"/> অন্তর্জাল

বাংলাদেশ প্যারাডক্স
জিয়া হাসান -11/20/2016





ন্ডিয়ান কঞ্জিউমারেরা বছরে ২০ লক্ষ গাড়ি কেনে আর বাংলাদেশীরা কেনে ২১০০০(কমেন্টে সোর্স) শুনে অনেকে লজ্জা পেয়েছেন।

এখন আর একটা ডাটা দেই। দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা -দেশজ উৎপাদন হিসেব করলে, যার অথনিতির সাইজে আমাদের দেশের তিন ভাগের এক ভাগ এবং যার লেবার ফরসের সাইজ ৮০ লক্ষ, যেই খানে আমাদের পাঁচ কোটির উপরে সেই শ্রীলঙ্কার কঞ্জিউমাররা ৫৬০০০ গাড়ি কিনেছে ২০১৫ সালে।

তো, পাকিস্তান যার নাম শুনলে হাসি পায়- কই পাকিস্তান আর কই বাংলাদেশে -সেই পাকিস্তানীরা ২০১৫ সালে ২ লক্ষ গাড়ি কিনছে, যেই খানে আমরা কিনছি ২১, হাজার।

অবশ্য, আপনি শুনে আনন্দিত হইতে পারেন গৃহযুদ্ধে বিদ্ধস্ত রাষ্ট্র নেপাল থেকে আমরা আগায় আছি। ২০১৫ সালে ওরে কিনেছে ১৩৫৬০ টা গাড়ি। যদিও নেপালিদের থেকে আমাদের অর্থনীতি চার গুণ বড়, আমাদের মত সাইজ হইলেও নেপালের মাজা ভাঙ্গা অর্থনীতি এভারেজে ৫০ হাজার গাড়ি কিনতো।

তো যাক ,হারবেনা বাংলাদেশ।

এখন আপনি বলতে পারেন, গাড়ি কেনার সাথে অর্থনীতির সম্পর্ক কি। গাড়িতো বড়লোকেরা কিনে। বড় লোকের যদি না বাড়ে, বড় লোকের যদি টাকা পয়সা টান পরে, আমার কি সমস্যা, অর্থনীতির কি সমস্যা। ভালো হইছে। বড় লোকে গাড়ি কম কিনছে।
আস্তে ভাই!
বছরে কি পরিমাণ গাড়ি কিনা হইতেছে, এইটা অর্থনীতির খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা ইন্ডিকেটার। যখন আমরা বিবিএসকে বিশ্বাস করতে পারতেছিনা, যখন আমরা জানি, এমন কি ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, আইএমএফ সবাই বিবিএসের ডাটা দিয়াই চলে, তখন আমাদেরকে অর্থনীতিকে মাপতে বিভিন্ন অল্টারনেটিভ দিক দেখতে হবে।

গাড়ি কেনা, অর্থনীতির বা জনগোষ্ঠীর একটা অংশের আপওয়ার্ড মবিলিটি বা উপরের দিকে উঠে আসার একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। গাড়ি বিক্রয়ের ডাটা দিয়ে আপনি বুঝতে পারবেন, কি পরিমাণ জনগোষ্ঠী মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ততে পা দিছে।

ভারতের জনসংখ্যার সাইজ ,আমাদের থেকে মোটামুটি ১০ গুণ বড়। কিন্ত, তারা এভারেজে আমাদের থেকে ১০০ গুণ বেশী গাড়ি কেনে। এইটার থেকে বোঝা যায়, তাদের অর্থনীতিতে এমন সব জব ক্রিয়েশান হচ্ছে, এমন সব নতুন বিজনেস হচ্ছে, চাকুরীজীবীদের প্রমোশন হচ্ছে- তখন ২০ লক্ষ মানুষ মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্তে পা দিচ্ছে; সেই খানে বাংলাদেশে এই সংখ্যাটা রয়ে যাচ্ছে ২০ হাজার- যেইটা একটা তুচ্ছ তুচ্ছ তুচ্ছ সংখ্যা

প্লাস ২০ হাজার মানে এই না, ২০ হাজারের সবারই নতুন গাড়ি। এই খানে অনেকে পুরান গাড়ি চেঞ্ঝ করছেন, অনেকে দুইটা গাড়ি কিনছে; এছাড়া এর ভিতর অনেক প্রতিষ্ঠান গাড়ি কিনেছে, সরকার গাড়ি কিনছে। সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে- গাড়ি কেনার এই ফিগারটাকে ম্যানিপুলেট করা যায় না- কারণ, এই ফিগারটা বিআরটিএ থেকে আসছে এবং এই খানে পারসেপ্সহানের কিছু নাই। তাই, এই ২১ হাজার বছরে গাড়ি কেনা অত্যন্ত দুর্বল একটা অর্থনীতিকে নির্দেশ করে। যে এখানে উচ্চ মানের চাকুরীর সুযোগ কম, নতুন অর্থনৈতিক ভাবে লাভজনক ব্যবসা একদমই সৃষ্টি হচ্ছেনা, মানে নতুন চাকুরীর সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছেনা। যেইখানে অর্থনীতিতে প্রতিবছর ২৭ লক্ষ নতুন মুখ ঢুকছে।

জনগণের মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্তে রূপান্তরের পরিমাণ বোঝার জন্যে তাই, নতুন গাড়ি বিক্রয়ের ডাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এবং শুধু ভারত নয়, ২০১৫ সালে পাকিস্তানের ২ লক্ষ শ্রীলঙ্কায় ৫৬ হাজার এবং নেপালের ১৩.৫৬ হাজার গাড়ি বিক্রয়ের তুলনায় বাংলাদেশে ২১ হাজার গাড়ি বিক্রয়ের তুলনামূলক চিত্র পরিস্কার দেখিয়ে দেয়- আমাদের অর্থনীতিকে নিয়ে আমরা যে গর্ব করি- আমরা হেন করছি, তেন করছি- সেইখানে একটা বিশাল ভাওতাবাজি আছে ।

এইটা শুধু আওয়ামী লীগের ভাওতাবাজি না, এই ভাওতাবাজি গত ২০ বছর ধরে চলছে এবং এই ভাওতাবাজির নাম দিছে ওরা বাংলাদেশ প্যারাডক্স।



জিয়া হাসান
জন্ম: ২৬ জু