"/> অন্তর্জাল
মোরা, ২৯-শে এপ্রিল, ঘূর্ণিঝড়
যে গল্প ফেইসবুকে আসে না
আহমেদ শামীম -05/30/2017





আজকে ১০ নম্বর বিপদসংকেতসম্বলিত ঝড় মোরার কথা  শুনে সেইসব শিশুগুলোর কথা মনে পড়ল। তাদের বাচ্চাকাচ্চারাই আবার আজ সেসব গল্পের জন্ম দিবে।


৯৯১ সালের ২৯-শে এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড়ের সময় আমরা ছিলাম সীতাকুণ্ডে। তখন আমার মেট্রিক পরীক্ষা চলছিল। আধা আধা-পাকা বাড়িতে ঝড়ের রাতে বাসার সবাই বাবামার রুমে জড়ো কারে বা আপারে ওঠার চৌকো-দরজা দিয়ে দেখছিলাম চালের একটা টিন বাতাসের আঘাতে একটা একটা করে পেরেক হারাচ্ছে। একসময় টিনটা পাখি হয়ে উড়ে গেল।

আকাশের দিকে একটা খোলা জানালা হল, সেই জানালা দিয়ে দেখছিলাম জ্বীন-পরী উড়ে যাবার দৃশ্য। আর মাঝে মাঝে চালের উপর বিশাল লম্বা নারকেল গাছটা ঘাড় নামিয়ে দেখছিল আমরা ঠিকঠাক আছি কিনা। একরকম বিস্ময় নিয়ে আমাদের বিপন্নতার কথা প্রায় ভুলেই যাচ্ছিলাম। হঠাত আরেকটা টিনের দুইয়েকটা পেরেক উঠে যাওয়ায় সে যেন হাত নেড়ে আমাদের সংবিৎ ফেরালো। আমরা বুঝলাম, একটা একটা করে সবগুলো টিন উড়ে যাবে এই ধাক্কায়।

পাশের লাগোয়া বাসা থেকে আঙ্কেল বললেন তাদের বাড়িতে চলে যেতে। সবাই সে আমন্ত্রণ সাড়া দেবার কথা আলোচনা করছে- সে মুহূর্তে আমি মেট্রিক পাশ করে ফেললাম। আমাদের আলনার একটা ডাণ্ডা ছিল প্রায় পাঁচ হাত। মাঝে তার কাছি (মোটা দড়ি) বেঁধে বর্শার মত ছুঁড়ে দিলাম চালে- টারজান, ব্রিং দেম ব্যাক এলাইভ ইত্যাদি সিরিজ দেখার ফল মনে হয়- কয়েকবারের চেষ্টায় একবার দুই টিনের উপর গিয়ে পড়ল- আর অমনি আমি আর আর বাপ মিলে দড়িটা টানা দিয়ে বেঁধে দিলাম ঘরের এক পিলারের সঙ্গে।
রাতটা আমার ঘরে কেটে গেল সবার, ঝড় মাথায় করে কোথাও যেতে হল না। সকালে উঠে দেখলাম কয়েকবাড়ি পরে একটা পুরনো আমগাছে আমাদের চালের টিনটা অর্ধেক গেঁথে আছে। আর এক এক করে খবর পেলাম আমরা যে ঝড়ের মধ্য দিয়ে গেছি তার ভয়াবহতার কথা- মৃত্যুর মিছিলের কথা- মানুষের যারপর নাই দুর্ভোগের কথা। শুনলাম চরাঞ্চলের কিছু প্রাইমারি পড়া পোলাপানের গল্প- যাদের বুদ্ধি আর সাহসিকতার কারণে শতশত মানুষ সাক্ষাত মৃত্যুর গ্রাস থেকে বেঁচে গিয়েছিল।

আজকে ১০ নম্বর বিপদসংকেতসম্বলিত ঝড় মোরার কথা  শুনে সেইসব শিশুগুলোর কথা মনে পড়ল। তাদের বাচ্চাকাচ্চারাই আবার আজ সেসব গল্পের জন্ম দিবে। কিন্তু সেগুলো, আগেরবারের গল্পগুলোর মত, ফেইবুকে আসবে না।

Save



আহমেদ শামীম
নিয়মিত লেখকঃ অন্তর্জাল.কম