"/> অন্তর্জাল
টেকসই উন্নয়ন
বৈদেশিক ঋণ, ক্রেডিট রেটিং, জিডীপি,পার ক্যাপিটা এবং টেকসই উন্নয়ন
-11/13/2016





মাদের গার্মেন্টস, কৃষি এবং রপ্তানির বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে যেখানে অর্ডার কমছে (এর সাথে বৈশ্বিক কারণও রয়েছে), রেমিটেন্স ফ্লো কমছে, তার পরেও কিন্তু জিডীপি'র ডেটা বর্ধিত।

আমার কাছে মনে হচ্ছে, ২ টা কারণ, প্রথমত বহু অভ্যন্তরীণ খাত মনিটরিং এবং করের আওতায় আসার এই অভ্যন্তরীণ উৎপাদন গুলো আমাদের ইকনোমিক স্ট্যাটিস্টিক্স এ যুক্ত হচ্ছে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে এই উৎপাদনগুলো আগে ছিল না। (সরকার করের সীমানা বর্ধিত করতে কতটা মরিয়া তার একটা প্রতীকী স্ট্যান্স হচ্ছে রিক্সা ওয়ালেদের করের আওতায় আনার কথা খোদ অর্থমন্ত্রীর মুখ থেকে!) দ্বিতীয়ত, রেমিটেন্স ফ্লো কমে গেলেও বিনিয়োগ এবং ব্যবসার মন্দায় ইম্পোর্ট কিছুটা কমেছে, ফলে রেমিটেন্সের সঞ্চয় বড়েছে। অর্থাৎ এশিয়ান ক্লিয়ারিং হাউজকে কম ডলার ছাড়তে হচ্ছে।

তবে বেড়েছে ২ টা জনিস-
১। পার ক্যাপিটা ইনকাম।
কারণ ১৮ কোটি জনসংখ্যাকে এখনো সাড়ে ১৫ কোটিরও কম গুনা হয় (২০১১ আদশুমারির মিথ্যা ডেটা, তার উপর সেটা ৫ বছর পুরানো), তাই জিডিপিকে একটা ছোট ডিনোমিনেটর দিয়ে ভাগ করলে ভাগফল বড় আসে, এই জোচ্চুরি ২০৩১ এর পরবর্তি আদমশুমারি পর্যন্ত চলবে আশা করি, আর এই সময়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে পার ক্যাপিটা। এবং সেখানেও আমাদের বস্তিবাসী এবং ফ্লটিং জনতাকে হাওয়া করে দেয়া হবে কারণ উদ্দেশ্য মূলক ভাবে আমাদের গুনশুমারি গৃহ গননা ভিত্তিক।

 ২। বাৎসরিক বাজেট।

একটা চরম ফাফা একটা জিনিস হল আমাদের বাজেট এমাউন্ট, কারণ এই বাজেটের ৫০-৫৫% প্রতি বছর অবাস্তবায়িত থাকে, বছরের শুরুতে ব্যাপক রাজনৈতিক প্রকল্পে ভরা থাকে উন্নয়ন বাজেট, কিন্তু শেষ ২-৩ মাসে এসে রাজস্ব কাটছাট এবং বাস্তবায়ন মিলে একচূয়াল বাজেট ৫০% এর নিচে চলে আসে।

এপ্রিল ২০১৬ তে অর্থ বছর শেষের হাল-
""সংশোধিত বাজেট ২ লাখ ৬৪ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা * রাজস্ব লক্ষ্য কমছে ৩১ হাজার ৪৩ কোটি টাকা" , ১ম কমেন্টে লিংক।

আর অতি দুর্নিতির কারণে বাজেটের বাস্তবায়ন সক্ষমতা এমনিতেই অনেক অনেক কম, মানে একই টাকায় বহু গুণ কম কাজ হয় বাংলাদেশে।

জিডিপি এবং বাজেট আরটিকুলেশনের ফল এরকম-

"১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে ২০০৯ সালে, অর্থাৎমুক্তিযুদ্ধের ৩৮ বছরে প্রতিবছর আমাদের মাথাপিছু আয় হয়েছে ৮৪৩ ডলার।

কিন্তু পরের দুই বছরে শেয়ার মার্কেটে বাড়ি খেয়ে মধ্যবিত্তের আয়-রোজগার দেশের অল্প কিছু লোকের হাতে গিয়ে, আবাসন সেক্টর ধ্বসে, ঋণের প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেয়ে এবং তার পরে মুদ্রাস্ফীতি হ্রাসের চাপে কৃষি উৎপাদনের মূল্য হ্রাস পেয়ে, গ্রামীণ অর্থনীতি ধ্বসে পড়ার পরেও— শুধু মাত্র রেমিটেন্স এবং পোষাক শিল্পের রফতানি বৃদ্ধি দেখিয়ে সরকার, দুই বছরে আমাদের দেশের গড় মাথাপিছু আয় দেখাচ্ছে ১১৯০ ডলার। তার মানে সব চেয়ে খারাপ সময়টাতে মানুষের গড় আয়, ১১৯০-৮৪৩ = ৩৪৭ ডলার, মানে ২৬৭১৯ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে!

