"/> অন্তর্জাল
হারানো ও খুঁজে পাওয়া
হারানো ব্যাগ অথবা হারানো ও খুঁজে পাওয়া মানুষ
শোয়াইব জিবরান -11/24/2016





ক বার চায়না হয়ে জাপান যাওয়ার পথে আমার একটা ব্যাগেজ হারায়া যায়। আমার যাত্রাপথ ছিল কুমিং- বেজিং- সাংহাই- নারিতা। বিষয়টা আমার কাছে ধরা পড়ে বেজিং এয়ারপোর্টে। কিন্তু ঠিক কোথায় ব্যাগটা হারিয়েছে এ বিষয়ে আমার আন্দাজ ছিল না। আমি বেজিং এয়ারপোর্টের ক্লেইম অফিসে ক্লেইম করতে যাই। তাঁরা জাস্ট লিখে রাখে কিন্তু পাত্তাই দেয় না। সাংহাইতে গিয়া আবার অভিযোগ করি, তাঁরা উল্টা বলে তোমার ব্যাগেজ সম্ভবত তোমার দেশের এয়ারপোর্টেই রয়া গেছে। নারিতা নেমে এয়ারপোর্টে বলার পর ওই ডিপার্টমেন্টের মেয়েটির চোখমুখ শুকায়া যায়। দেখে মনে হয়, আমার নয়, তাঁর নিজের ব্যাগেজ হারাইছে। অখনে শীতের মধ্যে তাঁকেই এক কাপড়ে টোকিওতে থাকতে হবে। সে ডিপার্টমেন্টে হৈচৈ ফেলে দেয়। এখানে সেখানে ফোন দিতে থাকে, তারমধ্যে অনেকগুলো আইএসডি কলতো নিশ্চিত। কিন্তু সুরাহা আর হয় না। শেষে বলে, আপনি ক্লেইম রেখে যান, আমরা দেখছি। আর টোকিওতে আপনি কোথায় থাকবেন ঠিকানা দিয়া যান। তাঁদের কথায় মনে হল, ব্যাগেজটি তাঁদের কারণেই যেন হারাইছে আর এখন সকল লজ্জা ও দায় তাঁদের!

সবচেয়ে মজা হয় আমার ব্যাগেজটি হারানোর পর আমার সাথের বাঙালি পণ্ডিতদের কথাবার্তায়। প্রথমত তাঁরা গবেষণা করে নিশ্চিত করেন, ব্যাগেজটি আমার দোষে হারাইছে। আমি কেন কান্ধে করে এটা এয়ারপোর্ট থেকে এয়ারপোর্টে ঘুরি নাই। আর কেন ওইটার ভিতরেই সব মালপত্তর রাখতে গেছি! আমি বিদেশ ভ্রমণের কিচ্ছু জানি না। অথচ যে বাঙালি পণ্ডিতরা এই কথাগুলান বলতেছিলেন তাঁদের অনেকের এটাই ছিল প্রথম বিদেশ ভ্রমণ। আমার কাছে অনেকগুলোর মধ্যে একটি। টোকিওতে তখন অনেক শীত। আমার কাছে জাস্ট গায়ের এক সেট কাপড় আর ল্যাপটপ। আমার বাঙালি পণ্ডিতরা আমারে নিয়া হাসাহাসি করতে থাকলেন আর আমি শীতে হিমসিম খেতে থাকলাম। সবচেয়ে মজার ঘটনা ঘটলো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের এক দুদে পণ্ডিত মদ্যপ অবস্থায় গবেষণা করে জানালেন যে, আমার আসলে ব্যাগেজই হারায় নাই।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোরের এক তরুণ নিরীহ শিক্ষক শুধু নিরিবিলি পরদিন সকালে তাঁর সব জামাকাপড় আমার জন্য নিয়ে এলেন। আমি তাঁর জামা পরে পরের তিন দিন কাটালাম। বড় বড় পণ্ডিতরা কৌতুকমুখে তাকিয়েই থাকলেন।

তিনদিন পর নারিতা এয়ারপোর্টের কর্মিরা আমার ব্যাগেজটি উদ্ধার করে যখন আমার হোটেলে পৌঁছায়া দিয়া গেলেন দুদে পণ্ডিতরা খুব হতাশ হলেন।

আমার লাভের লাভ হল আমি মানুষ ও বাঙালি পণ্ডিতদের মধ্যে প্রার্থক্য বুঝতে পারলাম।

রাষ্ট্রদূতের হাতব্যাগ হারায়া গেছিলো। এই কয়দিনে স্যোসাল মিডিয়ায় অনেক পণ্ডিতের দেখা আমরা পাইছি। কেউ স্বয়ং রাষ্ট্রদূতের বোকামি আর কেউ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের চোর ঠাউরেছেন। কিন্তু কিছু মানুষ মনে নিয়েছেন এটা তাঁদের নিজেদের দায় ও লজ্জা। তো তাঁরা নানাভাবে কাজ করছেন। ছবি চিহ্নিত করেছেন, উদ্ধার করেছেন।
মাননীয় রাষ্ট্রদূত তাঁর হারানো ব্যাগ খুঁজে পেয়েছেন আমরা পেয়েছি কিছু কাজের মানুষদের খুঁজে।

ভালবাসা বাংলাদেশের কাজের মানুষদেরে।

 



শোয়াইব জিবরান
জন্ম: ৮ এপ্রিল, ১৯৭১
কবি, লেখক
শিক্ষক, পাবলিক