"/> অন্তর্জাল
বাংলাদেশ, রামপাল, কয়লাবিদ্যুৎ
প্রসঙ্গ রামপাল: বিতর্ক পরিষ্কারে আরো বিতর্ক ও আস্থার চাপ
আবুল হাসান রুবেল -09/07/2016





ডেইলি স্টার গতকাল রামপাল বিষয়ক একটা সাক্ষাৎকারভিত্তিক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ‘আনসার টু সাম কনট্রোভার্সিস’ শিরোনামে, অনায়াসেই তার শিরোনামের সাথে ‘বাই ক্রিয়েটিং মোর কন্ট্রোভার্সিস’ যুক্ত হতে পারত। তাতে শিরোনামটা যথার্থ ও প্রতিনিধিত্বশীল হত। ঋনের গ্যারান্টার থেকে শুরু করে সমস্ত প্রশ্নে শেষ কথাটি সরকারী কর্মকর্তাদের হওয়ায় এগুলো আরও যেসব বিতর্ক তৈরি করে সেগুলোর জবাব দেওয়া আসলে প্রয়োজনীয় হয়ে গেছে।

প্রথমত

রামপাল প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি মারফত। এই প্রকল্পে বাংলাদেশ ১৫% ও ভারত ১৫% বিনিযোগ করবে। বাকি ৭০% ঋণ করা হবে। এই ঋণের গ্যারান্টার হবে বাংলাদেশ। অর্থাৎ কোন কারণে প্রকল্প বাতিল হলে বা ঋণের কিস্তি দিতে কোম্পানি ব্যর্থ হলে তার দায় নেবে বাংলাদেশ। এই প্রকল্পের লাভ ৫০% করে ভাগ হবে। এছাড়া ঠিকাদারি কাজ, কয়লা সরবারহ ব্যবসা ইত্যাদিও পাবে ভারত। এর আগে কেবল সরকারি প্রকল্পেই বাংলাদেশ এরকম সর্ভেন্টি দিত।এর ব্যাখ্যায় সরকারি কর্মকর্তারা যা বলছেন তা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রকল্প বাংলাদেশে হবে বলে বাংলাদেশকেই সর্ভেন্টি দিতে হবে এমন কোন ব্যাপার আসলে নাই।বরং মালিকানা-লাভ সবই যেহেতু ভাগাভাগির কাজেই এটাও যৌথভাবে হওয়াই যুক্তিযুক্ত।উপরন্তু এখানে কয়লা আনার ঠিকাদারি, অন্যান্য ব্যবসার ঠিকাদারি, এমনকি নিম্নমানের কয়লা বেচার সুযোগ সবই পাচ্ছে ভারত। বলা হচ্ছে বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে বাংলাদেশ অতএব তারই দায় নেয়া উচিত। বাংলাদেশ কিন্তু মাগনা বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে না বরং বাজার দরের চাইতে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে নিবে। কাজেই এই যুক্তি অবান্তর। বিভিন্ন দেশ/সংস্থা ঋণ দিতে রাজি হয়নি শুধু সর্ভেন্টির অভাবে তথ্যটাও সত্য নয়। অনেকে এটা দিতে রাজি হয়নি এতে সুন্দরবনের ওপর বিরূপ প্রভাব বিবেচনায়। এই সত্যকে আড়াল করা হয়েছে।আর এরপর অন্যান্য চুক্তিতেও বাংলাদেশের গ্যারান্টার হওয়াটা একটা ভুলের লেজ ধরে আরও ভুল করে যাওয়া এবং এক ভুলকে অন্য ভুল দিয়ে সিদ্ধ করারই ধ্রুপদী উদাহরণ।