এর মানে বাংলাদেশের পরিবার প্রতি আয়, সরকারি হিসেবে গড়ে ৪.২ জন উপার্জনকারী হিসেব করে, এ ৪ বছরে, গড়ে প্রতি পরিবারে বৃদ্ধি পেয়েছে ১ লক্ষ ৬ হাজার টাকা।

১৯৭১ সালের পরে ৩৭ বছরে আমরা ৮৪৩ ডলারে পৌঁছিয়েছি আর সরকারি হিসেবে মাত্র ৪ বছরে সেটির ৪১% বৃদ্ধি হয়েছে।

এ রকম সীমাহীন মিথ্যা কথা এ বাজেটের পরতে পরতে লেখা আছে।
" (এই অংশটি অন্য লিখকের লিখা থেকে নেয়া)।

বিশ্বের সবচেয়ে সস্তা শ্রমের দেশে, নিজস্ব স্টীল, পাথর এবং সিমেন্ট কাঁচামাল হিসেবে থাকার পরেও রাস্তা,সড়ক, সেতু, রেল ট্র্যাক বানাতে আমাদের দেশে কিমি প্রতি বিশ্বে সবেচেয়ে বেশি খরচ হয়, তার পরেও আমাদের কোন প্রজেক্ট শেষ হচ্ছে না, শেষ হবে কি! প্রকৃত কাজই শুরু হচ্ছে না, শুধু হচ্ছে প্রজেক্ট বুকিং!

স্বাধীনতার ৪০ বছরে সরকার গুলোর ঋণ নিবার কঞ্জার্ভেটিভনেস আসলে আমাদেকে একটা খুব ভাল ক্রেডিট রেটিং দিয়েছে। তুলনামূলক সহনীয় ফরেন ডেবট হবার কারণে আমাদেরকে বিশ্ব ব্যাংক খুব কম সুদে ঋণ অফার করে, পদ্মায় সুদ ০.৫৬% ছিল সম্ভভত। এই ৩-৪ বছরে সেটা নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।

যেহেতু ৫ বছরেই মোট ফরেন ডেবট ২২ বিলিয়ন ডলয়ার থেকে ৬১ বিলিয়ন হয়ে যাচ্ছে (অথচ দেখুন ৪০ বছর পর্জন্ত আমাদের ঋণ ২২ বিলিয়ন ডলার) তাই বিশ্ব ব্যাংক এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফাইনান্সিয়াল হাউজ আগের মত কম সুদে টাকা দিতে পারবে না ক্রেডিট রেটিং এর উল্লম্ফের কারণো। অর্থাৎ এক্সটার্নাল ডেবট টু জিডিপি এর উচ্চ হারের কারণে দেশের ভবিষ্যৎ প্রকল্প গুলো অধিক খরুচে হয়ে উঠবে।


আর আরেকটা কথা হচ্ছে এই যে বর্তমানের ঋণ গুলো নেয়া হচ্ছে, এগুলো সব দ্বিপাক্ষিক মানে এতে সুদ এবং শর্ত অনেক অনেক বেশি। ভারতের ক্ষেত্রে সুদ কন্ডিশনালি বিশ্ব ব্যাংকের সুদের ২ গুণ, কিন্তু প্রকল্প ২ বছরের মধ্যে না করলে সুদ ২% এর উপরে মানে বিশ্ব ব্যাংকের সুদের প্রায় ৪ গুণ, চীনের ক্ষেত্রেও সেরকমই। রাশান চুক্তি চরম অস্পষ্ট এবং যা বাইরে বলা হয়েছে তার বহু মিথ্যা (এই সেদিনই দেখা গেল পারমাণু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা রাশিয়া করবে না, সরিয়ে নিবে না বর্জ্যা)।


 

দেশে উন্নয়ন হচ্ছে, তবে ব্যক্তি এবং দলীয় উন্নয়ন। এটা টেকসই উন্নয়ন থেকে বহু দূরে।