"/> অন্তর্জাল
বাংলাদেশ, রামপাল, কয়লাবিদ্যুৎ
ঢাকামুখীতা এবং রামপালের পলিটিকাল কারেক্টনেস
এ কে এম জাকারিয়া -08/30/2016





নপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ক্যাপিটাল ঢাকা, ঢাকাতেই পার্লামেন্ট/ক্যাবিনেট/সেক্রেটারিয়েট/সুপ্রিমকোর্ট/২-৩টা ক্যান্টনমেন্ট সহ রাষ্ট্রযন্ত্রের যাবতীয় প্রানভোমরা। এমনকি নিউজপেপার/টিভিচ্যানেল/অনলাইন পোর্টাল সব ঢাকা থেকেই চালানো লাগে না হইলে হয় না, টেকা যায় না। সেই ক্যাপিটালে যখন সারাদিন রাস্তায় ট্রাফিকজ্যাম-ঘামধকল-টানাপোড়েন যেনবা প্রাত্যহিক যুদ্ধ। সেখানেই যখন আবার রাতে লোডশেডিং, দমবন্ধ ভাব। তখন কিন্তু আপনিই নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবীতে সোচ্চার, মনে মনে হৈলেও।

বর্তমান সময়ে বসবাসের অযোগ্য শহরগুলোর তালিকায় প্রথমসারিতে ঢাকাকে দেখে, ঢাকাবাসী কিন্তু মোটেও আকাশ থেকে পড়েননি, বরং একরকম মাইনাই নিছেন যে এরকমই তো হবে। তো,বসবাসের অযোগ্য একটা শহরে ধারনক্ষমতার ৪/৫ গুন বেশি মানুষ কম্প্রমাইজ/সিস্টেম করে বসবাস করতেছেন, তাদের বাসা-গ্যাস-বিদ্যুত-পানি ইত্যাদিও সিস্টেমে ম্যানেজ করে ফেলছে অথরিটি। সেই প্রক্রিয়ায় সবচে গুরুত্বপূর্ন নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে আমার/আপ্নার র‍্যাপিড এডাপ্টেসন বা, গাসওয়া ভাব। আমরা একটা দেখেও না দ্যাখার প্রাক্টিসের মধ্যে দিয়া যাইতেছি, কারন আমাদের প্রফিট ম্যাক্সিমাইজ করতে হবে/শ্রমের নায্যমূল্যে বিক্রয় নিশ্চিত করতে হবে/প্রতিষ্ঠিত সফলতার মাইলফলক স্পর্শ করতেই হবে, বাই হুক অর বাই ক্রুক।

আমাদের সামনে প্রতিষ্ঠা/সাফল্যের মতোই দোদুল্যমান আছে উন্নয়নের মূলা। আমরা ভাবছি আর কটা দিন কষ্ট করলেই সামনে পাবো সুখের নহর, তাতে গা ভাসাবো। কিন্তু জাইনা রাখা প্রয়োজন যে প্রায় ৫০ বছরে বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সাধারন জীবনের মানউন্নয়নের তুলনায় ডিসিশনমেকারদের পকেটের মানউন্নয়নে বেশি ভূমিকা রাইখা যাইতেছে। এবং তাই বিদ্যুতের সরবরাহে ভাইসা যাওয়া সেলিব্রেট করার পরও ক্যাপিটাল ঢাকায় লোডশেডিং হয় এবং অধিবাসীদেরকে সিস্টেমে হ্যারিকেনের প্রয়োজনীয়তার হুমকি ধামকি দেয়া হয় যেন, তারা ক্যাপিটাল থেকেই মেসেজটা সার্কুলেট করতে পারেন ‘বিদ্যুৎ দরকার,যেমনেই হোক’।

‘নগদ ভোগান্তি’ বনাম ‘ভবিষ্যতের ক্ষতির সম্ভাবনা’ এরকম একটা তুলনামূলক আলোচনায় সাধারন মন সব সময়ই নগদ নারয়নের পক্ষে মত দিবেন এবং ঘুষ টুষের কল্যানে সেই মতামত আরো সোচ্চার হবে। সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবনের কোল ঘেষে রামপালে যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মানের সরকারী সিদ্ধান্ত হয়েছে তার মূলে রয়েছে নগদ ভোগান্তি নিরসন এবং উন্নয়নভাবনার বাস্তবায়ন।

