"/> অন্তর্জাল
ক্যাপিটালিজম, সমাজতন্ত্র, ভেনেজুয়েলা
ভেনেজুয়েলার অভিজ্ঞতা: বাস্তবতা বিবর্জিত ক্যাপিটালিজম ও সমাজতন্ত্র দুটোই খারাপ
জিয়া হাসান -03/13/2016





সোসিয়ালিজম, ক্যাপিটালিজম কোন কিছুই অর্থনীতিতে একক, সর্ব রোগের সমাধান সলিউশান না। অর্থনীতিতে বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্র্যাক্টিকাল ডিসিশান মেকিং-এর কোন বিকল্প নাই। এই জন্যে উন্নয়নকামী দেশগুলোকে আইএমএফ-ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের কথা যেই রকম কমোডে ফেলে দিতে হয়, ঠিক তেমনি, সোসিয়ালিস্ট বা কম্যুনিস্টরা যেই সব পলিসি এডভোকেট করে, , সেইগুলো, স্টুপিডিটি টেস্টে পাশ না করলে, তাকে টয়লেট পেপারে মুড়ে বাথরুমে ফ্ল্যাশ করে দিতে হয়।


মন্তব্যটা করলাম-ভেনিজুয়েলার অবস্থা দেখে । ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্র ভেঙ্গে পড়ছে।


আমাদের দেশের পেপারগুলো আগ্রহ পাইতেছে না বলে নিউজ করছে না। কিন্তু, ভেনেজুয়েলার বিগত বছরখানেকের অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা এখন চরমে পৌছাইছে এবং তাদের থেকে শিক্ষণীয় অনেক কিছু আছে।


ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিতে এখন হাইপার ইনফ্লেশান চলছে। মানে, চাহিদার মতো পণ্যের সরবরাহ নাই।কিন্তু, সরকার টাকা ছাপায় চলতেছে। ফলে জিনিসের দাম বাড়তেছে। এই বছর, ইনফ্লেশান হচ্ছে, ৫০০%। মানে, বিগত বছরের এক কেজি আটা যদি ৫০ টাকা হয়, সেইটা এই বছর হইছে, ৫০০ টাকা। এবং আগামী বছরের ২২০০% পারসেন্ট ইনফ্লেশানের প্রেডিকশন। মানে, সেই ৫০০ টাকার আটা সামনের বছরে ১০,০০০ টাকার উপরে উঠবে।
এই বছরের তাদের অর্থনৈতিক কন্ট্রাকশন মানে নেগেটিভ গ্রোথ হবে, ৮%।


ভেনেজুয়েলার ইনফ্লেশান এমন অবস্থায় দাঁড়িয়েছে, একটা সাধারণ বাজার করতে হলে বাজারের ব্যাগে ভরে টাকা নিয়ে যেতে হয়।
বিগত বছরের ভেনেজুয়েলার মতো ছোট একটা দেশ ১০ বিলিয়ন ব্যাংক নোট ছাপিয়েছে। যেইখানে ইউএসের মতো বিশাল অর্থনীতি ছাপিয়েছে ৭.৬ বিলিয়ন নোট।
মানুষ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য, খাবার, ওষুধ , শিক্ষা উপকরণ পাইতেছে না।


গত সপ্তাহে, বিদ্যুতের জোগান দিতে না পেরে সরকার, সরকারী কর্মচারীদেরকে প্রতি সপ্তাহে দুই দিন অফিস রেখে, পাঁচ দিন ছুটি ঘোষণা করেছে।নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সংগ্রহ করতে মানুষ, তিন চার দিন ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছে। বাচ্চাদেরকে স্কুল থেকে ছুটিয়ে এনে খাবারের দোকানের লাইনে দাঁড়িয়ে রাখছে পিতা-মাতারা।
পাড়ায় পাড়ায় সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো একত্র হয়ে, মুদির দোকান লুট করছে।পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মার্ডার রেট এখন ভেনেজুয়েলায়। রাস্তা ঘাটে ছিনতাইয়ের সময়ে গ্রেনেড মারা হচ্ছে, মানুষ এখন এতো ডেস্পারেট। মাফিয়াদের হাতে ব্ল্যাক মার্কেট দিয়ে এখন রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে।সরকারের এমন অবস্থা যে, সরকারের হাতে টাকা ছাপানোর মত টাকা নাই।


ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়েছে।অথচ এমন হওয়ার কথা ছিল না। ভেনেজুয়েলা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় তেলের রিজার্ভের উপরে ভাসছে এবং যথেষ্ট পরিমাণ তেল তারা উৎপাদন করে। সৌদি আরব থেকে বেশি পরিমাণ তেল সম্পদ আছে ভেনেজুয়েলার।
আমরা সবাই, ইউএসের ইম্পেরিয়ালিজমের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্যে হুগো শাভেজের ফ্যান। কিন্ত, শ্যাভেজের মৃত্যুর মাত্র দুই বছরের মাথায় ভেনিজুয়েলার এই ভেঙ্গে পরা দেখে অনেকে বলতে পারেন, শ্যাভেজ না থাকাতে এইগুলো হইছে। কিন্ত বাস্তবতা হচ্ছে, বাস্তবতা বর্জিত পলিসি, দুর্নীতি, এক দলীয় রাষ্ট্রের স্বজনপ্রীতি ভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা এবং জবাবদিহিতার অভাবে রাষ্ট্রীয় ফান্ডের মিসম্যানেজমেন্ট, জনগণের এন্ট্রিপ্রেনারশিপকে উৎসাহিত করার বদলে সকল কিছুকে রাষ্ট্রীয়করনের কারণে, ভেনেজুয়েলার এই অবস্থা।


ভেনেজুয়েলা একটা সমাজতান্ত্রিক দেশ। তাদের রাষ্ট্র চিন্তায় দরিদ্র মানুষদের বা শ্রমিকদের স্বার্থ মাথায় রাখা হয়। কিন্ত, দরিদ্রমুখী পলিসির নাম করে সবকিছু সেন্ট্রালাইজড করে, উদ্যোক্তা-বিমুখি রাষ্ট্র গড়ে তুলে, যে স্টেপগুলো নেয়া হয়েছে, সেগুলোই ভুল নীতির কারণে ব্যাক ফায়ার করছে এবং আজকের এই অবস্থা সৃষ্টি করছে। বাস্তবতা হচ্ছে, ভেনেজুয়েলার মিনিমাজ ওয়েজ এখন এখন মাসে, ১৫ ডলার, যেই খানে পাশ্চাত্য দেশগুলোতে এক ঘন্টার মিনিমাম ওয়েজ এখন ১৫ ডলারে পৌঁছেছে।
ভেনেজুয়েলার ক্রাইসিসটা ফারমাসিটিউকাল সেক্টরের উদাহরণ দিয়ে বুঝে নেয়া যায়।ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারকাসের সরকারী হসপিটালের একজন ডাক্তার বলছেন, ’যে কোন রোগের নামই বলেন না কেন – ডেঙ্গু , ম্যালেরিয়া, পারকিন্সন্স, ডায়াবেটিস- আমরা এখন আর কোনটারই চিকিৎসা করতে সক্ষম না।’ কেন? কারণ ওষুধ নাই। সাধারণ সিরিঞ্জের পর্যন্ত সঙ্কট। ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় পথ্য না থাকার কারণে, সরকারি হাসপাতালের ডাক্তাররা অপারেশন করতে পারতেছেনা এবং কারকাসের সরকারী হাসপাতালে অপারেশনের ওয়েটিং লিস্ট ২০,০০০ পর্যন্ত গিয়ে ঠেকছে। রোগীরা অপেক্ষায় থেকে মারা যাচ্ছে। বিগত সপ্তাহেই ১০ জন মারা গ্যাছে জাস্ট ওয়েটিং লিস্টে থেকে।কয়েক দিন আগে, একটা বাচ্চা ছেলের মা – তার সন্তানের জীবন রক্ষার জন্যে কনভালশনের ওষুধ না পাওয়াতে – সোশ্যাল মিডিয়াতে তার করুন আহবান সারা দেশে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। তবুও ওষুধের অভাবে ছেলেটা মারা গ্যাছে। ডাক্তার বা ফাসিলিটির সঙ্কট না। জাস্ট ওষুধ এবং বিভিন্ন ডিজপজেবল আইটেমের সঙ্কট।
কেন ওষুধ নাই? বা কেন খাবার নাই বা কেন অন্য দ্রব্যগুলোর সঙ্কট।ভেনিজুয়েলা অধিকাংশ ওষুধ ইম্পোর্ট করে। কিছু সরকারী কোম্পানি কিছু বেসরকারি কোম্পানি। ইম্পোর্ট করতে হলে যেই ডলার লাগে, সেইটা কন্ট্রোল করে সরকার। তেলের দাম কমে যাওয়ার পরে, সরকারের যেহেতু উপার্জন সীমিত, তাই সরকার, সকল ইম্পোর্টের পারমিশন দেয় না। এই এপ্রোভালেও দুর্নীতি, এবং সময়ক্ষেপণ আছে। কারণ সঙ্কটের কারণে সবাইকে ডলারের পারমিশন দেয়া হয় না।


