"/> অন্তর্জাল

আমাদের এখন অনেক বেয়াদব দরকার
জিয়া হাসান -09/23/2016





মাদের ছোটকাল থেকে শেখানো হইছে, বড়দের কথা শুনবা। বড়দের মুখের উপরে কথা বলবা না। যে বলে সে বেয়াদব।
আমরা সেই ভাবে বড় হইছি। আমি নিজে সেই ভাবে বড় হইছি, আমি অনলাইনে লম্বা লম্বা কথা বললেও, অফলাইনে, ছোটকালের শেখা এই নিতিবাক্য গুলো মেনে চলি।
এবং যারা বেয়াদবি করে, তাদেরকে অপছন্দ করি।

কিন্ত, এখন সেই শিক্ষা এবং বানী চিরন্তনীকে প্রশ্ন করার টাইম আসছে।

ছোট খুব রিলেটিভ একটা টার্ম। তো সেই রিলেটিভ জায়গা থেকেই প্রশ্ন করি,

ছোটরা কেন প্রশ্ন করতে পারবেনা ?
ছোটরা কেন মুখের উপরে কথা বলতে পারবেনা ?

আমার আত্মীয় স্বজনের মধ্যে কিছু ফ্যামিলি দেখছি, যেখানে ছোটদেরকে প্রশ্ন করতে এঙ্কারেজ করা হয়। বড়দের মুখের উপরে কিছু বললে, সেইটা বেয়াদবি হিসেবে ধরা হয় না। এবং আমার হিসেবে এরা ইমশনালি অনেক স্বনির্ভর হিসেবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহনে অনেক সাহসী হিসেবে বড় হয়েছে।

আমার কিছু বাঙালী বন্ধু আছে, যারা বিদেশি স্কুলের টিচার। ওরা বললো,
প্রাসচাত্য সভ্যতাতে শিক্ষা ব্যবস্থায় চিকন দাগে এইটা মেনে নেয় হয়। প্রশ্ন করা উৎসাহ দেয়া হয়। এবং সিস্টেমকে প্রশ্ন করতে শিখানো হয়। মোটামুটি ওদেরকে আমাদের ভাষায় বেয়াদব হিসেবে গড়ে তোলা হয়।

আমাদের সমাজেও এখন এই সব বেয়াদব গড়ে তোলার টাইম আসছে। কারণ, আমরা একটা পচা সমাজ এবং জঘন্যরকম ইনুকুয়াল রাষ্ট্র গড়ে তুলছি, যেখানে সব চেয়ে ছোট্ট ইউনিট হিসেবে পরিবারও এখন ভেঙ্গে পরছে। সো এই রাষ্ট্রের সকল চিন্তা, সকল সম্পর্ক, সকল কাঠামোকে আজকে প্রশ্ন করতে হবে।

আমাদেরকে এখন বেয়াদবদেরকে সমালোচনা না করে, বেয়াদব জেনারেশান গড়ে তুলতে হবে, যারা ভদ্রতার জন্যে, চুপ থাকবেনা। বেয়াদবের মত উলটা পাল্টা প্রশ্ন করে, সবাইকে এম্বেরাস করে দিবে।

এই খানে আর একটা কথা বলি সেইটা হইলো, এই বেয়াদবদেরকে থামানোর জন্যে আর একটা সিস্টেম তৈরি করা আছে,

সেইটা হইলো, তুমি না জেনে প্রশ্ন কইরো না।
ওহ মাই গড । কি বিশাল দ্বৈততা।

না জেনে প্রশ্ন করবোনা মানে, জানিনা বলেই তো প্রশ্ন করবো। জানলে প্রশ্ন করতাম নাকি? এই গুলো সব , স্ট্যাটাসকোকে ধরে রাখার সিস্টেম।

না জেনে প্রশ্ন করবা না।

তো এই খানে আবার বলবে যে, নাহ, জানতে তো তোমার হবেই। কিন্ত না জানলে তো তুমি ভুল প্রশ্ন করবা।

এইটা আরো বড় সমস্যা। পৃথিবীতে ভুল প্রশ্ন বলে কিছু নাই। সত্য নির্মাণের একদম ষ্ট্যাণ্ডার্ড পদ্ধতি হইলো, ভুল প্রশ্ন করে, একটা একটা ভুল প্রশ্ন বাতিল করা।
তাই, সত্য নির্মাণের জন্যে ভুল প্রশ্ন(উলটা পালটা প্রস্নও বলতে পারেন) করা খুব জরুরী।

তো, শেষ বাংলা হইলো, আমাদের এখন অনেক বেয়াদব দরকার। যারা বড়দের সাথে বেয়াদবি করবে। বড়দের কথা শুনবে না , তাদের মুখের উপরে কথা বলবে। না জেনে ভুল প্রশ্ন করবে।

এবং আপনি যদি পিতা মাতা হন তবে, পলিটিকালি কারেক্ট সন্তান গড়ে তোলার বদলে বেয়াদব ছেলে মেয়ে গড়ে তোলেন।

বেয়াদব শব্দটাকেই এখন গালির বদলে গুণ হিসেবে দেখেন।

নইলে, এই নোংরা, জঘন্য রাষ্ট্র এবং সমাজের লেয়ারে লেয়ারে যে বিভিন্ন রকম শাসক শ্রেণি বসে আছে, শত বছরে ধরে যাদের স্ট্যাটাস কোতে কেউ আঘাত দেয় নাই, না দেয়ার জন্যে তারা এই সব প্রশ্ন না করার মেকানিজম বানায় রাখছে, তাদের ঘুম ভাংবেনা।

না জেনে প্রশ্ন করেন, ভুল প্রশ্ন করেন, উলটা পাল্টা প্রশ্ন করেন,-তাহলেই এই সমাজ এবং রাষ্ট্র আগাবে ।



জিয়া হাসান
সাস্টেনেবল ডেভেলপমেন্ট এক্টিভিস্ট। সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক বিশ্লেষক।