"/> অন্তর্জাল
সাক্ষাৎকার
পাঠকগোষ্ঠী নাই, সব বিবিধ পাঠক: জিয়া হায়দার রহমান -১ম কিস্তি
জিয়া হায়দার রহমানের সাক্ষাৎকার -08/19/2016





অ্যামেরিকান পদার্থবিদ রিচার্ড ফাইনম্যান একবার ‘কোন কিছুর নাম জানা আর কোন কিছু সম্পর্কে জানা’- এর পার্থক্য সম্পর্কে বলেছিলেন। পার্থক্যটা জিয়া হায়দারের প্রথম উপন্যাস ‘ইন দ্যা লাইট অফ য়োয়াট উই নো’- এর জন্যেও গুরুত্বপূর্ণ, যার প্রেক্ষাপট লন্ডন, ন্যুয়র্ক, ইসলামাবাদ, বাংলাদেশ ও কাবুল। জেমস টেইট ব্ল্যাক মেমরিয়াল পুরস্কারপ্রাপ্ত উপন্যাসটা নিয়ে কথা বলেছেন গুয়ের্নিকা  ম্যাগাজিনের সাথে, ইমেইল চালাচালির মাধ্যমে। দুই হাজার চৌদ্দের জুন মাসে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন জোনাথান লি। -অনুবাদ: শফিউল জয়

 

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ সাহিত্যিক জিয়া হায়দার রহমান। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইংরেজি মাধ্যমে সাহিত্যচর্চায় সাহিত্যিক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া বাংলাদেশিদের সংখ্যা হাতেগোনা গুটিকয় বাঙালিরই একজন তিনি।
জিয়া হায়দার সিলেট জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর তার পরিবারের সঙ্গে তিনি ব্রিটেনে চলে যান। সেখানে লেখকের কন্ডাক্টর বাবার সঙ্গে শৈশব কেটেছে মেরিলিবোনের এক পরিত্যক্ত বাড়িতে। দারিদ্র্য ছিল নিত্যসঙ্গী। বেশ কিছুদিন এভাবে থাকার পর ঠাঁই মেলে সরকারি কাউন্সিলের ফ্লাটে। তবে অদম্য মেধাবলে অক্সফোর্ডে বৃত্তি পেয়ে গণিতে লেখাপড়া করেন জিয়া। বর্ণবৈষম্যের কারণে শ্বেতাঙ্গদের নিগ্রহের শিকার হতে হয় তাকে বিভিন্ন সময়। জিয়া অক্সফোর্ডের বালি্লওল কলেজ, কেমব্রিজ, মিউনিখ এবং ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেন। আর ব্যক্তিজীবন ও মা-বাবার সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েনও তো ছিল সবসময়ের সঙ্গী।
পড়াশোনা শেষে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকসে বিনিয়োগ ব্যাংকার হিসেবে কাজ শুরু করেন জিয়া। পরে আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী হিসেবেও কাজ করেছেন কিছুদিন। জিয়া হায়দার রহমান তার প্রথম প্রকাশিত ‘ইন দ্য লাইট অব হোয়াট উই নো’ উপন্যাসটির জন্য সম্মানজনক পুরস্কারসহ আন্তর্জাতিক মহলে এটি প্রশংসিত হয়েছেন।

প্রশ্নঃ আপনার বইয়ে ফিন্যানশিয়াল ক্রাইসিস এবং আফগান যুদ্ধ সম্পর্কে একটা অনুসন্ধান,  তথা ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিকতার একটা মিশেল লক্ষ্য করা যায়। উপন্যাস প্রয়োজনীয় এবং সেইসাথে মনোগ্রাহীও হতে পারে। উপন্যাস জগতের ঘটনাবলী সম্পর্কে এমন কি অন্তর্দৃষ্টির সন্ধান দেয় যেটা পত্রিকার আর্টিকেল বা নন-ফিকশন দিতে পারে না?