এবং যারা ইম্পোর্ট করে আনে, তাদের জন্যেও আবার আছে অনেক মিনিমাম প্রাইসের সীমানা। যেই দামের উপরে ওষুধ বেচা যাবে না।২০১৩ সালে প্রাইস কন্ট্রোল মেকানিজমের আয়তায় সরকার, তিন বছরের জন্যে অধিকাংশ ওষুধের দাম ফিক্স করে দিয়েছে। আপাত দৃষ্টিতে ভালো উদ্যোগ – কিন্তু, এই ফিক্সিংটা থেকেই শুরু হইছে ক্রাইসিস। এই ভালো উদ্যোগের রেজাল্ট দেখেন।এই প্রাইস সেট করে দেয়া এবং বিভিন্ন রকম উদ্যোক্তা বিমুখী পদক্ষেপের কারণে, প্রাইভেট ম্যানুফাকচারাররা উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ, সরকার যে প্রাইস দিয়েছে তাতে তার খরচ পোষায় না বা যথেষ্ট ইনসেন্টিভ থাকেনা ।তাই, এক দিকে ওষুধ ওই দামে বেচলে লাভ জনক হবে না। আবার ওষুধের চাহিদাও আছে। ফলে কি হয়েছে, ম্যানুফাকচারার ওষুধ কিছু বানিয়ে অল্প পরিমাণে বেচতাছে সরকারী দামে। আর বাকিটা বেচে দিচ্ছে ব্ল্যাক মার্কেটে, যেইটা কনট্রোল করে মাফিয়ারা। মাফিয়ারা ইচ্ছা মতো দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে, এবং সাপ্লাই নিয়ন্ত্রণ করছে। তাই, ব্ল্যাক মার্কেটে সরকারী দামের চেয়ে, ৩০ থেকে ১০০ গুণ বেশি দামে পাওয়া যাচ্ছে ওষুধ।একই ওষুধ সরকারী দামে কিনতে হলে, ৭ দিন থেকে ১০ দিন লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে এবং সেইখানে অল্প সাপ্লাই পাওয়া যাচ্ছে । ফলে, যার জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন সে ঠিকই ব্ল্যাক মার্কেট থেকে ১০০ গুণ বেশি দামে ওষুধ কিনে নিচ্ছে, বা না পেয়ে সাফার করছে।এই কাহিনী ওষুধ নিয়ে বললাম কিন্ত, সেইটা রাষ্ট্রের বাকি সব ক্ষেত্রেই। এইটা ছাড়াও লোকাল বেশ কিছু ফারমেসিউটিকাল কোম্পানিকে সরকার জাতীয়করন করে নিছে কিন্তু, এখন সেইগুলো চালাইতে পারতেছেনা। অদক্ষতা আর স্বজনপ্রীতিতে অধিকাংশ বন্ধ হয়ে গ্যাছে, বা অল্প উৎপাদন করছে বা লসে চলছে।


তো সরকার বিষয়টা কিভাবে মোকাবেলা করছে? যখন জনগণ চেতে উঠে বিক্ষোভ করছে, সরকার তখন হসপিটালের ডাক্তার অথবা ফার্মেসি কোম্পানির অথবা ওষুধের যে রিটেল চেইন আছে সেইগুলোকে দোষ দিচ্ছে। মাদুরো সরকার, ২০১৪ সালে বলছে ওষুধের দোকানের চেইনগুলো জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। এবং ধরে কিছু কিছু দোকানের মালিককে বেশি দামে বেচার জন্যে, জেলে ঢুকাইছে । যেই সব ডাক্তার ওষুধ না থাকার কমপ্লেইন করছে, তাদেরকে ইন্টারোগেট করছে।
ওষুধ না হয়, ইম্পোর্ট করতে হয়। কিন্ত, বিদ্যুতে এই অবস্থা কেন ? সরকার কেন সরকারী কর্মচারীদের পাঁচ দিন ছুটি দিয়ে দিয়েছে ? সরকার যেইখানে অঢেল তেল আছে, তাহলে কেন তারা বিদ্যুত উৎপাদন করতে পারতেছে না ?


