"/> অন্তর্জাল
মঞ্চ
আলোক পরিকল্পকের পর্যক্ষেণ: চারিদিকে কত আলো!
-11/11/2016





 

লোক পরিকল্পক যেহেতু আলো নিয়ে কাজ করবেন সেহেতু বাস্তব জীবনে নিজের চারপাশের আলোগুলোর দিকে তার চোখ তুলে তাকানো অত্যন্ত জরুরি। অবশ্য একটা কথা বলে রাখা দরকার, আলোক পরিকল্পক আসলে শুধু আলো নিয়ে কাজ করবেন না ছায়াও তার অনিবার্য অনুষঙ্গ। যেখানে আলো আছে সেখানে ছায়া অবশ্যম্ভাবী। সে যাই হোক, এখন আমরা আমাদের চারপাশের আলোগুলোর দিকে একটু তাকাবো।
আমাদের চারপাশে যে সকল আলো আমরা দেখতে পাই সেগুলোকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:- ১. প্রাকৃতিক আলো। ২. প্রকৃতি ঘনিষ্ট কৃত্রিম আলো। ৩. কৃত্রিম আলো।
১. প্রাকৃতিক আলো: এটা বৈজ্ঞানিকভাবে সত্য যে প্রাকৃতিকভাবে সকল আলোর মৌলিক উৎস সূর্য। অবশ্য ব্যাপারটা আমাদের সৌরজগতের। মহাশূণ্যে অগণিত সৌরজগত আছে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন এবং প্রত্যেকটি সৌরজগতেরই এক বা একাধিক আলোর মৌলিক উৎস বা সূর্য রয়েছে। সূর্য তার উদার ও নৈর্ব্যত্তিক নিয়মে চারদিকে আলো ছড়ায়। সেই আলো বিভিন্ন বস্তুর উপর প’ড়ে প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে এসে পৌঁছায়। মহাকাশে যোজন যোজন দূরে অবস্থিত এই সূর্য নামক বস্তুটি নাকি এক জলন্ত পিণ্ড। এর নৈকট্যলাভ একেবারেই অসম্ভব। দুপুরের গণগণে সূর্য পৌরাণিক পুুরুষ ‘ইন্দ্র’রূপে যে পরিমাণ আলো আর তাপ ছড়িয়ে আমাদের হয়রান করে তোলে তাতে কথাটা বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়। অবশ্য সূর্য্য যে সবসময় পৌরষদীপ্ত গণগণে দুরন্ত আলো বিকীরণ ক’রে আমাদের বিরক্তির কারণ হয়- তা নয়। দিবস বা বর্ষ পরিক্রমার বিভিন্ন সময়ে সূর্যের আলো অপরূপ অভিব্যক্তি নিয়েও আমাদের নিকট হাজির হয়। যেমন- সকালের অরুণ রাগ কিংবা পড়ন্ত বিকেল বা সন্ধ্যার গোধূলী আলো আমাদের হৃদয়কে কাব্যময় করে তোলে। কুয়াশাভরা হিম জড়ানো শীতের দিনে সূর্যের একটুখানি রোদ আমাদের কতই না কাঙ্খিত। অথচ গরমের দিনে সকাল আর বিকেলটা যেমন তেমন দুপুরের সূর্যটা কিন্তু একেবারেই অসহ্য। আবার বৃষ্টির দিনে মেঘের সাথে সূর্যের আলো-আঁধারী খেলা দেখতে অন্যদের কেমন লাগে জানি না, আমারতো বে-শ লাগে। খেলাটা আরো জমে উঠে তখন যখন সূর্য মেঘের আড়ালে লুকিয়ে লুকিয়ে আমাদের সাথে লুকোচুরি খেলতে শুরু করে। আবার মাঝে মাঝে আকাশে মেঘ যখন ঘন হয়ে উঠে তখন সূর্যটা কোনমতে প্রকৃতিজুড়ে আবছা আলো ছড়িয়ে নিজের অস্তিত্ত্ব জানান দেয়। বৃষ্টির সময় সূর্য থাকবে না এটাই স্বাভাবিক; তবে কখনো ঘটনাক্রমে যদি এ সময় সূর্যের দেখা পাওয়া যায় তবে আপনি নিশ্চিত হতে পারেন যে শিয়াল ব্যাটা আজ বিয়ে করছে। ছোটবেলায় অন্তত এরকমই বিশ্বাস করতাম। আর দীর্ঘ বর্ষণের পর রংধনুসমেত সূর্য্যিমামার ঝলমলে আলো হৃদয়ে যে অপূর্ব দোলা লাগায় তা কিন্তু আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সকলের ক্ষেত্রেই সমান। এই হল মোটামুটি সূর্যালোকের স্বাভাবিক রকমফের। বিশেষ বিশেষ রকমফেরগুলো অগণিত, অজস্র এবং স্থান-কাল-পাত্র ভেদে ভিন্ন ভিন্ন। এগুলোর কথা যদিও বলে শেষ করা যাবে না। তবুও দু’চারটি তুলে না ধরলে হয়ত আলোচনাটা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। সূর্যের গ্রহণ লাগার ব্যাপারটি