রহমানঃ কথাসাহিত্য নিয়ে সরল কিংবা ব্যাপক কোন মন্তব্য করার একটা ঝুঁকি বরাবরই থাকে।  এমনও হতে পারে উপন্যাস আসলে জগত সম্পর্কে আমাদের বোঝাপড়া নিয়ে  বিধিবদ্ধ কোন ধারণা দেয় না, যেমনটা খবরের প্রবন্ধ পারে।  কিন্তু এটুকু বলতে পারি পত্রিকা মাধ্যমে যা পড়ি, উপন্যাস হয়তো সেই সাপেক্ষে আমাদের অবস্থানটা কিছুটা বদলে দেয়। খবরের একটা বৈশিষ্ট্য হলো তা আমাদেরকে ঘটনাবলী থেকে বিচ্ছিন্ন করে তা সম্পর্কে তথ্য দেয়। খবরের লেখাগুলো কোন ঘটনা এবং সে সম্পর্কিত প্রতিক্রিয়াগুলো একই সাথে ছাপায়। ধরা যাক, অমুক ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ওবামা অথবা কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া কী? আমাদের এসব দেখে বোঝা উচিত সবকিছু আসলে নিয়ন্ত্রণের আওতাধীন এবং যে কোন কিছুকেই প্রভাবিত করা সম্ভব।
খবরের আরেকটা প্রভাব হচ্ছে, যতো ভয়ার্তই হোক না কোন ঘটনা, অন্য কারো সাথে যা  হচ্ছে সেগুলোকে মোটামুটি একটা ধারায় ফেলে ঘেরাটোপে আবদ্ধ করা হয় যাতে হাতের মুঠোয় থাকে সবকিছু।  এটাই গেলানো হচ্ছে আমাদের,এটাই গেলানো হয়, আমাদের অভ্যস্ততার সংস্কৃতিটা এমনই। খবর সবসময়ই খুব পরিচিত একটা কাঠামো মেনে উপস্থাপিত হয়ঃ ঘটনার বর্ণনা, কিছুটা ভয় দেখানো। ব্যাস।  তারপর দেয়া হয় ঘটনার প্রতিক্রিয়া এবং পালের ক্ষমতাশীল পুরুষেরা কীভাবে সেটা মোকাবেলা করছে।

প্রশ্নঃ আমাদের অবয়ব ও মানস যেভাবে অভ্যস্ত, উপন্যাসের তো সেই বিন্যাস অনুসরণের বাধ্যবাধকতা নাই? আপনি যে কাঠামোর কথা বলছেন এই কাঠামোতে অনেক মহান উপন্যাস লেখা হয়েছে। অনেকটা আঙ্গিক ধার করে মননশীল লেখনী ক্লাসের  পরিচিত উপায়ে দাড়া করানোর মতন- অর্থাৎ একটা দৃশ্যপট, সংঘাত উপস্থাপন, একটা সমাধান এবং শেষে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একটা নিশ্চয়তার ঝলক দেয়া।

রহমানঃ একমত। ব্যাপারটা এমন না যে, খবর যা করতে পারে, উপন্যাস তা পারে না। বরং উপন্যাস যা পারে এবং খবর যা পারে না- এমন বলাই শ্রেয়। অন্যভাবে বলতে গেলে, খবর পরিবেশনের টেকনিকগুলো উপন্যাস ব্যবহার করতে পারে, এবং উপন্যাস এসব ছাড়াও নানবিধ টেকনিক ব্যবহার করে। উপন্যাস তথ্যকাহিনীর নিয়ম মানতে বাধ্য না, তা থেকে অনেক দূরে। অভিজ্ঞতার নিবেদনই উপন্যাসের বিধেয়। অবশ্যই মৌলিক কিছু নিয়ম আছে, তা অভিকর্ষ সূত্রের জীববৈচিত্র্যের উপর প্রভাবিত করার মতো সীমিত। অভিজ্ঞতার এই নিবেদন আমাদের অবস্থানটাকে বদলে দেয়- খুব বেশি না আমি নিশ্চিত, তবে খবরের কাগজের ‘অপর লোক’-কে আঁটসাঁট বাক্স বানিয়ে  তকমা দেয়ার ব্যাপারটাকে একটু ঝামেলায় ফেলে দেয়। চিন্তা করা খুব কঠিন কিছু না,  কল্পনামূলক জীবনকে প্রসারিত করলে হয়তো প্রতিবাস্তবতা নিয়ে ভাবাটা বেড়ে ওঠে। আমাদের সামনে জিনিশগুলো যেভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে তা যে কিছুটা ভিন্নও হতে পারে, ভাববার সে ক্ষমতাকে প্রসারিত করে।