আবার এক দলীয় জবাবদিহিতাহীন কমিউনিস্ট সরকারী দলের দুর্নীতি। কোটি কোটি ডলার খরচ করে, বিদ্যুৎকেন্দ্র করছে, কিন্তু, পারটির লোক জন টাকা মেরে দিছে, কেন্দ্র গুলো সচল হয় নাই।তেলের দাম যখন বাড়তি ছিল, ভেনিজুয়েলার ভালোই টাকা ছিল। তখন, তারা ইচ্ছা মতো প্রজেক্ট করেছে, বিলিয়ন ডলারের প্রজেক্ট। পাওয়ার প্লান্ট করছে, সেই টাকা মেরে দিছে দলের লোক। কাগজের মিল, এইটা-সেইটা বিভিন্ন প্রজেক্ট করেছে। কিন্তু, প্রোজেক্টগুলো হয়েছে সরকারী মাল দরিয়া ঢালের মতো। ঠিক মতো চালায় নাই, দলের লোকেরা লুটেপুটে খাইছে। সেইগুলো লস হয়ে বন্ধ হয়ে গ্যাছে।


ফন্ডেন ফান্ড নামে একটা ফান্ড করে, সরকারি নিয়ম বাইপাস করে, বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার তেলের টাকা খরচ করা হইছে, ভেনেজুয়ালের বন্ধু রাষ্ট্রদের বন্ড কিনতে, লেহমান ব্রাদারস সহ আর অনেক জাঙ্ক শেয়ারও কেনা হয়েছিল, এবং অনেক উচ্চাভিলাষী, কিন্তু বাস্তবতা বর্জিত প্রজেক্টে কয়েক বিলিয়ন ডলার যেইভাবে নষ্ট কড়া হইছে, সেইগুলো চিন্তা করে ভেনিজুয়েলানরা কান্না করে।তার উপরে রাষ্ট্রীয় ফান্ডের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের জবাবদিহিতা না থাকায় – রাজনীতিবিদেরা ইচ্ছে মতো খরচ করছে।শুধু তাই নয়, ভেনেজুয়ালা হলিউডের ডাইরেক্টর ভাড়া করে, মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার দিয়ে প্রোপাগান্ডা সিনেমা বানাইছে। সৈনিকদের জন্যে সুইমিং পুল বানাইছে , এফ ওয়ান রেসিংয়ে একজন ভেনেজুয়েলান ড্রাইভারের পেছনে, কয়েক শো মিলিয়ন ডলার খরচ করে রেসকার পুষছে।কিন্ত তার অর্থনৈতিক সক্ষমতা জন্মায় নাই। দেশের মধ্যে উদ্যোক্তা সংস্কৃতি গড়ে উঠে নাই। ফোকাস ছিল সব কিছু সরকারিকরণের। উদ্যকতাদেরদেরকে পলিসিগতভাবে নিরুৎসাহিত করা হইছে। দেশ চলছে তেলের টাকায়।
এগেন এই অবস্থায় বলবেন, ভেনেজুয়েলা নিয়ে তোমার এই লেখা দেখে মনে হচ্ছে, তুমি তো আসলে রাষ্ট্রের ইন্টারভেনশান বিরোধী মানুষ- নিউ লিবারেল টাইপ। ভুল, আমি খুব পরিষ্কারভাবে রাষ্ট্রের ইন্টারভেনশানে বিশ্বাস করি । কিন্ত, আমি কোন আইডিওলজিফোব না। যেইটা শুরুতেই বলছিলাম যে, কোন ইজম দিয়ে তাড়িত না হয়ে, কমন-সেন্স ভিত্তিক প্রাগমেটিজমে বিশ্বাস করি আমি। ভেনিজুয়েলা হচ্ছে, কিভাবে অতিরিক্ত রেগুলেশান অর্থনীতির গলা চেপে ধরে তার এক্সাম্পল। এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্র হচ্ছে উদাহরণ, যেইখানে সম্পূর্ণ ডিরেগুলেশানে মালিকেরা শ্রমিকদের গলা চেপে ধরে । রানা প্লাজার মত ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশে যা কিছু আইন আছে, তা মুলত প্রফিটেবল ব্যবসাগুলো থেকে সরকারী কর্মচারী এবং সরকারের লাইসেন্স এবং পারমিটের ব্যবসার জন্যে সাজানো।এইগুলো প্রকৃত ইন্টারভেনশান না। বাস্তবতা হচ্ছে, ইনিটারভেনশান খুব প্রয়োজনীয়। কিন্তু, সেই ইন্টারভেনশান শুধু প্রাইস সাপোর্ট না। সেই ইন্টারভেনশান দিতে হয়- স্ট্রাকচারে, সিস্টেমে, প্রসেসে, নলেজ ডেভেলপমেন্টে, ইঙ্কিউবেশান পিরিয়ডে। শুনলে অবাক হবেন, এই বিষয়ে আমার কাছে ইন্ডিয়ান রাষ্ট্রের পলিসিগুলোকে খুব প্রাক্টিকাল মনে হয়। ইন্ডিয়ানরা একদিকে ক্যাপিটালিস্ট, আবার আরেক দিকে ক্লোজড। অজস্র উদাহরণ আছে, যা ইডিওফবদের সীমিত জ্ঞান ধারণ করতে পারবে না। কিন্ত, জাস্ট একটা একজাম্পল দেই। ইন্ডিয়া , তার ইন্টারনেট বিজনেসে ফরেন ইনভেস্টমেন্ট এলাউ করছে। ফলে এমাজন , ইবে অনেকেই ইন্ডিয়াতে ঢুকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট করছে। ফ্লিপকারটের মতো ইন্ডিয়ান কোম্পানিতেও ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টরা ইনভেস্ট করছে। এখন সেক্টরটা যখন একটু ম্যাচুউর হইছে, ইন্ডিয়া তখন একটা আইন করে দিছে, যে, বিদেশী কোম্পানিগুলো ইনভেন্টরি রাখতে পারবে না।সিম্পল একটা ইন্টারনভেশান। কিন্তু, এই আইনের মাধ্যমে ইন্ডিয়া বড় কোম্পানিগুলোর গ্রোথ লিমিট করে দিছে এবং আমাজন বা ফ্লিপকার্টের মতো স্টোরফ্রন্টে যেই এসএমই ম্যানুফাকচারাররা মাল বেচে, তাকে ম্যনিপুলেশানের হাত থেকে রক্ষা করছে। আরেকটা অপশন ছিল, তাদেরকে ইন্ডিয়ার লুক্রেটিভ মার্কেটে ঢুকতেই না দেয়া। ইন্ডিয়া কিন্তু, সেইটা করে নাই।
আবার বাংলাদেশে দেখেন ? সরকারের কোন বিকারই নাই। দারাজ ফারাজ ঢুইকা লোকাল বিজনেস গুলো ধসায় দিচ্ছে। বাংলাদেশের কাপড় ইন্ডিয়াতে ঢুকতে দেয় না। আমরা সেইটায় আপসেট হবো , স্বাভাবিক। কিন্তু, ইন্ডিয়ার জায়গা থেকে দেখেন, ইন্ডিয়ানরা দেশপ্রেমিক। ওরা, ইন্ডিয়ান ইকনমিতে জব নষ্ট হইতে দিবে না। ওরা জানে, বাংলাদেশের কাপড় ইন্ডিয়াতে ঢুকলে ইন্ডিয়ার লোকাল মার্কেটে অনেক কোম্পানি আমাদের সাথে কম্পিটিশন করে টিকতে পারতো না। আমার হাতে এই ধরনের আর ২০ টা উদাহরন আছে, এইটাই প্লান্ড ইন্টারভেনশান।


