"/> অন্তর্জাল
ইউরোপ, নারী, বুরকিনি, মুসলিম, হিজাব
বুরকিনি: কারণ আপনি একজন গরীব মুসলমান
রওশন আরা মুক্তা -08/26/2016





ফ্রান্সে ‘বুরকিনি’ নামক একটি পোষাক নিয়া মহা মহা কান্ড ঘটে যাচ্ছে। সবার সরল প্রশ্ন, ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন আর ফ্রিডম অব চয়েস এর কথা বলে যারা তারা কীভাবে কোনো পোষাক নিষিদ্ধ করতে পারে?

তারমানে মুসলমানরা বোরখা, হিজাব আর হালে বুরকিনি এমনভাবে সেকুলার নিয়মে হালাল করতে চান যে, এইটা ফ্রিডম অব চয়েস। অর্থাৎ তিনি সব ধরণের ফ্রিডম অব চয়েস মেনে নিচ্ছেন। এমন মুসলমানদের সন্তান সন্ততিরা পর্নস্টার হইতে চাইলেও তাদের আপত্তি থাকবে না। যেহেতু তারা ফ্রিডম অব চয়েসে বিশ্বাস করেন। হিজাব পড়তে গিয়ে তো তারা সেটা স্বীকার করে আসছে।

একটু সমস্যা লাগতেছে কি? তারমানে আপনি ফ্রিডম অব চয়েজে বিশ্বাস করেন না। বোরখা পড়ার জন্য হিজাব পড়ার জন্য ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশনের দোহাই দিচ্ছেন। কারণ আপনি একজন গরীব মুসলমান। একটু স্যাড লাগছে এখন, তাই না?

আর সাধারণের বাইরে বিশেষ যারা এ যুক্তি দেন, তাদের বলিতে চাহি। ”কারো মন চাইলে বিকিনি পড়বে কারো মন চাইলে বোরখা পড়বে” এমন কথা বলার কোনো সূযোগ নাই। বিকিনি গায়ে রইদ লাগানোর পোষাক। যেহেতু শীতের দেশে সূর্য হারায়া যায় প্রায়ই, এবং লোকজনের স্কীন ডিজিজ, ডিপ্রেশন ইত্যাদি হয় তাই তারা সূর্যের দিনে ইচ্ছামত গায়ে রোদ মাখে, ছোট পোষাক পড়ে। এরপর ফ্যাশন ইন্ড্রাস্টিতে বিকিনি নিয়ে কি কি হয় সেটা পরের কথা। বুরকিনি পোশাকটা অবশ্য কোন কাজে লাগে সেটা আমি বুঝতে পারি না। মানে স্রেফ সমুদ্রপাড়ে হাওয়া খেতে গেলাম বুরকিনি পরে এমন নাকি ব্যপারটা? কারণ পুরা গা ঢেকে রইদ লাগানোর ব্যাপারটা সঠিকভাবে হওয়ার কথা না। এনিওয়ে…

যা বলছিলাম, যার যা ইচ্ছা পড়বে বলে বিকিনি হয়তো পড়া যাইতে পারে। বোরখা বা হিজাব সেভাবে পড়া যাবে না। মুসলমান নারীর জন্য পর্দা করা একটি ইবাদত। ইবাদতের অংশ হিসাবে যে পোষাক পড়ার কথা সেটা শুধুমাত্র সে কারণেই পড়বে মুসলমান নারী। বাপ, ভাই, স্বামী, সমাজ এরকম কেউ জোর করল বলেও পড়া যাবে না। আবার না পড়ার মত জনমত আশে পাশে থাকলে, ইচ্ছা হইল তাই পড়তেছি, তাও বলা যাবে না। ইবাদতের বাইরে কোনো হিজাব নাই। কারণ হিজাব একটা কাপড়ের টুকরা না খালি। এইটা ধারণ করায় কিছু স্পিরিচুয়ালিটি আছে। তেমন না হইলে সেটা একটা পোষাক শুধু। নিজের মুসলমান পরিচয় দেয়ার কিছু নাই এতে।

মানে যদি দেখেন বুরকিনি বা বোরখার কারণে পুলিশ পোশাক খুলতে বাধ্য করতেছে তখন নিজেরে সেকুলার বলতে হবে। মুসলমান বলা যাবে না। আর পুলিশও তো সেকুলার আওটফিট দেখতে চাচ্ছে। আমাদের এইখানে যেমন রবীন্দ্রশিল্পী মিতা হক শাড়ি টিপ দেখতে চান মেয়েদের গায়ে। তেমন ব্যাপারটা। বুরকিনি বা বোরখাও সেকুলার আওউটফিট এটা প্রতিষ্ঠা না করে এগুলা পড়া তাই ঠিকও হবে না।

আমি নিজে অবশ্য শাড়ি টিপ এগুলা একেবারেই মেইন্টেইন করতে পারি না, আর ভালোও লাগে না। স্পিরিচুয়ালিটির অভাব বোধ করতেছি দুনিয়ায় তাই হিজাব হইয়া উঠতেছে না। আরামদায়ক পোষাকই আমার পছন্দ। কিন্তু সেই পোশাকটা এখনো আবিষ্কার হয় নাই। যাই পড়ি না কেন, বিরক্ত লাগে। নিজেই ফ্যাশন ডিজাইনার হয়ে যাব ভাবতেছি। তবে এটা শিউর আমি যে বুরকিনি মার্কা কোনো পোশাক আমি বানাব না। ইউজলেস।

 



রওশন আরা মুক্তা
জন্ম: ১২ এপ্রিল
কবি, লেখক, সাংবাদিক