"/> অন্তর্জাল
আমেরিকা
পুঁজিবাদী মার্কিন রাষ্ট্রযন্ত্র যেভাবে চালাবে ট্রাম্পকে
-11/11/2016





ভেম্বরের ৮ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়ে গেল। গত কয়েকটি জাতীয় নির্বাচন প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার নির্বাচন পরবর্তি কিছু বিষয় সম্পর্কে লিখতে বসেছি। পুঁজিবাদী দেশের ডেমোক্র্যাট বলি আর রিপাব্লিকান বলি দুই দলই পুঁজির স্বার্থ দেখবে। ফলে, হিলারি বা ট্রাম্প এল তাতে পুঁজির স্বার্থের হেরফের হবে না। সেটা বলাই বাহুল্য। কিন্তু তারপরও একটা বিশাল এবং জটিল শাসন ব্যবস্থায় ছোট পরিবর্তনও অনেক বড় প্রভাব রাখতে পারে নাগরিক জীবনে- এবং এমন কি আন্তর্জাতিক পরিসরেও- চমস্কির মত অভিজ্ঞজনদের সেই অভিমত বাবদে বলা যায়- হিলারি না ট্রাম্প এই আলোচনার তবু দরকার আছে। তবে সেই আলাপে যাওয়ার আগে আমেরিকার বিশাল এবং জটিল শাসন ব্যবস্থাটা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা থাকা দরকার। নাইলে প্রভাবের পার্থক্যটা সম্যক ধরা যাবে না বলেই মনে হয়।  নির্বাচনে ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প জয় লাভ করেছে রিপাব্লিকান টিকেটে। আগামি জানুয়ারির ২০ তারিখে নতুন এই প্রেসিডেন্ট শপথ নিবেন। তার পর কী? ট্রাম্প কী সব উলটে পালটে দেবেন? যেমনটা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন? সেগুলো বাস্তবায়নের পথে কী কী মোড় পেরুতে হবে- সেসব একটু ঘেঁটে দেখা যাক। আমেরিকার সরকারের তিনটা বিভাগ- এক্সিকিউটিভ, লেজিসলেটিভ এবং জুডিশিয়ারি। এই তিনটি ব্রাঞ্চ কী ভাবে এক যোগে কাজ করে দেশ পরিচালনায় সেটা আলোচনা করা যাক। বাংলাদেশী হিসাবে প্রেসিডেন্ট ইলেকশন দেখার সুযোগ আমাদের হয়নি। বঙ্গবন্ধুর প্রেসিডেন্ট হওয়া এক রকম, আর জিয়া ও এরশাদের প্রেসিডেন্ট হওয়া আরেক রকম। তবে সেগুলোর কোনটাই ঠিক প্রেসিডেন্টশিয়াল জাতীয় নির্বাচনের স্ট্যাটাস পাবে কি না তা তর্ক সাপেক্ষ। তাছাড়া জিয়া আর এরশাদতো ক্ষমতায় গিয়ে পার্টি তৈরি করলেন। ফলে প্রেসিডেন্টশিয়াল সিস্টেমে সংসদ এবং প্রেসিডেন্টের সম্পর্ক কী রূপ তার প্রকৃত রূপ দেখা যায়নি বাংলাদেশে। এই ক্ষেত্রে আমেরিকার কথা আলাদা। এখানে সরকারের এক্সিকিউটিভ ব্রাঞ্চ প্রেসিডেন্টের হাতে। বাকি থাকে লেজিসলেটিভ এবং জুডিশিয়ারি। লেজিসলেটিভ ব্রাঞ্চ হল কংগ্রেস। কংগ্রেস আমাদের দেশের সংসদের মত, কিন্তু অনেক পার্থক্যও আছে। আমাদের সংসদে একটাই চেম্বার। আমেরিকার কংগ্রেসের চেম্বার দুইটা। একটা সিনেট যেখানে ১০০ জন সিনেটর থাকে, প্রতি স্টেইট থেকে ২ জন করে আসে। অন্যটা হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস, সেখানে রিপ্রেজেন্টেটিভ থাকে ৪৩৫ জন। স্টেইটের জনসংখ্যার বিচারে বিভিন্ন স্টেইট থেকে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যার রিপ্রেজেন্টেটিভ নিয়ে ওই ৪৩৫ জন হয়। সিনেটর এবং রিপ্রেজেন্টেটিভ উভয়েই জনগনের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়। বাংলাদেশের সংসদীয় পদ্ধতির এমপিদের মত করে ৫ বছরে এক বার সবাই জাতীয় নির্বাচনে পাশ করে আসে না। সিনেটর এবং রিপ্রেজেন্টেটিভদের মেয়াদও এক না। সিনেটরদের মেয়াদ ৬ বছর আর রিপ্রেজেন্টেটিভদের মেয়াদ ২ বছর। এরা প্রায় সবাই হয় ডেমোক্রেট, না হয় রিপাবলিকান। খুব কমই স্বতন্ত্র কিংবা অন্য কোন ছোট পার্টি থেকে আসে।  কংগ্রেস সদস্য (সিনেটর বা রিপ্রেজেন্টেটিভ) নির্বাচনের সঙ্গে প্রেসিডন্ট নির্বাচিত করার কোন সম্পর্ক নাই। বাংলাদেশের সংসদ ইলেকশনে যে পার্টির এমপি বেশি জিতে তাদের নেতা প্রধানমন্ত্রি হয়, তেমন নয়। আমেরিকার প্রেসিডন্ট আলাদাভাবে প্রতি ৪ বছর পরপর নির্বাচন জিতে আসে। অন্যদিকে প্রত্যেক জোড় বছরে শূন্যপদে সিনেট নির্বাচন হয়। প্রেসিডেন্ট ইলেকশনের সময়েও সিনেটে শূন্যপদে নির্বাচন হয়, অন্য সময়েও হয়। প্রতি সিনেট নির্বাচনে তিন ভাগের একভাগ নবনির্বাচিত সিনেটর আসে। রিপ্রেজেন্টেটিভরা প্রতি দুইবছর পরপর নির্বাচিত হয়ে আসে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই বছরের মাথায় একটি মিড-ইলেকশন হয়। সেসময় শূন্যপদে সিনেট এবং রিপ্রেজেন্টেটিভ নির্বাচন হয়।  প্রেসিডেন্ট ইলেকশন সরাসরি জনগণের ভোটে হয় না। আসলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করে ইলেক্টরাল কলেজ নামে ৫৩৮ জন ইলেক্টরের একটি বডি। এই কলেজের ম্যাজরিটি অর্থাৎ ২৭০ জন যাকে নির্বাচন করবে চূড়ান্ত বিচারে সে-ই প্রেসিডেন্ট হবে। এখন প্রশ্ন হল, সংখ্যাটা ৫৩৮ কেন? আর এই ইলেক্টদের নির্বাচন করে কে? এই সংখ্যাটা নির্ধারিত হয় কংগ্রেসের মোট সদস্য সংখ্যা ৫৩৫ জন ( ১০০ জন সিনেটর এবং ৪৩৫ জন রিপ্রেজেন্টেটিভ) আর রাজধানীর ডিসি’র তিন জন্য সদস্য  মিলে মোট ৫৩৮ জন হয়- তা থেকে। আর এই ইলেক্টররা স্টেইট বেসিসে পার্টি দ্বারা মনোনীত হয়। এবং জাতীয় নির্বাচনে একটি স্টেইটে যে প্রার্থী জেতে, সেই প্রার্থীর দলের মনোনীত ইলেক্টরেরা চূড়ান্তভাবে জাতীয়ভাবে প্রেসিডেন্টকে ইলেক্ট করার ইলেক্টর হিসাবে নির্বাচিত হয়। প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট করা ছাড়া ইলেক্টরদের আর কোন কাজ নাই।   