ভেনেজুয়েলার একজাম্পল আমাদের দেশে খাটে না। আমাদের দেশ সম্পূর্ণ ডিরেগুলেটেড দেশ। সম্পূর্ণভাবে মালিকদের হাতে, ব্যবসায়ীদের হাতে, শ্রমিকদের উপরে অত্যাচারের সিস্টেম টিকিয়ে রাখে। গার্মেন্টস শিল্প বাদে দেশী এন্টারপ্রেনারদের কোন ধরনের সাপোর্টও দেয়া হয় না।কিন্তু, ভেনেজুয়েলার অভিজ্ঞতা থেকে, আমাদের শেখার আছে- ইন্টারভেনশানের প্রাগ্মেটিক ব্যালেন্সটা কত গুরুত্বপূর্ণ। নিউ লিবারেল ক্যাপিটালিজম এবং শ্যাভেজিও সোশালিজম দুইটাই খারাপ। ভালো হইলো, বাস্তবতা থেকে শিখে প্রাগ্মাটিজম করা।


কিন্ত, আমরা মাঝে মাঝে, কমিউনিস্ট সেন্ট্রালি ম্যানেজড, গণতন্ত্রহীন, এক দলীয়, গরীবমুখী সরকারের ধারণায় খুব ভাবালু হয়ে যাই। এই চিন্তাগুলোর মাঝে যেন একেবারে গা ভাসায় না দেয়, এবং তার ইমপ্যাক্টগুলো কি সেইটা মাথায় রাখার জন্যে, ভেনেজুয়েলার উদাহরণটা লিখে রাখলাম।নিজে ভুল করার থেকে, অন্যের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া ভালো।

 



জিয়া হাসান
জন্ম: ২৬ জুন।
স্যোসাল এন্ড কালচারাল এনালিস্ট,
লেখক, গীতিকার। ঢ