"/> অন্তর্জাল
মহাকাশ
মহাকাশের প্রথম রাস্ট্র: আসগার্দিয়া’র নাগরিক হতে চান?
মেহবুব রেহমান খান -11/11/2016





 হাকাশের প্রথম রাষ্ট্র আসগার্দিয়া’র নাগরিক হতে চান?
 একদল বিজ্ঞানী ও আইনি বিশেষজ্ঞ আমাদেরকে “মহাকাশের প্রথম রাষ্ট্রের” সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে এই নতুন বসতির মধ্য দিয়ে পৃথিবীর নাগরিকদের জন্য শান্তি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আর এই ঠিকানা পরিবর্তন মহাকাশ প্রযুক্তির নতুন দুয়ার খুলে দেবে বলেই তাদের ধারণা।

নতুন এই মহাকাশ রষ্ট্রের নাম তারা রেখেছেন নর্স দেবতাদের নামানুসারে, “আসগার্দিয়া”। তাদের প্রস্তাবনায় এই “নতুন রাষ্ট্রটি” পরবর্তীতে জাতিসংঘের সদস্যও হয়ে উঠবে। জাতি রাষ্ট্রের যেমন নিজস্ব পতাকা আর সঙ্গীত থাকে, তেমন এই রাষ্ট্রটিরও থাকবে- যা তার নাগরিকেরাই নিজেদের ভোটাভুটির মধ্যে দিয়ে ঠিক করে নেবে।

এই পরিকল্পনার ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, “ভূখণ্ড-নির্ভর রাষ্ট্রের আইনি বিধিনিষেধ থেকে মুক্ত একটা স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রস্তাবনা” এই ‘অ্যাসগার্দিয়া’- যাকে বলা যায় সত্যিকারের ‘নো-ম্যান্স-ল্যান্ড’ ’’।

ধারণা করা হচ্ছে, প্রথমদিকে এই রাষ্ট্রটির থাকবে একটি উপগ্রহ, সামনের বছর নাগাদ যা চালু করা হবে। এর নাগরিকরা  অ্যাসগার্দিয়ার উপগ্রহটিতেও বসতি গড়ে তুলবেন।

এই পরিকল্পনার প্রধান সমন্বয়ক আশুরবেলি আমাদেরকে জানিয়েছেন, “এই মহাকাশ রাষ্ট্রের নাগরিকেরা আপাতত পৃথিবীতে তাদের নিজ নিজ রাষ্ট্রেই থাকবেন। অর্থাৎ পৃথিবীর নানা রাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ার পাশাপাশি, তারা একই সাথে আসগার্দিয়ারও নাগরিক হবেন’’।

তিনি আরো বলেন, “এর জনসংখ্যা একশো হাজার ছাড়িয়ে গেলে জাতিসংঘের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র হিসেবে  স্বীকৃতির জন্যেও আবেদন করা হবে”।

আরো জানা যায়, “পৃথিবীর যে কোনো বাসিন্দা এর নাগরিক হতে পারবে”, নাগরিক হওয়ার আবেদন পত্রটিও পাওয়া যাচ্ছে ওয়েবসাইটে। এক হাজারেরও বেশি মানুষ এর মধ্যেই আসগার্দিয়ার নাগরিকত্বের জন্যে আবেদন করেছেন।

আসগার্দিয়ার নাগরিক কেনো হতে চাইবে পৃথিবীর বাসিন্দারা, এমন প্রশ্নের জবাবে আশুরবেলি জানান, “যখনই এই নতুন রাষ্ট্রটি জাতিসংঘের সদস্য হয়ে যাবে, তখন এর নাগরিক  হতে পারা একটা দারুণ মর্যাদাপ্রাপ্তির বিষয় হয়ে উঠবে”।

রাশিয়ার একজন ব্যবসায়ী ও ন্যানোপ্রযুক্তির গবেষক, একইসাথে ভিয়েনার আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও ইউনেস্কোর মহাকাশ বিজ্ঞান কার্যনির্বাহক সমিতির প্রধান, হচ্ছেন এই আশুরবেলি।