এছাড়া, উপন্যাস দাঁড়ায়া থাকে ব্যক্তিগতের উপরে। ওয়াহ কথাসাহিত্যকে বলছিল ‘রূপান্তরিত অভিজ্ঞতাসমূহ’ যার সাথে নাইপল সম্পূর্ণ একমত। এ থেকে আমরা দুটা সিদ্ধান্তে আসতে পারি। যদি কোন লেখকের তির্যক বা কেন্দ্রীয় যে কোন অভিজ্ঞতা খবরের মতো কোন ঘটনায় নিয়ে যায়, তাহলে সেটা তার কথাসাহিত্যের উপাদান হতে পারে। আরেকটা হচ্ছে- খবর কখনোই ব্যক্তিগত না। বড় ম্যাগাজিনগুলো হয়তো চেষ্টা করেছে সেই বাঁধাটা পার করার, কিন্তু ফর্মের দিক থেকেএকটা সীমাবদ্ধতা থেকে গেছে। উপন্যাস তা না। টেকনিকের জায়গা বাদ দিলাম, উপন্যাসের ব্যক্তিগত গুণই পাঠকদেরকে নানা বস্তু অথবা জগতের ঘটনাবলী সাথে ভিন্ন একটা সম্পর্কে নিয়ে যায়- যেভাবেই বলা হোক না কেন। আমরা যা ভাবি তা যে নানা অপ্রয়োজনীয় শর্ত দ্বারা আবদ্ধ থাকে, নির্ভরশীলতার সেই ডোমেইনটা সহজেই অতিক্রম করতে পারে উপন্যাস। যখন জিমে যাই তখন ইলাভেটর ব্যবহার করতে পারি উপরের তলায় যাওয়ার জন্যে, কিন্তু শরীরচর্চার জন্যেই যদি যাওয়া হয়- তাহলে সিঁড়ি কেন না? উপন্যাসের ফর্ম আর গুণ আমাদের ডোমেইনকে বদলে দিতে পারে, এবং যে কোন ঘটনা নিয়ে অবস্থানকেও। এমনকি সেই ঘটনা নিয়ে যা বুঝি সেই সামগ্রিক ব্যাপারকেও। মনে হচ্ছে এরই মধ্যে আমি অনেক দূরকল্পনা করে ফেলছি। কোন প্রমাণ ছাড়া আমার দাবিগুলো উইশফুল থিংকিং ছাড়া কিছুই না।

প্রশ্নঃ আমরা যা জানি এবং যা কল্পনা করি এই দুইয়ের পার্থক্যটাই আপনার উপন্যাসের কেন্দ্রে অবস্থান করছে।  উপন্যাসের কোন এক জায়গায় একজন বলেন-  হার্ভার্ডের মটো হচ্ছে ‘ভেরিতাস’ আর ইয়েলের ‘লাক্স এত ভেরিতাস ’- আলো ও সত্য। আলো ও সত্যের মাঝখানের জায়গার কোন ব্যাপারটা আপনাকে আগ্রহী ক’রে তোলে? মানে একটা জিনিশকে আলোকিত করলেই আমরা যে সত্য জানার কাছাকাছি যেতে পারি না এটা সম্পর্কে আগ্রহ লক্ষণীয়।

রহমানঃ এই প্রশ্নের উত্তরের আলোচ্য বিষয়টা বিশাল, বলতে গেলে আমার উপন্যাসটা দাঁড়িয়ে আছে এর ওপর। এছাড়া বাকী সবকিছুই প্রতিসারিত হচ্ছে ‘তুমি কীভাবে জানো’ এই লেন্সের ভেতর দিয়ে।

মনে হচ্ছে কম কথায় শেষ করাই ভালো হবে। জগতবহির্ভূত যে বাস্তবতা, পরমাণুর গতিপ্রকৃতি  এবং আমাদের সেই সম্পর্কে ধারণা-  এই দুইয়ের মাঝখানে ধাতুর কীলককে কীভাবে প্রবেশ করানো যায় তার অনেক উপায় আছে। ওই জগতে যা হচ্ছে এবং সেই সম্পর্কে আমাদের উপলব্ধি বা ধারণা এই দুইয়ের মাঝে যা হচ্ছে সেই ব্যাপারটা আর কী! কিছু আমরা শুনে জানতে পারি, আমাদের কিছু সংবেদনশীলতা সাংস্কৃতিক, কিছু অভ্যাস আর  হোম স্যাপিয়েন হিশেবে অতীত অভিজ্ঞতার উপরে ভিত্তি করেও লাভ করি,  সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করার জন্যে। কারণ অন্য কোন উপায় তো নাই।

মানুষ তার বিশ্বাস কীভাবে তৈরি করে, কীভাবে  ঘটে ব্যাপারগুলো তা  নিয়ে আগ্রহী আমি। সব ধরণের বিশ্বাস-ই আমাদের ভেতরকার  উদ্দীপক শক্তিকে সৃষ্টি করে।  সেগুলো ছাড়া আমরা অচল, নিষ্প্রাণ- হাত ছাড়া গ্লোভের মতো।