এই এজেন্ডার আওতায় মানুষকে এমনই নগদ ভোগান্তিতে ফেলা হচ্ছে বা হবে যার কাছে ভবিষ্যতের ক্ষয়ক্ষতি কিংবা অন্য প্রানির বিলুপ্তি নিয়ে ভাববার কোন স্কোপ বা স্পেস কিছুই থাকবেনা। যেসকল দূরদৃষ্টি সম্পন্নরা রামপালের আফটারম্যাথ এখনই ক্যালকুলেট করতে পারতেছেন তাদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে রিজেকশনের আওতায় নিয়ে আশা হইছে এবং অভিযোগ করা হইছে যে তারা ম্যাসকে মিসলিড করতেছে।


সাম্প্রতিক সময়ের পত্রপত্রিকা থেকে জানা যায় বাংলাদেশের কঞ্জারভেটিভ একটা ডানপন্থী রাজনৈতিক দল প্যারাডাইম শিফট করে রামপাল বিদ্যুতকেন্দ্র বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে এবং এখনি তারা মুখ ফুটে তেমন কিছু বলছে না,অপেক্ষা করছে ইস্যুটা কতখানি পপুলিস্ট টার্নোভার করে তা দ্যাখার জন্য। কিন্তু বাংলাদেশের হার্ডকোর এক্টিভিস্টরা এই সিদ্ধান্তটিকে ‘জাস্ট টেকিং অ্যা চান্স’ হিসেবেই দেখছেন। ডানপন্থী এই রাজনৈতিক দলের অতীত ইতিহাসও বাঁধ সাধছে, একই ছাতার নিচে এসে দাড়ানোর প্রক্রিয়ায়। তবে, ইনসিকিওরিটি অব এক্সিস্ট্যান্সের জায়গা থেকে সবারই কিন্তু বলার সুযোগ থাকছে যে সে কতটা অনিরাপদ, সেইটা একসুরে হৈলে অথরিটির উপর চাপটা ভারী হয়, এই যা। আর পলিটিকাল পার্টিসিপেসনের সুযোগ না পায়া যদি পার্টি  পরিনত হয় প্রেসারগ্রুপে, তার থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটও বুঝা যায়।

যা হোক, ক্যাপিটালে বসবাসকারী জনগণ বাঘ দেখতে চিড়িয়াখানায় যাইতে চাইলেও জ্যামে বসে প্রমোদ গুনেন, তাই সুন্দরবনের বাঘহীনতা/পশুর নদীর ডলফিনশূন্যতা/ক্ষুদ্রপ্রানের বিপন্নতা ইত্যাদি প্রসঙ্গ নিয়ে ভাববার জন্যে এখনো তার মাথা প্রস্তুত হয় নাই। তার উপর টেলিভিসনের রাষ্ট্রীয় আশ্বাসে নাভিশ্বাস উঠে যাওয়া মানুষ অনেকটাই নিরাপদবোধ করা শুরু করেছেন,ভাবছেন হুদাই বাড়াবাড়ি আসলে কিছুই হবে না। অথচ এই নিরাপত্তার ইলিউসনে ভোগা মানুষগুলোকে আসল ঘটনা না জানাইতে পারলে এবং তাদের মধ্যেকার প্রতিক্রিয়া বিস্ফোরিত না হইলে কেবলমাত্র থিসিস পেপার রামপালে বিদ্যুতকেন্দ্র আটকাইতে পারবে না।

তাই, প্রাত্যহিক সাফল্যের সন্ধানে ঢাকার রাস্তায় ভিড় বাড়ানো মানুষ আপনি জাইনা রাখেন যে পলিটিক্যাল কারেক্টনেসের কাছে কিন্তু আপনি আপনার জীবন ইজারা দিয়ে দ্যান নাই। দেশ যদি আপনার হয়ে থাকে প্রকৃতিও আপ্নার, সেই প্রকৃতির বিপন্নতা আপনারও বিপন্নতা। সাধারনের জীবন বিপন্ন করে এলিটেরা ইউরোপ-আমেরিকায় সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট নিয়া জরুরি মিটিঙয়ে বসবে, ফলাফল যাই হোক না ক্যানো আপনি হইবেন ভিক্টিম।আপ্নারে দ্যাখায়া গ্লোবালফান্ড আনবে,রাতের আধারে ভাগবাটোয়ারাও হয়ে যাবে কিন্তু আপনাকে শুধু প্রতিকূল এবং আরো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকাই প্রাক্টিস করতে হবে।
সময় থাকতে থাকতেই ভাবতে হবে আপ্নি কোন পক্ষে যাবেন?



একেএম জাকারিয়া
লেখক: অন্তর্জাল.কম