দ্বিতীয়ত

১.৪৯ বিলিয়নের প্রকল্পে কোন ঝুঁকি না নিয়েই এনটিপিসির মুনাফার দীর্ঘমেয়াদি ভাগিদার হওয়া ও অর্ধেক নিয়ে যাওয়া প্রমঙ্গে সরকারি উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার উত্তর সবচেয়ে হাস্যকর। তারা বলছেন এটা বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসাবে তাদের দেয়া হচ্ছে। যখন দুই পক্ষ একটা ব্যবসায়িক চুক্তি করে সবাই চেষ্টা করে নিজের পক্ষে সর্বোচ্চ সুবিধা আদায় করে নিতে। এরকম বন্ধুত্বের যুক্তি বোধহয় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেই অনন্য।এরপর তারা যুক্ত করেছেন এনটিপিসির কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভিজ্ঞতা এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকে শেখার প্রশ্ন।এনটিপিসি অভিজ্ঞ তাতে কোন সন্দেহ নাই। তবে এনটিপিসির অভিজ্ঞতাটা কিরকম সেটাও জানা থাকা জরুরি।ভারতের এনটিপিসি কোম্পানি সবচেয়ে দূষণকারী কোম্পানিগুলোর মধ্যে অন্যতম। ভারতের সেন্টার ফর সায়েন্স এন্ড এনভারনমেন্ট এর গবেষণা অনুসারে এনটিপিসির বরদপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র ছিল গবেষণা চালানো বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দূষণ সৃষ্টিকারী। গবেষণা চালানো ৪২টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ৬টি ছিল এনটিপিসির। যাদের সর্বোচ্চ অর্জিত নম্বর ছিল ২৮। যেখানে সর্বোচ্চ প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৮০। এরকম দূষণের চ্যাম্পিয়ন কোম্পানিকে সুন্দরবনের কাছে বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে দিয়ে তারপর তার কাছ থেকে দূষণহীন বিদ্যুৎ কেন্দ্র আশা করাটা রাজাকারের কাছে দেশপ্রেম শিক্ষার মতই।


তৃতীয়ত


উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম ধরা হয়েছে ৮-৮.৮৫ টাকা । যা দেশে কয়লাভিত্তিক অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্রে দ্বিগুণেরও বেশি। যেমন পুরাতন মেঘনা ঘাট এর বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুতের দাম ২.৩ টাকা, ওরিয়ন বা এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুতের দাম ৩.৫ টাকা। এমনকি ভারত থেকে এখন যে দামে(৫.৫-৬ টাকা) বিদ্যুৎ আমদানি করা হয় তার চাইতেও বেশি। এসব দাম যখন ধরা হয় তখন দূষণরোধে যেসব ব্যবস্থা নেবার কথা বলা হয়েছিল ইআইএ তখনও কয়লার মান, সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ইত্যাদির কথা বলেছে। সরকার পক্ষের বিভিন্ন ব্যক্তিরা দাবি করছেন নাগরিকদের প্রতিবাদের কারণে সরকার এখন দূষণরোধে নতুন নতুন ব্যবস্থা নিচ্ছে।যেমন এফডিজি ব্যবহার করছে, এসসিআর ব্যবহার করবে, মার্কারি দূর করার ব্যবস্থা করবে ইত্যাদি। এসসিআর করলে মোট খরচের ২% বাড়বে, এফডিজি করলে ১২% বাড়বে আর মার্কারি দূর করার প্রযুক্তি চালু করলে ব্রয়লার প্রতি তার স্হাপনা খরচ ৬.২ মিলিয়ন ডলার আর পরিচালনা ব্যয় ৬ লক্ষ ৭৪ হাজার ডলার পড়বে প্রতি বছর। ফলে সরকারপক্ষের বিভিন্ন ব্যক্তিরা যেসব কথা বলেছেন তা যদি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে তো এসব খরচ যোগ করার পর বিদ্যুতের দাম আরো বাড়ার কথা। সেক্ষেত্রে উদ্ধৃত কর্মকর্তা কিসের ভিত্তিতে বলছেন যে দাম কমবে?


চতূর্থত


ইআইএতে বলা আছে ড্রেজিং করতে হবে, প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়েছে ড্রেজিং নিয়মিতই করা হয়, কয়লার জাহাজ আসতে হলে ড্রেজিং করতে হবে সেটা এ পর্যন্ত সবাই বলছেন। কিন্তু উদ্ধৃত কর্মকর্তা কিসের ভিত্তিতে ড্রেজিং না করেও কয়লা আনা সম্ভব বলছেন সেটা পরিষ্কার নয়।বিভিন্ন রিপোর্ট অনুসারে এখানে কয়লা পরিবহনের জন্য ড্রেজিং করতে হবে যার ৭৫-৮০ ভাগ সুন্দরবনের ভেতরে। এই অঞ্চলে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, ইরাবতি ও গাঙ্গেয় ডলফিন, লোনা পানির কুমিরসহ অন্যান্য বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির বসবাস। ড্রেজিংয়ের ফলে এদের বসবাস প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