প্রশ্নঃ যদি ভুল না হয়ে থাকি, আপনি আগে দ্যা গার্ডিয়ানে  লিখতেন। ২০০৭ সালের একটা লেখায় রিচার্ড ডকিন্স আর কিছু নাস্তিক্যবাদী ঘরানার ব্যক্তিকে নিয়ে লিখেছিলেন- ‘’বেশ কয়েকবছর আগে আমার এক ইহুদি বন্ধু মারা যায়। তার বন্ধু ও পরিবার কুয়াশাঘন এক সকালে উত্তর লন্ডনের এক কবরস্থানে একত্রিত হয়েছিল তাঁকে শেষ বিদায় দেয়ার জন্যে। আমরা যখন অপেক্ষা করছিলাম, শেষকৃত্যানুষ্ঠান পরিচালনাকারীদের একজন এসে আমাদের  একটা স্কালক্যাপ (ইহুদিদের শেষকৃত্যে পরা টুপি) দিয়ে ক্ষমা চেয়ে বললেন, আমাদের কাছে তো আর নেই। এগিয়ে গিয়ে নিলাম সেটা। বন্ধুদের একজন মজা করে বলল, একটু বেশি গরম লাগবে এটা পরে। ‘না’  ক্যাপটা মাথায় ঠিক করতে করতে উত্তর দিলাম, ‘আমি ঈশ্বরের সামনে কম নগ্ন অনুভব করবো’।’’ বিশ্বাস, যে কোন ধরণের এই বিশ্বাস কি আপনার জীবনের একটা অংশ, এবং লেখার জন্যেও?

রহমানঃ প্রেসের জন্যে কিছু লিখেছিলাম, বছর পাঁচেক আগে লেখা বন্ধ করে দিছি।  লক্ষ্য করলাম আমার মতামত পরিবর্তিত হয়, কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা প্রকাশ করার সাথে সাথেই। যাদেরকে এড়িয়ে চলি, মাঝে মাঝে তাঁদের দ্বারাও প্রভাবিত হই। যে লেখাটার কথা বলা হচ্ছে সেটা বর্তমান চিন্তাভাবনাকে সমর্থন করে।
যেসকল বিশ্বাস ধর্মপ্রচারধর্মী কিংবা কোন ব্যানারের নিচে আসে, সেসবের প্রতি কোন আগ্রহ নেই। যেসব বিশ্বাস  নিঃসঙ্গ মানুষের সহায়কের ভূমিকা পালন করে, বা যে বিশ্বাস মানুষকে একত্রীত করার উপায় কিংবা নিছক আচার- সেগুলোর প্রতি আমি সহমর্মিতা বোধ করি।  মানবতা থেকেই বিশ্বাস আসে যেটা মানুষের নিজের দুর্বলতা বা ব্যর্থতার উপলব্ধিজাত। এমন অনেক মানুষ দেখেছি, তাদের প্রতি সমর্থন আছে। তারা নিজেদের গলা উঁচু করতে অভ্যস্ত না এবং যার ফলে এই ধরণের বিশ্বাসগুলো সামগ্রিকভাবে প্রচারিত হয় না কর্তৃত্বপূর্ণ বিশ্বাসগুলোর মতন। যাদের শোনা যায় তারা সবাই উচ্চনিনাদের। প্রচলিত অর্থে বিশ্বাস বলতে যা বোঝায় তাঁর কতোখানির প্রতি কৃতজ্ঞ জানি না। আস্থার সীমানায়  ‘বিশ্বাস করি’ শব্দটা কীভাবে কাজ করে সম্পূর্ণ বুঝতে পারি না, এটা প্রচলিত ব্যাকরণে প্রত্যেকটা কৃষ্টিতে যার উপস্থিতি বর্তমান।

প্রশ্নঃ বইয়ের কোন অংশগুলো আপনার কাছে প্রথমে ধরা দিয়েছিল? মানে প্রাথমিক প্রণোদনা কিংবা খসড়া দৃশ্যের কথা উল্লেখ করলে?

