"/> অন্তর্জাল
কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা
ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিতদের প্রতি সচেতন হতে হবে
-11/14/2016





সারাজীবন ব্যাচেলর থাকলে নাকি ৮ বছরের আয়ু কমে যায়। অস্বাভাবিকভাবে জীবন যাপনের জন্য এমনটি হয়ে থাকে।

আবার আজীবন ধূমপান করলে আয়ু কমে ১০ বছর!

তার মানে, একজন মানুষ যদি ধূমপায়ী এবং একই সাথে ব্যাচেলর হয় তবে তার আয়ু কমবে ১৮ (১০+৮=১৮) বছর!

কথাটি হাস্যকর মনে হলেও একেবারে ফেলে দেয়ার মত নয়। তবে এই বিষয়ে যারা বিজ্ঞ তারাই ভাল বলতে পারবেন এর সত্যতা কতটুকু।

তেজষ্ক্রিয়তার প্রভাব এবং এর ব্যবস্থাপনা কৌশলের উপর অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক ট্রেনিং প্রোগ্রামে এসব কথা শুনছিলাম।

সেই সেমিনারের লিড ইন্সট্রাক্টর(আমেরিকান নিউক্লিয়ার এক্সপার্ট) বলেন - একজন এক্স-রে অপারেটরকে লাগাতারে সাত (০৭) বছরের বেশি এই কাজ করতে দেয়া উচিৎ নয়। সে নিজে চাইলেও নয়। কেননা, এই সময়ের মধ্যে তার শরীরে যথেষ্ট পরিমাণ রেডিয়েশন ঢুকে যাবে যা তাকে বিভিন্নভাবে পঙ্গু করে দিবে। এমন কি প্রজনন স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি হতে পারে।

তাই ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাদের বেশি বেশি পারিশ্রমিক দেয়ার নিয়ম রয়েছে অনেক দেশেই। বিধিবিধান প্রণয়ন করে তাদের এই অধিকার নিশ্চিত করা হয় সেসব দেশে।

শরীরে দীর্ঘদিন রেডিয়েশন প্রবেশ করলে ৭ বছরের আয়ু কমে যায়। অর্থ্যাৎ, রেডিয়েশন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে এমন একজন ধূমপায়ী যদি আজীবন ব্যাচেলর থেকে যায় তবে তার আয়ু কমার কথা ২৫ বছর (৭+৮+১০=২৫)। হিসেবটা এমনভাবে হবে কিনা নিশ্চিত না, তবে কাছাকাছি কিছু একটা তো হবেই।

এছাড়াও বিশ্বব্যাপী ঝূঁকিপূর্ণ পেশার তালিকায় রয়েছে- নির্মাণ শ্রমিক, খনি শ্রমিক, পুলিশ, সাগরের জেলে, ফায়ার ফাইটার্স, অটোমোবাইল মেকানিক্স, ট্রাক-লরি ড্রাইভার, সিটি কর্পোরেশনের রোড ক্লিনার,বএয়ারক্রাফট পাইলট, ওয়েল্ডিং মিস্ত্রিসহ আরও অনেক পেশা। তাদের পেশাভিত্তিক পারিশ্রমিক দেয়া হয় শুধুমাত্র দৃশ্যমান অর্জনের ভিত্তিতে। অথচ, অদৃশ্যে রয়ে যায় তাদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মাত্রা আর অতীতে ঘটে যাওয়া স্বাস্থ্যহানীর হিসাব। বস্তুর ক্ষেত্রে Depreciation cost হিসাব করা হলে তা মানুষের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। কিন্তু কাজের পরিবেশের কারণে যে ক্ষয় হয় তার মূল্য কে দেয়?

অথচ, বিভিন্ন কারণে অতিরিক্ত আয়ু কমে যায় কিংবা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকে উল্লিখিত বিভিন্ন পেশার মানুষ।

এ ধরণের ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত মানুষদের প্রতি সম্মান এবং সহমর্মিতা প্রদর্শন করলেও হয়তো তারা ন্যুনতম একটা অনুপ্রেরণা পায়। আসুন ততটুকু অন্তত করি।