"/> অন্তর্জাল
হেফাজত, দেবী থেমিস. ইতিহাস
এই মূর্তিকে আমার পর মনে হয়
সৈকত সাদিক -04/12/2017





হেফাজত দাবী করছে বলে আমরা যেন সেই বিরুদ্ধতা করতে গিয়ে আমাদের নিজেদের ইতিহাসকে দেবী থেমিস দিয়ে ঢেকে না ফেলি।


ম্পূর্ণ না পড়ে দয়া করে আমাকে হেফাজতের সাথে একাকার করে ফেলবেন না বা শুধু ফলাফলের সামঞ্জস্যতা দিয়ে কারণগুলোকে এক হিসাবে পাঠ করবেন না। হেফাজত তাদের যে মতাদর্শ থেকে কোর্টের সামনে থেকে মূর্তি ভাংগার কথা বলছে সেটা মেনে নিলে এদেশের সমস্ত মূর্তি অবৈধ হয়ে যাবে। তাদের ঐ মতাদর্শে বঙ্গবন্ধু, একাত্তর, ভাষা শহিদ, এমন কি পূজাপার্বণের মূর্তিও অবৈধ হয়ে যায়। তাই তাদের এই দাবি বেশ ভয়াবহ।

তাহলে তারা কিভাবে কথা বলতে পারতো? আমি বরং একটা জায়গা থেকে এই মূর্তি সরানোর পক্ষে। আমার এই মত হেফাজতের সাথে এই কারণে সম্পৃক্ত নয় আমি মনে করছি এই থেমিসের মূর্তির সঙ্গে আমাদের ঐতিহাসিক সংস্কৃতির সাথে যোগাযোগ নেই। এই মূর্তিকে আমার পর মনে হয়। এটা রিপ্রেজেন্ট করে শাসকদের ইতিহাস, এটা বৈধতা দেয় আমাদের শোষণকে। থেমিস। থেমিস আইনের দেবী। সেই আইন কাদের পক্ষে ছিলো! সেই আইনে কাদের সুবিধার কথা বলা হয়েছে। সেই আইন কাদেরকে শোষণ করার জন্য ছিলো! তাই আইনের এই দেবী কোনদিন আমাদের নয়, তার বিচারও আমাদের মত ঔপনিবেশিত দেশগুলোর জন্য ন্যায় ছিলো না। একারণে হেফাজতের সাথে আমার দাবীকে একাকার করে দেখবেন না। ফলাফল হতো দাবী থেকে একই হতে পারে কিন্তু কারণ ভিন্ন।

রোমের আইনশাস্ত্র বা জরিস্প্রুডেন্স সারা পশ্চিমের আইনশাস্ত্রের উৎস। একারণে গ্রীক দেবীর স্থাপত্য আমাদের বিচারালয়ের মাথার উপর গেড়ে দিতে হবে এটা কিভাবে যৌক্তিক?

আইন এবং বিচারের বিষয়ে ইউরোপের এক অবদান আছে এটা আমাদের অস্বীকার করার কিছু নাই। কিন্তু এর মানে কী এই যে ইউরোপের সাথে আমাদের পরিচয় ঘটার আগে মানে আমরা বৃটিশ কলোনিতে পরিণত হবার আগে আমাদের সিভিলাইজেশনে, এই ভুখণ্ডে ন্যায়ের কোন ধারণা ছিলনা? অবশ্যই ছিল? আমাদের ভারতীয় ন্যায়শাস্ত্র আছে, আমাদের আছে নব্যন্যায়। মহাভারত বা রামায়ন আসলে মূলত ন্যায়শাস্ত্র বিষয়ক রচনা। যার উপস্থাপন নানান চরিত্রের মাধ্যমে গল্পের মতন করে। কলনীর মাস্টারেরা আমাদের সেই ইতিহাস এবং ঐতিহ্য ভুলিয়ে দিয়েছে।

আবার কোর্টের সামনের বানানো এই মূর্তি দেখে মনে হয়েছে এটা খুব নিম্নমানের একটা শিল্পকর্ম। শুধু তাই না যেন বলতে চায় ন্যায়ের ধারণার একচেটিয়াত্ব হল পশ্চিমের। এটাই হল কলোনি গোলামির পক্ষে গোলামদের অক্ষম সাফাই। এই ভুলিয়ে দেয়া প্রকল্পের শেষ পেরেক ছিল মডার্নিজমের নামে আমাদের ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের সাথে সম্পর্কহীন স্যেকুলারদের দেবী থেমিসের মূর্তি স্থাপন প্রকল্প।

আবার বলি দয়া করে এই আলাপের সাথে হেফাজতের মতাদর্শকে একাকার করে ফেলবেন না। হেফাজত দাবী করছে বলে আমরা যেন সেই বিরুদ্ধতা করতে গিয়ে আমাদের নিজেদের ইতিহাসকে দেবী থেমিস দিয়ে ঢেকে না ফেলি।
 



সৈকত সাদিক
লেখকঃ অন্তর্জাল.কম