"/> অন্তর্জাল
ভারত
তিন-চার ঘন্টার নোটিশে কালো টাকা সব অকেজো হয়ে গেল
সৌমিত জয়দ্বীপ -11/12/2016





১.
বাংলাদেশের অনেকেই নানা কাজে ভারতে এসেছেন গত কয়েকদিনে। ফেসবুকে দেখলাম, এসে সমস্যাতেও পড়েছেন। সমস্যাটা অর্থনৈতিক। সে কারণে, আমার পরামর্শ হলো, আগামী কিছুদিন এখানে না আসাই ভালো হবে।

অনেকে বাংলাদেশ হাইকমিশনকে দোষারোপ করছেন। আমার মনে হয়, এই দোষারোপের কোন মানে হয় না।

খোদ ভারতীয় নাগরিকরাই তো সমস্যায় পড়েছেন। গত কয়েকদিন ধরেই বাজারের অবস্থা খারাপ। রাস্তাঘাট ফাঁকা। পকেটে টাকা নেই, বাজার জমবে কী করে!

তবুও, মানুষ এটা মেনে নিয়েছে। অনেকের সঙ্গেই কথা হলো এ বিষয়ে। সাময়িক কষ্ট হলেও, তারা খুবই ইতিবাচক বলছে এ উদ্যোগকে।

বলা হচ্ছে, ভারতের অর্থনৈতিক ইতিহাসে এটা একজন প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া সবচেয়ে সাহসী সিদ্ধান্তগুলোর অন্যতম। মাত্র তিন-চার ঘন্টার নোটিশে কালো টাকা সব অকেজো হয়ে গেল। সেই পুরাতন ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটগুলো কোথাও কোথাও আগুনে পুড়ছে!

উল্টো দিকে দেখুন, বাংলাদেশে কালো টাকা সাদা হয়ে যায় সরকারি সিদ্ধান্তে!

কিন্তু এটা সমস্যার সমাধান না। অনেক বড় সমস্যাকে আড়াল করার ভান মাত্র। বাজারে ২০০০ ও ৫০০ টাকা ছাড়া হয়েছে। মাত্র ও সর্বোচ্চ ২০০০ টাকা তোলার জন্য ব্যাংকে, এটিএমে মানুষের সারি। এরাই সেই মানুষ যাদের দেওয়া কোটি কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে খরচ করা হয়েছে নতুন নোট বানানোর জন্য!

এই টাকা যখন একটু ফ্লো পাবে পুঁজি বাজারে, তখনই পুরাতন ভুত আবার চেপে বসবে। কালো টাকা বানানোর মাস্টারমাইন্ড মাফিয়ারা ও মেশিনগুলো এখনও ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা আবার থিতু হবে। আবার সংকট বাড়বে। এটাই হলো পুঁজিবাদের সংকট। আপনি না মানলেও, পুঁজিবাদের বুকে বুক রাখলেও, এর ভুত আপনাকে তাড়া করবেই!

মোদি নিজেকে সাময়িকভাবে হিরো বানালেন, সন্দেহ নেই। কিন্তু পুঁজিবাদ আসলে কাউকে স্থায়ী নায়কের আসনে বসতে দেয় না। সে নিজের প্রয়োজনে নতুন নায়ক বানাবে, যে পুরাতন নায়ক ওভার-ট্র্যাম্প করবে। এটাই তার ব্যাকরণ!



২.
পুঁজিবাদের আরেকটা সংকট দেখতে পাচ্ছি। সে মানুষকে আরও রক্ষণশীল ও কট্টোর জাতীয়তাবাদীতে পরিণত করছে।

ধরুন, টাকা যখন উঠিয়ে নেওয়া হলো, দু'দিনের জন্য ব্যাংকগুলো যখন বন্ধ করা হলো, তখন মোদি কি বিদেশি পর্যটকদের বিপদের কথা ভেবেছেন? না, ভাবেননি। ভাবলে আমার ওই বাংলাদেশি ভাই-বোনদের হা-হুতাশ করতে হতো না।

আবার ধরুন, BREXIT বা TRUMP-in ঘটনা দুটি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়া কিংবা ডোনাল্ড ট্র্যাম্পের জয়, এগুলো হয়েছে অতি জাতীয়তাবাদী, রক্ষণশীলদের ভোটে। মোদির আগমনও সেভাবেই। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এগুলো খুবই গুরুত্ববহ ঘটনা।

কারণ, এরা নিজের জাতি ও দেশের স্বার্থ দেখবে। ফলে, সাম্রাজ্যবাদও মাথা চাড়া দিয়ে আরও শোষণমূলক হবে। ক্ষতি হবে বাংলাদেশের মতো ছোট দেশের।

বাংলাদেশেও রক্ষণশীলদের উত্থান ঘটছে। তবে, সেটা জাতি ও ধর্মকেন্দ্রিক। দেশকেন্দ্রিক নয়। তাই হিন্দু, আদিবাসী সাঁওতাল সংখ্যালঘুরা নিপীড়িত হচ্ছে। রাষ্ট্র ও সরকার তাতে সায় দিচ্ছে। এটা চরম খারাপ দিক।

আমিও কট্টোর বাংলাদেশপন্থার উত্থান চাই, যারা নিপীড়িত মানুষ ও সুন্দরবনকে রক্ষা করবে খাদক ও শাসকের হাত থেকে। এটা হলো জাতীয়তাবাদের আপাত সুন্দর দিক!