রহমানঃ প্রথম দৃশ্যটা যেখানে একটা মানুষ তার পুরানো বন্ধুর  দরজার সামনে দাঁড়ায়া আছে, বন্ধুর সাথে যোগাযোগ নেই  বেশ কিছু বছর- এটাই আসছিল সবার আগে। বাকিটা খুব তাড়াতাড়ি হয়ে গেছে, এমনকী আমার লেখার আগেও। ভালো কিছু হচ্ছে তা বোঝার জন্যে ক্রম মেনে আমার লিখতে হয় না। অনেকটা ফার্নিচার তৈরির মতো করে লিখি। খুলে বললে, একটা অংশের ফর্মের ডিটেইল এবং পদ্ধতি  কেমন হবে সেটার জন্যে অনেক সময়ও নিতে পারি। ফলে শেষ দৃশ্যটা কীভাবে প্রকাশ করা হবে, বা কী ধরণের টুল ইউজ করবো বা কোন ধরণের টুল ব্যবহার করার দরকার আছে কী না আঁচ করতে পারি।  কাজ নিয়ে শুধু চিন্তা করতে ভালো লাগার কারণ ছিল বুঝতে পারতাম কিছুটা আগাচ্ছি। এটার পেছনে গণিতের ব্যাকগ্রাউন্ড কাজ করছে যেখানে বহুসময় ধরে চিন্তা করতে হয়, আবার মাঝে মাঝে কিছু প্রতীকের ব্যবহার, যেগুলো খসড়ার কাজ করে। মানসিক ধাতের মৌলিক কিছু ব্যাপার চিন্তা করার এই প্রক্রিয়াটার সাথে সম্পর্কযুক্ত ছিল।

সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী জোনাথান লি, পয়ত্রিশ বছর বয়স্ক একজন ব্রিটিশ লেখক, উপন্যাসিক। তার উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে- “মি. সাতশি?”, “জয়” এবং “হাই ডাইভ”।

একটা ব্যাপার জানিয়ে রাখা যায়, যখন বুঝতে পারলাম উপন্যাসটা অনেক বড় হতে যাচ্ছে- তখন শেষটা লিখে ফ্যালার সিদ্ধান্ত নেই। তারপর উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত কিছু দৃশ্য বিক্ষিপ্তভাবে লিখে ফেলি , কারণ সেগুলোর সুনিশ্চিত উদ্দেশ্য ছিল।

প্রশ্নঃ এভাবে আগানোর কারণ?

রহমানঃ  ভেবে দেখলাম উপন্যাসটা লিখতে দুই তিন বছর সময় লাগবে এবং এই দুই তিন বছরে যতখানি পরিবর্তিত হবো,  তাঁর ছাপটা উপন্যাসের ভিত্তিগত স্বর অথবা  চাবিতে পড়বে। এছাড়া গল্পগুলোকে নানাভাবে, নানা আমেজে বলাটাও মাথায় ছিল, তাই চাচ্ছিলাম না মূলধারাটা যাতে গায়েব হয়। নিজের ভেতর পুরো ব্যাপারটাকে আত্মস্থ করার প্রক্রিয়া ছিল একটা, ওই দৃশ্যগুলো লিখে সেই সময়ের স্বরটাকে ধরে রাখতে চাচ্ছিলাম মানসিকভাবে। আর সময়ের সাপেক্ষে অবধারিত পরিবর্তনগুলার সাথে  স্থিতিস্থাপক সংযোগ তৈরির ব্যাপারটাও ছিল। সম্প্রতি শুনতে পারলাম একজন লেখকও একই কাজ করেন, নিজের দেয়ালের সামনে মৌলিক একটা অনুচ্ছেদ লিখে রাখেন একই কারণে।

প্রশ্নঃ লেখার সময়ের এমন আরও কোন মুহূর্ত আছে যখন মনে হয়েছিল সবকিছু বদলে যাচ্ছে বা একটা পথ স্পষ্ট হয়ে উঠছে?

রহমানঃ ম্যাক্রো লেভেলে হয় নাই, তবে বহুবার ছোটোখাটো এমন পরিবর্তন হয়েছে। ‘প্রব্লেম সল্ভিং এ সবচেয়ে আনন্দ পাই, লেখালেখির কাজটা আমার কাছে  প্রব্লেম সল্ভিঙের মনোরম শ্রম মনে হয়। লেখালেখির এই আবিষ্কারের প্রতি মুহূর্ত হচ্ছে আমি কি দেখছি না আর কী দ্যাখা উচিত এটা বের করার একটা পদ্ধতি। তুচ্ছাছিতুচ্ছ অনুভব, অস্বস্তি; বারবার মনে হয় কিছু ভুলে গেছি  অথবা বাদ দিয়ে গেছি , বা যদি কিছু হত এই উদ্বেগ- এসব অমূল্য। এটাই প্রব্লেমের ভিত্তি এবং পথ তৈরি করে দেয়।