"/> অন্তর্জাল
সিনেমা
যে (প্রেক্ষা)গৃহে চলচ্চিত্রপ্রেমের জন্ম
-11/14/2016





ই সেই প্রেক্ষাগৃহ, আশির দশকের শৈশবে যার পর্দার জাদুতে মুগ্ধ হয়ে চলচ্চিত্রের প্রতি আমার ভালবাসা জন্ম হয়। বিএফডিসি থেকে উৎপাদিত চলচ্চিত্রগুলোই তখন আমার শিশুমনে বিস্ময় জাগাতো। পরে তো কত ধরনের চলচ্চিত্রের সঙ্গেই পরিচিত হয়েছি – পরাবাস্তব, নব্যবাস্তব আরও কত কিছু! চলচ্চিত্রের প্রতি প্রেম ক্রমশ বেড়েছে। ভালো ছবি, মন্দ ছবি, আর্ট ছবি, কমার্শিয়াল ছবি – কত তর্ক-বিতর্ক করেছি। চলচ্চিত্র নিয়ে লিখেছি, গবেষণা করেছি, ‘চলচ্চিত্র সমালোচক’ বলে পোশাকি এক খেতাবও পেয়েছি। কিন্তু এসবকিছুর পেছনে এই প্রেক্ষাগৃহের অবদান অসামান্য। এই প্রেক্ষাগৃহের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আশির দশকে এটার নাম ছিল ‘নতুন সিনেমা হল’। পরে নাম পরিবর্তন হয় ‘আলমগীর ছবিঘর’ নামে (নিশ্চিত না, জনশ্রুতি ছিল নায়ক আলমগীর এটা কিনেছিলেন)। শেষ নাম ছিল ‘রাজতিলক’। রাজশাহী শহরের অব্যবহিত পূর্বের এক জনপদের নাম কাটাখালী। এই অঞ্চলেই আমার জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং এই সিনেমা হলেই আমার প্রথম চলচ্চিত্র দেখা।

কিন্তু এই প্রেক্ষাগৃহটি এখন বন্ধ।

ব্যানার টাঙানোর ন্যাড়া কাঠামোটা অর্ধেক ভাঙ্গা, মূল প্রবেশদ্বারে কলাপসিবল গেট। টিকেট কাউন্টারটায় এখনও ‘ড্রেস সার্কেল’ ‘রিয়ার ষ্টল’, ‘ষ্টল’ লেখা। একটা চলচ্চিত্রের বড় পোস্টার কাউন্টারের সামনে সাঁটা, কলকাতার ‘খোকাবাবু’, দেব আর শুভশ্রী হাস্যোজ্জ্বল দাঁড়িয়ে। বাংলাদেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রেক্ষাগৃহে সাঁটা রয়েছে ভারতীয় বাংলা ছবির পোস্টার, নির্মম এক প্রতীকী পরিস্থিতি! ‘খোকাবাবু’ চলছে রাজশাহী শহরের ‘উপহার’ প্রেক্ষাগৃহে। তারই পোস্টার এখানে, যদি কেউ চলতি পথে এখানে তাকায়, তবে দেখবে কী উপহার আছে তার জন্য। রাজশাহীর এই একটি প্রেক্ষাগৃহই সচল আছে। বর্ণালী, স্মৃতি, কল্পনা ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। রাজতিলক অবশ্য ভাঙ্গা হয় নি, কয়েক দশকের স্মৃতির স্মারক হয়ে অসহায় দাঁড়িয়ে আছে।

প্রেক্ষাগৃহের সামনের রাস্তায় চানাচুর-ঝালমুড়ি বিক্রি করছিলেন একজন। তাকে জিজ্ঞেস করলাম, কতদিন বন্ধ? তিনি বললেন, তিন বছর। আর কিছু হয় এখানে? উত্তর পেলাম, না কিছুই হয় না।

ফিরে আসার আগে গভীর মমতায় তাকালাম প্রেক্ষাগৃহের প্রতি – জীবন নেই, জীবাশ্ম হয়ে দাঁড়িয়ে।

চলচ্চিত্র পত্রিকা ‘ম্যাজিক লণ্ঠন’-এর সম্পাদক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কাজী মামুন হায়দার রাজশাহী অঞ্চলের প্রেক্ষাগৃহ নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি জানালেন, রাজতিলকে প্রদর্শিত শেষ চলচ্চিত্রটি ছিল নোমান রবিনের ‘কমন জেন্ডার’।

১৪ নভেম্বর, ২০১৬