আমাদের বেশ মনযোগ টানে। গ্রহণ লাগা আলোর আঁধারী আঁধারী কোমল আবেশ একদিকে যেমন রোমঞ্চকর অনুভূতি জাগায় অন্যদিকে কেমন জানি একটু ভীতি ভীতি শিহরণও জাগায়। সূর্যের আলো প্রকৃতিতে বিভিন্ন বস্তুর উপর প’ড়ে বিভিন্ন ধরনের দৃশ্য তৈরী করে। যেমন- ঢেউ তোলা পানির উপর দুপুরের সূর্য চকচকে রূপালী ইলিশের পিঠের মত খেলা করে। সকালে কিংবা সন্ধ্যায় এই খেলার রঙ কেমন হতে পারে সেটা আপনি নিজেই কল্পনা করে দেখুন না! মরুভূমির মরিচিকা দেখার সৌভাগ্য এখনো আমার হয়নি তবে পিচঢালা রাজপথে দূর থেকে দেখা দুপুরের সূর্যালোক টলটলে জলময় যে বিভ্রান্তি তৈরী করে, অনেকে বলেন মরীচিকা নাকি দেখতে এমনই। ছোটবেলায় যখন মক্তবে পড়তে যেতাম তখন মক্তব ঘরের পুরনো টিনের ফুটো দিয়ে যে সূর্যালোক এসে মৌলভী সাহেবের সামনে রাখা পবিত্র গ্রন্থে পতিত হত তা দেখে আমাদের মনে কি যে পবিত্রতার দোলা লেগে যেত! মক্তবের সাথীরা অনেকেই মৌলভী সাহেবের চোখ লুকিয়ে সেই আলো আসার পথে হাত রেখে নিজের হাতের রক্তিম সৌন্দর্য দেখে উল্লসিত হত। কোনো কোনো পরিবারের অতি আদুরে মেয়ে বন্ধুরা সেই আলো বরাবর দৃশ্যমান বাতাসে ধুলিকণা দেখে কাপড় দিয়ে নিজের নাক-মুখ চেপে ধরতো। সূর্যালোক নিয়ে খেলার আরেকটা বাল্যস্মৃতি অনেকেরই হয়ত মনে আছে। খেলাটা এরকম- সূর্যালোকে দাঁড়িয়ে একজন একটি আয়না হাতে নিয়ে আয়নায় প্রতিফলিত আলো কিছুটা দূরে ছায়াঘেরা স্থানে ফেলে অন্যদেরকে সেটা ধরার জন্য উদ্ভুদ্ধ করত। নিশ্চিত জানতাম যে ঐ প্রতিফলিত আলোকরশ্মি অধরা, তবু সেই অধরাকে ধরার খেলায় নিরত শৈশব আনন্দ ছিল কতইনা মধুর! অধ্যায়ের শুরুতেই আমরা জেনেছি- প্রাকৃতিক আলোর প্রধান উৎস সূর্য। সূর্য তার আলো দিয়ে আমাদের সৌরজগতের সকল বস্তুকে আলোকিত করে। চাঁদ এই আলোর অন্যতম ভাগীদার। চাঁদের নিজস্ব আলো না থাকলেও সূর্যের পৌরষদীপ্ত আলো নিজ দেহে প্রতিফলিত ক’রে আমাদের কাছে যে আভাটুকু পাঠায় তা কতই না কমনীয়! ধার করা আলো আর উজ্জ্বলতার দারিদ্র হেতু চাঁদের আলোর উপস্থিতি দিনের বেলায় দৃশ্যমান হয় না। চাঁদের অবশ্য সূর্যের মত বর্ষ পরিক্রমার দরুন আলোর কোন তারতম্য ঘটে না। কিন্তু তিথি পরিবর্তন হেতু আকৃতি এবং আলোর পরিবর্তন দেখা যায়। চাঁদের আবর্তনকে ‘চান্দ্রমাস’ বলে। আবর্তনের শুরুতেই বক্র চাঁদের আকৃতি এতটাই ক্ষীণ থাকে যে এর আলোতে রাতের বেলায় কোন কিছু দেখা সম্ভব হয় না। তবে এরকম ক্ষীণ চাঁদ আলো বিচ্ছুরণে অক্ষম হলেও ঈদের চাঁদ হিসেবে অপরিমেয় আনন্দের আলো ছড়িয়ে দেয় চারিদিকে। প্রথম দিনের চাঁদ আকাশে দৃশ্যমান হওয়ার পর থেকে একপক্ষ (১৫ দিন)-কে বলে ‘শুক্লপক্ষ’। চাঁদ উঠার প্রথম দিনটিকে বলে ‘শুক্লপক্ষের প্রথমা’ বা ‘শুক্লাপ্রথমা’। পরের দিনটিকে বলে ‘শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া’ বা ‘শুক্লাদ্বিতীয়া’। এভাবে তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী ক’রে শুক্লপক্ষের দিনগুলো যতই এগিয়ে যেতে থাকে চাঁদের আকৃতি ও আলোর পরিমাণ ততই বৃদ্ধি পেতে থাকে। আরও একটি বিষয় লক্ষ্যণীয়, শুক্লপক্ষের শুরুর দিকে চাঁদ উদিত হয় পশ্চিম আকাশে এবং সন্ধ্যার পরপরই উদিত চাঁদের স্থায়িত্ব হয় খুবই স্বল্প সময়। শুক্লপক্ষ যত এগিয়ে যায় চাঁদের উদয় স্থান তত পূর্বাকাশের দিকে সরে যায় এবং চাঁদের স্থায়িত্বও বাড়তে থাকে। এভ