্টেমে ছুটি বা বোনাস বা কনজাম্পশন মুক্তির একটা ইল্যুশনে রাখে সর্বহারাদের--এমন একটা ভাবনা আছে; খাঁচার বাঘকে আপনে যদি রেগুলার খিদা মোতাবেক গোশত দেন তাইলে বাঘটা হয়তো ফিলই করবে না যে সে বন্দি! এইখানে চমস্কির 'ম্যানুফ্যাকচারিং কনসেন্ট' আইডিয়াটা লইয়া ভাবেন, আপনের তাইলে মনে হইতে পারে যে, গোশত পাইয়া বাঘটা যে কনসেন্ট দিতেছে খাঁচায় থাকার, এইটার কোন অর্থ নাই, এইটা ইল্যুশনের ফল।

হইতেই পারে; কিন্তু আপনের ডিসিশনটা খেয়াল করেন; আপনে বিয়িং/মানুষের কনসেন্টের দাম দিতে ভুইলা যাওয়া শুরু করছেন কিন্তু! আপনে তখন খালি বিচার করবেন, রেপটা কল্যাণমূলক কিনা, ভালোর জন্য রেপ--এমন একটা কনক্লুশনে গেছেন, রেপ ইটসেলফ কোন ইস্যু নাই আপনার বিবেচনায়! আপনে বাঘটারে গোশত দেওয়া বন্ধ কইরা দেবেন, খিদায় খাঁচা ভাইঙ্গা বাইর হবে তাইলে, খাঁচা বেশি মজবুত হইলে শহীদ হইলো বাঘটা, ইতিহাসে এমন শহীদ দরকার আপনের, ছদকা দিলেন আপনে, ঐ পেইন, জীবন বা কনসেন্ট অর্থহীন, ভবিষ্যতের শহীদী নজির, বিপ্লবের সম্ভাবনা বাড়াইবে!

ট্রাম্প যদি ঘোষিত রেসিস্ট হন, আওরাতের দুশমন হন, খৃস্টান সুপ্রিমেসিস্ট হন, আমেরিকান পিপল যদি তাতে কনসেন্ট দেন তাতে যে ইন্সট্যান্ট পেইন আর জীবন খরচ হবে সেইগুলা ছদকা দিতে চান জিজেকরা, রেভোল্যুশনের পসিবিলিটি বাড়াইতে; রেভোল্যুশন কেন চাইতেছেন তাইলে ওনারা--মানুষের জীবন আর পেইন যদি আদৌ টাচ না করে? হার্টলেস।