তিনি আরো বলছেন যে, এই পরিকল্পনা মহাকাশের নানা কর্মকাণ্ডের বিধিবিধানগুলোকে নিয়ে ভিন্নতর আলোচনার সম্ভাবনাও তৈরি করছে। বর্তমানে, মহাকাশ চুক্তি অনুযায়ী যেই রাষ্ট্র মহাকাশে যাকিছু উৎক্ষেপণ করবে- তার দায়িত্ব ও দায় তাকেই নিতে হবে। কিন্তু আসগার্দিয়া পরিকল্পনাটির মতে এই চলতি নিয়ম পাল্টে নতুন রাষ্ট্রটি নিজেই বরং হয়ে উঠবে এই নির্বাহী ক্ষমতার মালিক।

আশুরবেলি জানান, “পৃথিবীর প্রতিটি রাষ্ট্র মহাকাশ বিষয়ক কর্মকাণ্ডে কেবল নিজেকেই প্রতিনিধিত্ব করবে এমনও বলা আছে বর্তমান চুক্তিতে আর এই মুহূর্তে সংখ্যায় খুব সামান্য কিছু রাষ্ট্রই এর সঙ্গে যুক্ত”।ব্যবসায়ী ও ন্যানোপ্রযুক্তি গবেষক, ভিয়েনার আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও ইউনেস্কোর মহাকাশ বিজ্ঞান কার্যনির্বাহক সমিতির প্রধান আশুরবেলি।

যুক্তরাজ্যের সান্ডারল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাকশ আইন বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টোফার নিউম্যান জানান যে, ১৯৬০ সালে করা মহাকাশ নীতিমালা গঠনের পর থেকে মহাকাশ গবেষণা ও কর্মকান্ডে ভূরাজনৈতিক অংশগ্রহণ যে বদলেছে- রাষ্ট্র হিসেবে আসগার্দিয়ার পরিকল্পনাটি তারও প্রমাণ।

তিনি আরো যুক্ত করেন যে, এটা এখনো নিশ্চিত না যে আসগার্দিয়া কী করে বর্তমান আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধের সাথে খাপ খাওয়াবে। আর এই পরিকল্পনাটির জাতিসংঘের সদস্য পদ পাওয়া থেকে শুরু করে নিজ দায়দায়িত্বের জায়গাতেও নানা বাধা পেরুনোর আছে এখনো।

নিউম্যান জানান, “এটা খুব কৌতূহলোদ্দীপক যে ঠিক কীভাবে এই পরিকল্পনাটি নিজেকে বাস্তবায়িত করে তুলবে”। “কিন্তু বর্তমান মহাকাশ চুক্তির নিরিখে অনেকগুলো আশঙ্কাজনক বাধা এখনো অতিক্রম করে যাওয়া বাকি আছে এর। যার প্রস্তাবনা তারা করছেন তা প্রচলিত মহাকাশ আইনকে আমূল যাচাইয়ের দাবি করে”।

আশুরবেলি আশা ব্যক্ত করেছেন যে আসগার্দিয়া ধীরে ধীরে একটি “মহাকাশ রাষ্ট্রের” আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাবে। তিনি মাহাকাশ রাষ্ট্র আসগার্দিয়ার কর্মকান্ড শুরু করতে পৃথিবীর অন্যান্য রাষ্ট্রের সহযোগিতা খুব জরুরি বলেও জানান।

প্রস্তাবটির সব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত না হলেও আসগার্দিয়ার উদ্যোগটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী। পরিকল্পনাকারীরা তাদের কর্মপ্রকল্পের তালিকায় প্রথমে রেখেছেন “অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পৃথিবীর মানুষকে কী করে মহাবৈশ্বিক, মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক হুমকিগুলো থেকে বাঁচানো যায় সেই চেষ্টা করা”। এই উদ্যোগের ভিতর কী করে নানা মহাকাশীয় বর্জ্য ও গ্রহাণু থেকে আমাদের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা যায় সেগুলো রয়েছে। কিন্তু এই প্রতিরক্ষার দেয়াল ঠিক কেমন হবে তা এখনো স্বচ্ছ নয়।

আসগার্দিয়ায় বসতি স্থাপনের কাজটি ঠিক এখনই শুরু না হলেও, আশুরবেলি বিশ্বাস করেন যে, মানবপ্রজাতির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অনেকটা জুড়েই থাকবে কী করে মহাকাশের অন্য কোথাও বসতি গড়া যায় তার বাস্তবায়ন। তিনি বলেন, “সুদূর ভবিষ্যতের জন্যে এই উদ্যোগের প্রথম ভিত্তিটি আমরাই স্থাপন করছি”।