"/> অন্তর্জাল
প্রেম, বিয়ে, ধর্ষণ, পুরুষ, নারী
can you marry a raped woman?
ফারুক ওয়াসিফ -05/16/2017





একাত্তরের পর মহত হয়ে 'বীরাঙ্গনাদের' বিয়ে করতে বলা হয়েছিল। যেন বিয়েই সমাধান। কিন্তু বিবাহযোগ্যতা ছাড়াই বা কি প্রশ্নটা মীমাংসা করা যায়?


''can you marry a raped woman? not from pity, not for revolution, but for love, for what she is!''

এ প্রশ্ন ধর্ষণের শিকারকে বিয়ে করে উদ্ধারের পুরুষবাদী মহত্ত্ব চেয়ে করা হয়নি। 'what she is' বলতে ধর্ষণাক্রান্ত মেয়েটির চরিত্রের কথাও বলা হয়নি। পুরুষ ধর্ষণের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, লড়াইও করে। কিন্তু তার যে প্রেয়সীর কল্পনা সেখানে এক একগামী, সিরিয়াল মনোগামাস অথবা বহুগামী নারীও থাকতে পারে, কিন্তু ধর্ষণের শিকার নারী 'কেমন যেন' তার কাছে!

প্রগতিশীল পুরুষরা শতভাগ বলবেন, এটা কোনো অালোচনার বিষয় না। কিন্তু কী দিয়ে তা প্রমাণ হবে? সব্বাই কি বিয়ে করে প্রমাণ করবেন? না, সেটাও বলছি না,সেটা বাস্তবত সম্ভবও না এবং দরকারহীনও বটে। অাসলে ব্যক্তিগতভাবে এটা প্রমাণের সুযোগ যেমন কম, তেমনি অনেকেরই এ ব্যাপারে জানার উপায় নাই সে অাসলে কী করতো যদি জানতো তার প্রেমিকা, বউ, ক্র্যাশ, নায়িকা, দেবী, নেত্রী অন্য পুরুষের ধর্ষণের শিকার?

তাহলে? ধর্ষণে যে মেয়েটার কিছুই বদলায় না, এটা জীবনে-অাচরণে পুরুষ কীভাবে জানবে, মানবে, বুঝবে?

প্রেমের প্রসঙ্গ বাদ, কারণ সেটা লুকিয়েও করা যায়। বিয়ে, অাপন ঔরসে সন্তানের মাতৃত্ব, উত্তরাধিকার কয়েকটা লিগাল ক্ষেত্র মাত্র। এগুলো সামাজিকভাবে ম্যাটার করে। কিন্তু প্রেম তো সহানুভূতি বা দয়া মায়া থেকে অাসে না, তা অাসে সমবাসনা ও সমমর্যাদার উতস থেকে। কজন সেই সমতা জীবনে প্রতিফলিত করতে পারেন? তাত্ত্বিকভাবে অনেকেই বলবেন পারা যায়, পারা উচিত। কিন্তু জীবনে, জীবনের সব কিছুর অংশীদারিত্বে কজন পারবেন?

তা করতে না পারলেই ভিক্টিমকে বোন বানিয়ে সম্বোধন করতে হয়, তারপর লুকিয়ে-চুরিয়ে তার বিয়ে দিতে হয়, অন্য পুরুষের কাছে গছাতে হয়! কন্যা-মাতা-বোন ছাড়া অার কোনো কিছু তাকে ভাবা যায় না। তাদের সঙ্গে রক্তের সম্পর্কের প্রতীকি সম্পর্ক না বানালে কেন চলে না?

একাত্তরের পর মহত হয়ে 'বীরাঙ্গনাদের' বিয়ে করতে বলা হয়েছিল। যেন বিয়েই সমাধান। কিন্তু বিবাহযোগ্যতা ছাড়াই বা কি প্রশ্নটা মীমাংসা করা যায়? ফারজানা ববির বিষকাঁটা চলচ্চিত্রে তাহের বিয়ে করেছিল হিন্দু বীরাঙ্গনাকে। বিত্ত-প্রতিষ্ঠা ছেড়ে ভ্যানচালক হয়েছিল। তার মধ্যে কোনো জটিলতা দেখিনি। তাদের যখন জামাই-সন্তান, তখন, শেষে এসে তাহের ধীর অাত্মহত্যা বেছে নিয়েছিলেন।

কিন্তু কেউ যদি জীবন দিয়ে জানতে বুঝতে ও প্রমাণ রাখতে পারে, যে দায়টা পুরুষের, নারীর নয়, তাহলে তত্ত্বকথা ছাড়া কী দিয়ে অপরকে বুঝাবে যে, দ্যাখো, জীবন এরকম, ধর্ষণ একটা অাক্রমণ মাত্র, এর সাথে সুন্দর-অসুন্দর, সতী-অসতী, পবিত্রতা-অপিত্রতা, প্রেম-অপ্রেমের কেনো সম্পর্কই নেই।

যে দেশে কমপক্ষে অাড়াই লাখ নারী একাত্তরে ধর্ষণের শিকার হয়েছে, সে দেশে এসব প্রশ্নের সামাজিক, নৈতিক ও ধর্মীয় মীমাংসা, নারীর পক্ষে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যায়নি যে মোটেই, তা-ই অামার এ প্রশ্নটা তোলবার কারণ। কারণ, এর জবাবটা ঐতিহাসিক হতে হয়, তাত্ত্বিক শুধু হলে হয় না। তত্ত্ব, জীবনের চাইতে কখনো-সখনো সহজই।

Save

Save



ফারুক ওয়াসিফ
কবি, লেখক, সাংবাদিক।