"/> অন্তর্জাল
আমেরিকা
ইউএস প্রেসিডেন্ট নির্বাচন: ভেতরের কিছু কথা
-11/11/2016





 

গামী মাসের ৮ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। গত কয়েকটি জাতীয় নির্বাচন প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার নির্বাচন সম্পর্কে কিছু লিখতে বসেছি। প্রথমেই বলে নেয়া ভাল, পুঁজিবাদী দেশের ডেমোক্র্যাট বলি আর রিপাব্লিকান বলি দুই দলের পুঁজির স্বার্থ দেখবে; হিলারি বা ট্রাম্প এলে পুঁজির স্বার্থের হেরফের হবে না- সেটা নিয়ে কথা বলাই বাহুল্য বিধায় সেদিকে যাব না। কিন্তু তারপরও একটা বিশাল এবং জটিল শাসন ব্যবস্থায় ছোট পরিবর্তনও অনেক বড় প্রভাব রাখতে পারে নাগরিক জীবনে- এবং এমন কি আন্তর্জাতিক পরিসরেও- চমস্কির মত অভিজ্ঞজনদের সেই অভিমত বাবদে বলা যায়- হিলারি না ট্রাম্প এই আলোচনার তবু দরকার আছে। তবে সেই আলাপে যাওয়ার আগে আমেরিকার বিশাল এবং জটিল শাসন ব্যবস্থাটা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা থাকা দরকার। নাইলে প্রভাবের পার্থক্যটা সম্যক ধরা যাবে না বলেই মনে হয়।

 

আমেরিকার প্রেসিডেন্সিয়াল সিস্টেম আর সরকারের তিনটা বিভাগ- এক্সিকিউটিভ, লেজিসলেটিভ এবং জুডিশিয়ারি- কী ভাবে এক যোগে কাজ করে দেশ পরিচালনায়, এবং সেখানে পার্টি পলিটিক্স কী ভূমিকা রাখে জানা দরকার আগে- বিশেষ করে বাংলাদেশের সাধারণ পাঠকদের। বাংলাদেশী হিসাবে প্রেসিডেন্ট ইলেকশন দেখার সুযোগ আমাদের হয়নি। বঙ্গবন্ধুর প্রেসিডেন্ট হওয়া এক রকম, আর জিয়া ও এরশাদের প্রেসিডেন্ট হওয়া আরেক রকম। তবে সেগুলোর কোনটাই ঠিক প্রেসিডেন্টশিয়াল জাতীয় নির্বাচনের স্ট্যাটাস পাবে কি না তা তর্ক সাপেক্ষ। তাছাড়া জিয়া আর এরশাদতো ক্ষমতায় গিয়ে পার্টি তৈরি করলেন। ফলে প্রেসিডেন্টশিয়াল সিস্টেমে সংসদ এবং প্রেসিডেন্টের সম্পর্ক কী রূপ তার প্রকৃত রূপ দেখা যায়নি বাংলাদেশে। এই ক্ষেত্রে আমেরিকার কথা আলাদা।

 

সংসদের বদলে এদেশে আছে কংগ্রেস। কংগ্রেসের আবার চেম্বার দুইটা। একটা সিনেট এবং অন্যটা হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস। সিনেটর এবং রিপ্রেজেন্টেটিভ (কিংবা কংগ্রেসম্যান, কংগ্রেসওমেন) উভয়েই জনগনের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়। বাংলাদেশের সংসদীয় পদ্ধতির এমপিদের মত। তবে সিনেটরদের মেয়াদ ৬ বছর আর রিপ্রেজেন্টেটিভদের মেয়াদ ২ বছর। এরা প্রায় সবাই হয় ডেমোক্রেট, না হয় রিপাবলিকান। খুব কমই স্বতন্ত্র কিংবা অন্য কোন ছোট পার্টি থেকে আসে। এর সঙ্গে প্রেসিডন্ট ইলেকশনের সম্পর্ক নাই। প্রেসিডেন্ট প্রতি চার বছর পর পর আলাদা ভাবে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসে।

 

এখানে একটা বিষয় আছে, জনগণের ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবার প্রক্রিয়াটা একটু ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে ঘটে। আসলে শেষপর্যন্ত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করে ইলেক্টরাল কলেজ নামে ৫৩৮ জন ইলেক্টরের একটি বডি। এই কলেজের ম্যাজরিটি অর্থাৎ ২৭০ জন যাকে নির্বাচন করবে চূড়ান্ত বিচারে সে-ই প্রেসিডেন্ট হবে। কিন্তু এই ইলেক্টদের নির্বাচন করে কে? এই ইলেক্টররা স্টেইট বেসিসে পার্টি দ্বারা মনোনীত হয়। এবং জাতীয় নির্বাচনে একটি স্টেইটে যে প্রার্থী জেতে, সেই প্রার্থীর দলের মনোনীত ইলেক্টরেরা চূড়ান্তভাবে ইলেক্টর হিসাবে নির্বাচিত হয় । এভাবে ৫০টি স্টেইট প্লাস ডিসির ৩টি সহ মোট ৫৩৮টা ইলেক্টর নির্বাচিত হয়। ফলে দেখা যায়, সাধারণত জনগণের ভোটেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়, যদি না ইলেক্টরেরা শেষপর্যন্ত নিজ দলের প্রার্থীকে ভোট না দেয় (সেই সুযোগ তাদের আছে)।