"/> অন্তর্জাল
আমেরিকা
ক্লিনটন কন্যার বিয়ে আর নিকোলাই-এলেনা
ওমর তারেক চৌধুরী -01/22/2017





বিল আর হিলারির ক্লিনটন ফাউন্ডেশন নিয়ে নানা দুর্নীতি-কেলেঙ্কারি-কেচ্ছা ফাঁস হচ্ছে। তার "দরিদ্র" কন্যা চেলসিয়া ক্লিনটন বাবা-মায়ের "অলাভজনক" এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৩০ লাখ ডলার নিয়েছে নিজের বিয়ের খরচ হিসাবে।

নিকোলাই আর এলেনা চচেস্কু'র কথা অনেকের স্মৃতি থেকে ঝাপসা হয়ে যাবার কথা; উপযুক্ত বয়স হয়নি এমন অনেকের তাঁদের চেনারই কথা না। নিকোলাই ২০ বছর ধরে সোভিয়েট বলয়াধীন সমাজতান্ত্রিক রুমানিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। দুঃশাসন-অব্যবস্থাপনা ছিল। ছিল মানুষের ক্ষোভ। সেনাবাহিনীতে অসন্তোষ বা বিদেশী গুপ্তচরবাহিনীর অনুপ্রেবশ। এই ক্ষোভকে উসকে দিত স্নায়ুযুদ্ধকালীন পশ্চিমা প্রচারণা-চক্রান্ত। যার পেছনে ছিল আমেরিকা-ন্যাটো-ভ্যাটিকানের মতো কুশীলবরা। সোভিয়েট শিবিরের পতন/ভাঙনের সময় ১৯৮৯ সালের বড়দিনে এক ঘন্টারও কম সময়ের এক তথাকথিত বিচারে চচেস্কু দম্পতিকে ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে হত্যা করা হয়।



এই বিচারের জন্য কোনো তথ্যপ্রমাণ, সাক্ষীর প্রয়োজন হয়নি। বিচারকের টেবিলের উপর ছিল শুধু একটি পানির গ্লাস! রটিয়ে দেয়া হয় চচেস্কু দম্পতি ৪০০ মিলিয়ন থেকে এক বিলিয়ন ডলার সুইস ব্যাংকে পাচার করেছেন, দুর্নীতি করে দেশকে রসাতলে নিয়েছেন।

১৯৯০ থেকে আজ পর্যন্ত চচেস্কুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কিছু প্রমাণ হয়নি। রুমানিয়ার দরিদ্রদের অবস্থা ভালো হয়েছে কিনা অনুসন্ধানের বিষয়। এমনকি তার হত্যাকাণ্ডে জড়িত সামরিক অফিসারও আক্ষেপ করেছেন সমাজতান্ত্রিক জমানা আর আজকের অবস্থা নিয়ে। ১৪ বছরের রুমানিয়ার মেয়েদেরও এখন আন্তর্জাতিক বাজারে যৌনকর্মী হিসাবে পাওয়া যায়।

বিল ক্লিনটন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ছিলেন আট বছর। এরমধ্যে ব্যক্তিগত দুষ্কর্ম, হোয়াইট হাউজের অফিসে অধস্তন নারীকর্মীর সাথে "লিপ সার্ভিস" নামক যৌনকর্মে লিপ্ত হবার কেলেঙ্কারি তো আজও মুখরোচক সংবাদ! হালে বিল আর হিলারির ক্লিনটন ফাউন্ডেশন নিয়ে নানা দুর্নীতি-কেলেঙ্কারি-কেচ্ছা ফাঁস হচ্ছে। তার "দরিদ্র" কন্যা চেলসিয়া ক্লিনটন বাবা-মায়ের "অলাভজনক" এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৩০ লাখ ডলার নিয়েছে নিজের বিয়ের খরচ হিসাবে।

চচেস্কুর "দুর্নীতি"র কাছে আসলেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও হবু প্রেসিডেন্টের দুর্নীতি কিছুই না। এদের জন্য ফায়ারিং স্কোয়াড নেই। এরা দুনিয়ার পূজনীয় সব চরিত্র।

উদারবাদী-প্রগতিশীল-নারীবাদী আমেরিকানরা এমনই এক "অপঙ্কিল" মহিলাকে প্রেসিডেন্ট হিসাবে বরণ করে নিতেও তারা রাজি ছিলেন, কিন্তু ভোটের হিসেবে তা আর হয়ে উঠলো না । আমাদের সংবাদমাধ্যম জানুয়ারি পর্যন্ত হিলারি ক্লিনটন জ্বরে বেহঁশ ছিল বিনা প্রশ্নে। নেতৃস্থানীয় পত্রিকার বিশ্লেষকদের ভাষ্যবিবরণীতে আমরা হিলারি ক্লিনটনের ই-মেইল কেলেঙ্কারি নিয়ে এফবিআই'য়ের নতুন পর্বের কাজকর্ম যুক্তিহীন কিনা এসব বিতর্ক শুনেছিও রাত জেগে। কিন্তু উইকিলিকস তাদের ফাঁস করা ই-মেইলে মার্কিন রাজনীতির কদর্য দিক আর সেখানকার নেতাদের চরিত্র-চক্রান্ত-দুর্নীতি-নীহিহীনতাকে যেভাবে উন্মোচন করছে তা নিয়ে কোনো আলোচনা শুনতে পাব না। 



ওমর তারেক চৌধুরী
লেখক, অনুবাদক।