পঞ্চমত

এনটিপিসি ১২-১৪ মিলিয়ন টন কয়লা আমদানি করে প্রতিবছর; এটাকে কয়লার আনা নেয়া করার সময় দুর্ঘটনা না ঘটার গ্যারান্টি হিসাবে যেভাবে বলা হয়েছে তাতে বলতেই হয় বিশ্বাস মেলায় বস্তু তর্কে বহুদূর তত্ত্বেই তার আস্থা শতভাগ। আসলে কেউই কোন দুর্ঘটনা ঘটবে না এরকম নিশ্চয়তা দিতে পারে না। রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পে বছরে কয়লা লাগবে ৪৭ লক্ষ মেট্রিক টন। এই কয়লা বড় বড় যেসব জাহাজে আসবে সেগুলোকে সমুদ্রের ভেতর থেকেই নোঙ্গর করে ছোট ছোট জাহাজে বা লাইটার জাহাজ করে আক্রাম পয়েন্ট থেকে রামপালে নিয়ে আসতে হবে। একটা বড় জাহাজে কয়লা আসবে ৪৭ হাজার মেট্রিক টন। অর্থাৎ এরকম ১০০টি বড় জাহাজে কয়লা নিয়ে আসতে হবে। যাদের খালি করতে আবার প্রায় ৪০০০ লাইটার জাহাজ লাগবে। সেই ৪০০০ জাহাজ আবার রামপালে এই কয়লা আনলোড করবে।
এই বিপুল সংখ্যক জাহাজ চলাচলের ফলে তেল, কয়লা, ধোঁয়ার মাধ্যমে দূষণ হবে। এরপর আসে কয়লা লোডআনলোড করার সময় দূষণের প্রশ্ন। এই কয়লা লোড-আনলোড করার সময় বাতাসে কার্বনের কণা ছড়িয়ে পড়ে, পানি দূষিত হয় বিপুল পরিমাণে।কয়লার কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ হার কমাবে। এছাড়া আছে এই জাহাজগুলোর শব্দ-আলো। সুন্দরবনের নিরব পরিবেশে এগুলো বন্য প্রাণীর জন্য বড় অসুবিধার কারণ হবে। ফলে নানাভাবে এই প্রভাব কমিয়ে দেখাবার যে চেষ্টা আগে থেকেই জারি আছে রিপোর্টে উদ্ধৃত কর্মকর্তা তার চাইতে নতুন কিছু বলেননি এক্ষেত্রে।


