"/> অন্তর্জাল

স্টেরয়েড সেলফি: পারফেক্ট প্রো-পিকের জন্য ড্রাগস!
অন্তর্জাল ডেস্ক: -07/22/2016





নিজের ফিগার নিয়ে অসন্তুষ্ট তরুণদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ইন্সটাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট কিংবা ফেসবুকের মতো সামাজিক মাধ্যমে নিজেকে আকর্ষণীয় করে তুলতে শারীরীক সৌন্দর্যকে এসব তরুণের অনেকেই প্রধান বলে মনে করছেন। তারা দিনের বেশ কয়েক ঘন্টা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ব্যয় করে থাকে। সেখানে তারা নিজেকে অন্যদের সাথে তুলনা করার প্রতিযোগীতায় নিয়োজিত থাকেন। নিজেদের কমিউনিটির ভেতর তারা ভালো ছবি বলতে শারীরীক গঠনের ছবি পোস্ট করে ফলোয়ার এবং লাইক বাড়াতে চেষ্টা করে।

যেহেতু “উদ্ভট” শারীরিক গঠন মেয়েদের মনে প্রভাব ফেলে তাই ছেলেদের মধ্যে “চিকন না, পেশীবহুল” তত্ত্বের দিকে ঝুঁকে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন টেলিভিশন প্রোগ্রাম যেমন ‘Obsessed with My Body’ কিংবা ‘Dying for a Six Pack’ কিশোর বয়সীদের মধ্যে দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। অল্পবয়সী কিশোর-তরুণেরা ভালো ফিগারের আশায় জিমে এবং প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষেরা প্লাস্টিক সার্জারীর দিকে ঝুঁকছে।

এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ইদানিং যুক্তরাজ্যে প্লাস্টিক সার্জারীকৃত পুরুষের সংখ্যা আগের তুলনায় প্রায় দিগুণ হারে বেড়েছে। যেখানে ২০০৫ সালে সংখ্যাটি ছিল ২,৪৪০, ২০১৫ সালে তা এসে দাঁড়িয়েছে ৪,৬১৪ তে। পুরুষের এই শারীরিক গঠন নিয়ে দুশ্চিন্তা এবং শরীরের উপর প্রভাব খাটানোর প্রবণতা যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যবিজ্ঞানীদের ব্যাপক দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষ তাদের শারীরিক গঠন নিয়ে চিন্তিত এবং ৩৪ শতাংশ কিশোর শারীরিক গঠন পরিবর্তন কিংবা ওজন কমাতে ডায়েট করছে। সবথেকে ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে, আজকাল অনেক তরুণ পছন্দের ফিগারের আশায় স্টেরয়েড কিংবা হরমোনবর্ধক ড্রাগস গ্রহণ করছে।

যেখানে পেশাদার খেলোয়াড়, বডিবিল্ডার, সৈন্য বা পুলিশদের জন্য স্টেরয়েড নিষিদ্ধ সেখানে তরুণেরা নিজেকে স্বাস্থ্যবান দেখানোর জন্য কিংবা ওজন কমানোর জন্য এসব ড্রাগস চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই মুড়ি-মুড়কির মতো ব্যবহার করে চলেছে।

স্টেরয়েড লিভার, হৃদপিণ্ড, ত্বকের নানারকম বড় বড় রোগের জন্য দায়ী। এছাড়া নানারকম মানসিক সমস্যা যেমন পরনির্ভরশীলতা, দুশ্চিন্তা ইত্যাদির জন্য দায়ী এইসব স্টেরয়েড। স্টেরয়েড ব্যবহারকারীদের মধ্যে এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হবারও প্রমাণ মিলেছে। দেখা গেছে এইচআইভি আক্রান্ত পুরুষদের ১.৫ শতাংশ স্টেরয়েড গ্রহণকারী। যার সাথে হেরোইন, অ্যাম্ফিটামিন এবং অন্যান্য সহজলভ্য ড্রাগ সেবনকারীদের তুলনা করা যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে স্টেরয়েড ব্যবহারকারীরা স্টেরয়েডের পাশাপাশি অন্যান্য যেমন হরমোনবর্ধক, ওজন কমানো কিংবা শারীরিক গঠনে পরিবর্তন আনতে সক্ষম যেমন কোকেইনের মতো ড্রাগসও ব্যবহার করে থাকে। বিভিন্ন রকম ড্রাগের সংমিশ্রণও ক্ষতির কারণ হতে পারে। যেমন স্টেরয়েড এবং অ্যালকোহলের মিশ্রণ লিভার অকেজো করে দিতে পারে।

দ্যা ক্রাইম সার্ভে ফর ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসের মতে, প্রায় ৬০,০০০ জন মানুষ আকর্ষণীয় ফিগারের জন্য স্টেরয়েড গ্রহণ করে চলেছে। কিন্তু যারা স্টেরয়েড ব্যবহারকারীদের নিয়ে কাজ করেন খোদ তারাও বিশ্বাস করেন যে স্বাভাবিক ফিগার স্টেরয়েড ব্যবহারকারীদের ফিগারের তুলনায় অনেক ভালো।

যুক্তরাজ্যে ইঞ্জেকশান সেবাদানকারী ক্লিনিকের মতে, স্টেরয়েড ব্যবহারকারীরা কয়েকজন মিলে একটি গ্রুপ তৈরি করে, ক্ষেত্রবিশেষ তারা অন্যান্য অবৈধ মাদকসেবনকারী গ্রুপগুলোর সাথে জোটবদ্ধ হয়। সম্প্রতি, আয়ারল্যান্ডের এক ব্যবসায়ী বলেছেন, স্টেরয়েড ব্যবহারের জন্য তাদের সূচের ক্রেতা গত দুই বছরে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। স্বাস্থ্যকর্মী এবং চিকিৎসকেরা এই পরিস্থিতিতে স্টেরয়েড ব্যবহারকারীদের সাহায্যার্থে সরকার এবং বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির চেষ্টা করছেন। এ ব্যাপারে আরও মনযোগী হতে গণস্বাস্থ্য অফিস থেকে বিভিন্ন কাউন্সিল এবং স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রকে অনুরোধ করা হয়েছে।

এসব স্টেরয়েড ব্যবহারকারীদের প্রতিরোধের জন্য যুক্তরাজ্যে অনেক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে যেমন, Steroid Educational Toolkit, the SMART method, the Human Enhancement Drug website, Nine Zero Five ইত্যাদি।