"/> অন্তর্জাল
বাংলাদেশ
ভিভিআইপি নিয়ে মাতামাতি,নিরাপত্তার নামে মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি
-11/11/2016





 

'খন আমি প্রাইমারী স্কুলে পড়ি।একদিন টিফিন পিরিয়ডের ঠিক আগে আগে এক স্যার এসে জানালেন যে,টিফিন পিরিয়ডে নাকি কেউ বের হতে পারবে না। ক্লাসেই চুপচাপ বসে থাকতে হবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্কুলের সামনের রাস্তা দিয়ে ভিভিআইপি যাবেন। স্কুলে আসতেও পারেন তিনি।আর যদি এসে দেখেন বাচ্চারা এদিক ওদিক ছুটোছুটি করছে তাহলে স্কুলের নাকি বদনামের শেষ থাকবে না!! ক্লাস ত্যাগ করার সময় স্যার ব্লাকবোর্ড এ বড় বড় করে ইংরেজিতে লিখে গেলেন,
VVIP: Very Very Important Person। সবাইকে এটা মুখস্থও করতে বললেন।

টিফিনের জন্য ছটফট করতে থাকা সবাই ব্লাকবোর্ডের লেখা মুখস্থ করতে লাগলাম আর অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে লাগলাম কখন ভিভিআইপি স্কুলের সামনের রাস্তা দিয়ে যাবেন।

টিফিন পিরিয়ড শেষে আরও এক ঘন্টা পেড়িয়ে যায়। ভিভিআই পির দেখা নেই। ক্লান্ত আর বিষণ্ণ মনে সবাই তখন বেঞ্চের উপর মাথা রেখে ঝিমাচ্ছিলাম।

হঠাত করেই সাইরেনের শব্দে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হয়ে আসে। কোন কিছু বুঝে উঠার আগে চোখের পলকেই সামনের রাস্তা দিয়ে অনেকগুলো গাড়ি চলে যায়। ভিভিআইপির চেহারা দেখবো তো দূরের কথা উনার সাথে কয়টা গাড়ি ছিল এটাই গুনতে পারিনি! একটু পরেই সেই স্যার ক্লাসে এসে মস্ত বড় এক ভেটকানি মেরে বলেন,' উনাদের মনে হয় সময় নেই হাতে। তোমরা এখন পড়ালেখায় মনোযোগ দাও।'

আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি গতকাল থেকে চট্রগ্রাম অবস্থান করছেন। শহরে কি ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা আমার জানা নেই। তবে কর্ণফুলী নদী এবং তার আশেপাশের বিশাল এরিয়া জুড়ে কাল সকাল থেকেই লাইটার জাহাজ( অভ্যন্তরীণ রোটে চলাচলকারী ছোট জাহাজ) চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ২৪ ঘন্টার ভিতরে সেসব এলাকায় কোন লাইটার জাহাজকে নোঙর করতে নিষেধ করা হয়। যে সব লাইটার নোঙর করে ছিল তাদেরকে জোরজবরদস্তি করে বের করে দেয়া হয়।যে কারনে পণ্য নিয়ে গন্তব্যে ঠিক সময়ে যেতে পারায় আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে শত শত লাইটার জাহাজ।

একজন ভিভিআইপির নিরাপত্তা বলয় কত মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত হবে তা উনার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা লোকজনই ভালো বলতে পারবেন। তবে আকাশপথে চট্রগ্রাম আসা মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা বলয় শহর বন্দর ছাড়িয়ে নদ-নদীতেও বিস্তার লাভ করাটা মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি ছাড়া আর কিছুই নয়। নিরাপত্তার নামে এসব বাড়াবাড়ি অমানবিক আর অত্যাচারও বটে। গতকাল সব লাইটার জাহাজকে যখন নিষেধাজ্ঞা জারি করা এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছিল তখন রেডিও টেলিফোনিতে কোন এক লাইটার জাহাজের চালকের করুণ কন্ঠের কিছু কথা ভেসে আসে।চট্রগ্রাম বন্দর কন্ট্রোল এবং কোস্টগার্ডকে উদ্দেশ্য করে বলা কথাগুলো সবলের অত্যাচারে দুর্বল অত্যাচারিতের দীর্ঘশ্বাস ছাড়া কিছুই নয়। অসহায় কন্ঠে বলছিলেন,' ভিভি আই পি আর আপনারাই তো শুধু এ দেশের নাগরিক।আমরা কেউ না।আমরা তো কুকুর,গরু,ছাগল। নিরীহ আর অসহায় পেয়ে যে অত্যাচার করছেন তার বিচার একদিন আল্লাহ করবে।'


আফসোসের বিষয় হচ্ছে,অনেক সময় ভিভিআইপি নিজেও জানেন না তাকে নিরাপত্তা আর সম্মান দেয়ার নাম করে কি মাত্রাতিরিক্ত রকমের বাড়াবাড়ি করা হয়। যদি জানতেনই তাহলে আমাদের সহজ সরল রাষ্ট্রপতি যিনি কি না নিজের এলাকায় লুঙি পরে রিক্সা দিয়ে ঘুরতেও দ্বিধা করেন না তিনি কখনই এরকম বাড়াবাড়ি রকমের নিরাপত্তা চাইতেন না,কখনই চাইতেন না।'