ষষ্ঠত


ফ্লাই এ্যাশ ও মার্কারির ব্যাপারে উদ্ধৃত কর্মকর্তা যা বলেছেন ইতিমধ্যেই সরকারি বিভিন্ন ব্যক্তি যা বলেছেন তার সাথে সাংঘর্ষিক। প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে যেসব কথা বরলছেন তার সাথেও মেলে না। যেমন প্রধানমন্ত্রী এফজিডি দিয়ে মার্কারি দূর করার কথা বলেছেন তিনি বলছেন ইএসপি দিয়ে করার কথা। আসলে ইএসপি অন্যান্য ক্ষুদ্র কণা কমালেও মার্কারি দূর করতে তেমন কার্যকর নয়। কিনতু এমনকি এফডিজিও মার্কারি দূর করতে খুব কার্য়কর নয়। এফজিডি, এসসিআর ইত্যাদি যেসব প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা কোম্পানির প্রচারপত্রে বলা হঢয়ছে অথচ ইআইএতে নাই সেগুলোর কথাও এই কর্মকর্তার উল্লেখ না করার কারণ আসলে কি? তাহলে কি সেগুলো শুধু বিজ্ঞাপন, বাস্তবে ব্যবহার করার কোন পরিকল্পনা তাদের নাই? আর ছাই বিষয়ে চাহিদার কথাটার পক্ষে কোন তথ্য-প্রমাণ এখনো পর্যন্ত কেউই দেখাননি। ছাই সব বিক্রি হয়ে যাবার কথাটা আসলে কোন দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে নাই। বরং বড় পৃকুরিয়ার অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে ছাই বিক্রি হয়নি। কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই বিষাক্ত এবং অন্যত্র ব্যবহারও নিরাপদ নয়। সিমেন্ট কোম্পানিগুলোকেও আপনারা দেখবেন ফ্লাই-এ্যাশবিহীন সিমেন্টের বিজ্ঞাপন দিতে।
আসলে এসব কথার আড়ালে ভয়ঙ্কর ফাঁকি আছে। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে দৈনিক ১৪২ টন সালফার অক্সাইড, ৮৫ টন নাইট্রোজেন অক্সাইড ও বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপন্ন হবে। সালফার ও নাইট্রোজেনের অক্সাইড বাতাসের অন্যান্য উপাদান ও পানির সাথে মিশে এসিড রেইন তৈরি করবে যা সরাসরি গাছের ক্ষতি করবে, আবার মাটির পুষ্টিগুন নষ্ট করেও ক্ষতি করবে।কার্বন ডাই অক্সাইড বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি করবে যার রয়েছে বহুমাত্রিক প্রভাব। এটা ফ্লাই এ্যাশ ও বটম এ্যাশ এর জন্ম দেবে যার ভেতরে বহু বিষাক্ত ভারি ধাতু মিশে থাকে। এখান থেকে যে বিপুল পরিমাণ মার্কারী উৎপাদিত হবে তা বিরাট এলাকা দূষিত করতে সক্ষম। মার্কারির বিষক্রিয়া ভয়ঙ্কর এটা খাদ্য শৃঙ্খলের যতই উপরের দিকে উঠতে থাকে তার ঘনত্বও বাড়তে থাকে।কয়লায় যে মিথাইল মার্কারি ও মার্কারি ক্লোরাইড থাকে তা মানুষের ক্যান্সারের কারণ।
কোম্পানি নাইট্রোজেন অক্সাইড দূর করার জন্য যে লো নাইট্রোজেন অক্সাইড টি বার্নার ব্যবহার করার কথা বলছে তা ইউ এস ডিপার্টমেন্ট অভ এনার্জির তথ্য মতে ৩৭% নাইট্রোজেন অক্সাইড কমাতে পারে, অথচ সরকারি ইআইএ দাবি করেছে ৮৭% কমাতে পারার। এর ফলে যে পরিমাণ নাইট্রোজেন গ্যাস নি:সরন হবে তা সুন্দরবনের বর্তমান পরিমানকে ১২ গুন বাড়াবে, এমনকি বসতি এলাকার গ্রহণযোগ্য মাত্রার চাইতেও তা ৩ গুন বেশি। সালফার ডাই অক্সাইড দূর করার জন্য যে এসডিজি ব্যবহার করা হবে বলা হচ্ছে তা বাতাসে সালফার কমালেও পানিতে তার পরিমাণ বাড়াবে।মার্কারি দূষণ রোধ করার জন্য আলাদা কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। সালফার দূর করতে গিয়ে যেটুকু মারকারি দূর হবে তাকেই ৯০ ভাগ দূর হবে বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। ৯০ ভাগ দূর করার জন্য যে পাওডারড এক্টিভেটেড কার্বন ব্যবহার করতে হয় তার উল্লেখমাত্রও কোথাও নাই। আর ১০ ভাগ মার্কারিও বিপুল দূষণের জন্য যথেষ্ট।
সর্বশেষে যে কথা বলা হয়েছে তাতেই আসলে মূল কথাটা বেরিয়ে এসেছে। এনটিপিসি দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন ধ্বংস করে দুর্নামের ভাগিদার হতে চাইবে না। অতএব তার ওপর আমাদের আস্থা রাখতে হবে। বাহ! আমরা আমাদের নিজেদের ভরসায় বা এনটিপিসিকে নজরদারি করেও সুন্দরবনকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার কথা ভাবছি না?! তাহলে আসুন বিবেচনা করা যাক এই ভরসা আমরা করতে পারি কিনা? কয়লা কোম্পানিগুলো দুনিয়া জুড়ে অনেক আগে থেকেই পরিবেশ ধ্বংসের জন্য দুর্নামের ভাগিদার। আগেই দেখিয়েছি ভারতের সবচেয়ে দূষিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রও এনটিপিসির। তাহলে তার দুর্নাম হলে আর নতুন করে কি আসে যায়? কয়লা কোম্পানি তো আর কোন রাজনৈতিক নেতা না বা দল না যে দুর্নাম হলে তার ভোট কমে যাবে! যদি তার শেয়ারহোল্ডার থাকে সেক্ষেত্রে তারা যেটা বিবেচনা করে সেটা হল মুনাফা। যদি যথেষ্ট মুনাফা কোম্পানি দিতে পারে তাহলে তাতেই তারা খুশি। এক্ষেত্রে সুন্দরবন কি আদৌ তাদের কাছে বিবেচ্য? এবার আসি আস্থার প্রশ্নে, এই কোম্পানির রেকর্ড পরিবেশের বিবেচনায় মোটেই আস্থাযোগ্য নয়। ভারতে রাজীবগান্ধী পার্কের ২৫ কিলোমিটারের ভেতরে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে তাদের ওপর আস্থা রাখা যায়নি। বাংলাদেশে সুন্দরবনের ১৪ কিলোমিটারের মধ্যে সেটা করার মত আত্মঘাতি আস্থা কি আমরা রাখব?
 



আবুল হাসান রুবেল
জন্ম: নভেম্বর ৩
লেখক, আমাদের পাঠশালা’র অন্যতম উদ্যোক্তা<