"/> অন্তর্জাল

আভা, ব্রোঞ্জ যুগের তরুণী
অন্তর্জাল ডেস্ক -08/24/2016





ম্প্রতি বিজ্ঞানীরা হাজার বছর আগে অজ্ঞাত কারণে মৃত্যুবরণ করা এক তরুণীর সম্ভাব্য চেহারা প্রকাশ করেছেন।

বিজ্ঞানীদের কাছে ‘আভা’ নামে পরিচিত ব্রোঞ্জ যুগের এই তরুণী প্রায় ৩,৭০০ বছর আগে মারা যান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গবেষকদের মতে, আভা হচ্ছেন তৎকালীন সময়ের ২০-২২ বছর বয়সী একজন তরুণী যিনি সেখানকার সবচেয়ে বড় সম্প্রদায়ের এক মানুষ ছিলেন যাদের কাজ ছিল গবাদি পশু পালন এবং ফসল ফলানো।
উল্লেখ্য, এই মেয়েটিকে কঠিন শিলার মধ্যে গর্ত খুঁড়ে সমাহিত করা হয়েছিল। এর থেকে অনুমান করা যায় মেয়েটিকে ইচ্ছাকৃত ভাবে সেখানে কবর দেয়া হয়েছিল।
মুখ পুনগঠনের প্রযুক্তি এবং ১৯৮৭ সালে স্কটল্যান্ডের কেইথনেস থেকে আবিষ্কৃত খুলির ওপর গবেষণা করে মেয়েটির মুখের গঠন এবং গায়ের রঙ তৈরি করা হয়েছে।
অ্যাকাভানিক সংক্ষেপে ‘আভা’ হচ্ছে প্রত্নতত্ত্ববিদ মায়া হোলের ‘অ্যাকাভানিক বিকার ব্যারিয়াল প্রজেক্ট’ – এর একটি অংশ।
গবেষণা চলাকালীন সময়ে হোলে এবং তার সহযোগীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে আভা এক সময় বিকার গ্রুপ নামে পরিচিত ইউরোপিয়ন গ্রুপের সদস্য ছিলেন।
বিকার হচ্ছে ২২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের আগের এক মানবগোষ্ঠী যারা ইংল্যান্ডের উইল্টশায়ারের অ্যামাসবারির নিকটে অবস্থিত  ব্রোঞ্জ যুগের একটি স্তম্ভ যা মানমন্দির হিসেবে ব্যবহৃত হতো সেই স্টোনহেঞ্জের গড়াপেটার সাথে জড়িত ছিলেন।
প্রত্নতত্ত্ববিদরা তাদের এই নাম দিয়েছেন কারণ তাদের পানি খাওয়ার জন্য একধরণের হালকা রঙের জ্যামিতিক আকারের পাত্র ছিল যা এর আগেও অনেক কবরে পাওয়া গিয়েছে। এই প্রাচীন মানুষগুলো তাদের ছোট এবং গোলকাকৃতির অস্বাভাবিক আকারের মাথার জন্য পরিচিত ছিল যেমনটা আভার খুলিতেও পাওয়া গিয়েছে।
ধারণা করা হয় বিকাররা ২৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের এর সময়ে উত্তর সাগর পাড়ি দিয়ে ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে এবং এর পরই ধাতুর যুগ ও কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশ ঘটতে শুরু করে।
হোলে জানান, ‘আভাকে উত্তর স্কটল্যান্ডের কেইথনেসে কবর দেয়া হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে তার সম্পর্কে আমাদের ধারণা অনেক কম, তাই আমরা তার ওপরে একটি গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি যে, গবেষণা থেকে আমরা তার সমাজ ও পরিবেশের সম্পর্কে আরো তথ্য জানতে পারবো।’

মুখ পুনগঠনের সাথে জড়িত হিউ মরিসন ফরেনসিক আর্টিস্ট হিসেবে ২০১৪ থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। আভাকে পুনগঠন এবং তার বয়স, লিঙ্গ, পরিচয় ইত্যাদি জানতে মরিসনকে নৃ-তাত্ত্বিক বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিতে হয়েছে।
একটা পর্যায় তার মাথার খুলির বিভিন্ন অংশের ছবি কম্পিউটারে এনে গবেষণা করে তিনি নিশ্চিত হতে পেরেছেন তরুণীটি ছিলেন একজন ককেশীয় যার বয়স ছিল বিশ-বাইশের কাছাকাছি।
তিনি বলেন, ‘খুলিতে চোয়াল প্রতিস্থাপনের সময়ে আমি মার্কিন নৃ-তত্ত্ববিদ উইল্টন এম ক্রোগম্যানের ১৯৬২ সালের বই “দ্যা হিউম্যান স্ক্লেটন ইন ফরেনসিক মেডিসিন” – এর সাহায্য নিই।’
‘মুখের মাংসপেশি তৈরি করার আগে প্রথমে আমি ডিজিটালভাবে সেটার ছবি আঁকি, প্রয়োজনীয় মাপগুলো নিয়ে নিই যাতে চোখ, নাকের সঠিক আকৃতি ফুটিয়ে তুলতে পারি এবং কিছু জায়গা মার্ক করে রাখি যাতে পরবর্তীতে সেখানে নতুন কিছু যোগ করতে পারি।’
‘দাঁতের এনামেল আমাকে ঠোঁটের সঠিক সাইজ এবং দাঁতের অবস্থানগুলো আমাকে মুখের প্রস্থ বের করতে সাহায্য করে।’
এবং অবশেষে তিনি আভার সকল বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে চেহারাটি তৈরি করে ফেললেন।
হোলি বলেন, ‘পুনগঠনের ব্যাপারটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ সংগ্রহকৃত হাড়গোড়ের থেকে কাউকে দেখলে তার সম্পর্কে জানতে সুবিধা হয়। সেও তো একসময় জীবিত ছিল, আমাদের মতো পৃথিবীতে বসবাস করত। তারা যেভাবে চলত, স্কটল্যান্ডের উঁচুভূমিতে যেভাবে বসবাস করত তা নিশ্চয়ই আমাদের থেকে খুব একটা আলাদা ছিল না।’
সুত্র: ডেইলি মেইল