অনেক স্টেইটের আইন হল ওই স্টেইটে পপুলার ভোটে যে জিতবে সে-ই ওই স্টেইটের সব ইলেক্টোরাল ভোট পাবে, অর্থাৎ ঐ স্টেইটের সব ইলেক্টর তাকেই ভোট দেবে। অন্য স্টেইটগুলোতে তেমন আইন না থাকলেও তা-ই ট্রাডিশন। ফলে, সাধারণত জনগণের ভোটের সাপেক্ষেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়। তবে দুই ক্ষেত্রে এর ব্যত্যয় হতে পারে, এক, কিছু ইলেক্টর যদি নিজ দলের প্রার্থীকে ভোট না দেয়। দুই, ইলেক্টর নিজ নিজ পার্টির প্রার্থীকে ভোট দিলেও জাতীয়ভাবে কাস্ট হওয়া মোট ভোটের হিসাবে যে বেশি পেয়েছে, সে প্রেসিডেন্ট হতে নাও পারে। কারণ দেখা গেল ইলেক্টোরাল ভোট সে কম পেয়েছে। এবারের ইলেকশনে তাই হয়েছে, হিলারি প্রায় দুই লাখ ভোট বেশি পেয়েও ইলেক্টোরাল ভোটের দৌড়ে হেরে গেছে।     এখন আসা যাক জুডিশিয়ারি ব্রাঞ্চের কথায়। কংগ্রেসে উত্থাপিত বিল আইনে পরিণত হতে আরো একটা স্তর পেরোতে হয়, সেটাকে সর্বোচ্চ স্তর বলা যেতে পারে- তা হল সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্ট নিশ্চিত করে যে আইনটি তৈরি হচ্ছে বা পাশ হচ্ছে তা আমেরিকান সংবিধান সম্মত কিনা। এই যে ট্রাম্প বলেছিল সে আইন করবে মুসলিম ইমিগ্র্যান্টদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। রিপাবলিকানরা সেই বিল আনলেও কংগ্রেস তা পাশ করলেও, রাষ্ট্রপতি তা পাশ করলেও সুপ্রিম কোর্টের সুযোগ আছে সেটা বাতিল করা, কারণ ওই বিলটা বিল অব রাইটেসের ১ম অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতাকে চ্যালেঞ্জ করে। সুপ্রিম কোর্টের নয় জন জাজ থাকেন। এদের মধ্যে একজন চিফ জাস্টিসের ভূমিকা পালন করেন। প্রেসিডেন্ট জাজদের মনোয়ন দেন, এবং সিনেট তা অনুমোদ করলে চুড়ান্ত নিয়োগ সম্পন্ন হয়। ফলে প্রেসিডেন্ট এবং সিনেটের ম্যাজোরিটি যদি একটি বিশেষ দলের হয়ে থাকে তাহলে ওই দলের মনোনীত  বা সমর্থক জাজের নিয়োগ সহজ হয়।  সরকারের তিনটি শাখা, এক্সিকিউটিভ ব্রাঞ্চ বা প্রশাসন, জুডিশিয়ারি ব্রাঞ্চ বা সুপ্রিম কোর্ট এবং লেজিসলেটিভ ব্রাঞ্চ বা কংগ্রেসের মধ্যে অনেক বেশি চেক এন্ড ব্যালেন্সের বা ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সুযোগ আছে এই প্রেসিডেন্সিয়াল সিস্টেমে। কিন্তু এবার, রিপাবলিকানরা এবার কংগ্রেস এবং প্রেসিডেন্সি দুই জিতেছে। ফলে, ভবিষ্যতে সুপ্রিম কৌর্টের জাজেস সিলেকশনও হবে রিপাবলিকান নমিনি থেকে। সেক্ষেত্রে গবর্মেন্টের তিনটি ব্রাঞ্চেই রিপাবলিকানদের আধিপত্য আসবে। ক্ষমতার ভারসাম্য খর্ব হবে। তবে সেখানেও কিছু আশার কথা আছে। কংগ্রেসে মন্ত্রী নেই- আছে কমিটি আর কমিটি চেয়ার- সেখানে দুই দলেরই সদস্য থাকে। তারা ভোটাভুটি কর