"/> অন্তর্জাল
সিনেমা
গৌতম ঘোষের সমস্ত রাগ যেন এক র্যাডক্লিফের ওপর
সৌমি ইসলাম -04/29/2016





১.
ঙ্খচিল’ সিনেমায় গৌতম ঘোষের সমস্ত রাগ যেন এক র্যাডক্লিফের ওপর। (সংলাপ)সীমান্তরক্ষী বাহিনী-ছেলেটিকে সীমান্তরক্ষীরা মারেনি। মেরেছে র্য্যাডক্লিফ সাহেবের এই চাপিয়ে দেওয়া ‘বর্ডার’। সিনেমায় দেশ বিভাগ শব্দটিকে সংকীর্ণ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অনুমান হয়। বৃটিশ চক্রান্ত তো আছেই, প্রতিয়মাণ হয় সিনেমায় সাম্রাজ্যবাদ, সর্বোপরি জাতিগত বিভেদ তৈরির মাধ্যমে রাজনিতীবিদদের আখের ভাবনা, তৎকালীন বুড়ো খোকাদের দায় এড়িয়ে র্যাডক্লিফের উপর দায় চাপিয়ে, নিজেদের তুলসী পাতা হওয়ার আপ্রান চেষ্টা । নির্জীব কাঁটাতারের বেড়া আর শুষ্ক ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নেওয়া র্য্যাডক্লিফ সাহেবের মুণ্ডুপাতে আর কি আসবে যাবে বলুন!


কিন্তু যত ‘ফোর্সড’ই হোক, এই এলওসিই সত্য। পরিচালক গৌতম বাকি পুরোটা ছবিতে তাই দেখাতে চাইলেন অবশ্য। রীতিমতো কাঁদুনি গেয়েই।আর তা করতে শুরুতেই হযরত ঋত্বিক ঘটককে স্মরণে নিয়ে দেশভাগের উত্তরাধিকার স্বীকারের সাথে সাথে মেলোড্রামার ডিসক্লেইমারও দিয়ে নিলেন কি? হযরত ঋত্বিকের মেলোড্রামা যেখানে সত্যের অভিঘাতকে মর্মমূলে গেঁথে দিতে মোক্ষম হাতিয়ার হয়ে ওঠে, গৌতমেরটা সেখানে স্রেফ সেন্টিমেন্টাল ‘উইপি’।


দুপারের মৈত্রী দেখাতে সম্ভবপর সবই করলেন পরিচালক। পুরো ছবিতে তাই ভাল মানুষ আর ভালমানুষীর ছড়াছড়ি। দেখতে দেখতে আবেগে বুক ভারি হয়ে আসে যেন। বাকিটুকু সারেন খুব সরল প্রত্যাশিত পথে এগুনো প্যাথোস দিয়ে। সবশেষে চূড়ান্ত সংক্রান্তি। চোখ মুছে ক্যাথারসিসের হৃষ্টতা নিয়ে ঘরে ফেরেন দর্শক।


আর মেলোড্রামার যে পশ্চিমা ফর্মুলাটা আছে; যেখানে পপুলার ফিল্মের অন্যতম উপাদান হিসেবে মেলোড্রামাকে জরুরি মানা হয়, চরিত্রগুলোর ওপর প্রত্যাশিত নৈতিকতা আরোপ করা হয়, নৈতিকতারই জয়গান-তার ওপরই-চিত্রনাট্য,ন্যারেটিভের চলন, আবেগীয় নির্মাণ ‘শঙ্খচিল’ সিনেমার মূল চেষ্টা।


সংলাপ নির্মাণে দেখা যায় – ইছামতির এপারে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা অঞ্চলের ভাষা আর উচ্চারণ কোনোটাই ঠিকঠাক আসেনি। বরং একটা বিভ্রান্তি তৈরি হয় একেক সময় একেক রকম বাচনভঙ্গিতে। সেই সঙ্গে এদেশীয় মুসলিম নাম আর প্রচলিত আরবি-ফার্সি শব্দগুলো পশ্চিমবঙ্গের ঊর্দুকরণে পাল্টে নেয়ার ‘বিখ্যাত’ প্রবণতা তো আছেই। সেকারণেই বাদল চরিত্র রূপায়নকারী প্রসেনজিৎকে তার স্ত্রী লায়লার নাম উচ্চারণ করতে শোনা যায় ‘লেয়লা’।


২.


“তেলের শিশি ভাঙলো বলে খুকুর ‘পরে রাগ করো
তোমরা যে সব বুড়ো খোকা, ভারত ভেঙে ভাগ করো
তার বেলা?”


আর সাম্প্রতিক অতীতে এই ধারাবাহিক হতাশার দৃষ্টান্ত থেকে আরেকটা কথা বলতে ইচ্ছে করে, ঠিক সময়ে অবসরে যাওয়ার বিষয়টা কিন্তু ‘বুড়ো খোকা’রা গুরুত্বের সঙ্গে ভেবে দেখতে পারেন। তা সে কি সিনেমায়,গানে, কবিতায়, রাজনিতিতে, অর্থনীতি, নগর ভাবনা সককিছুতেই কেন নয়? আমার বন্ধুদের তথা সমসাময়ীক তারুন্যের সিনেমা, গান, কবিতা, রাজনিতিতে, অর্থনীতি, নগর ভাবনা কতটা সমসাময়ীক, টেকসই, অবিনির্মীত এবং যুক্তিযুক্ত তা সময়ই বলে দেবে, প্রয়োজন শেকল ভাঙার, প্রয়োজন ভক্তি,ভালবাসা।



সৌমি ইসলাম
লেখক, স্ক্রিপ্টরাইটার ও নির্মাতা।