"/> অন্তর্জাল
কিউবা, বিপ্লব, হত্যার রাজনীতি
ফিদেল ও হত্যার রাজনীতি
সালাহ উদ্দিন শুভ্র -11/27/2016





ফিদেল কাস্ত্রো বিপ্লবের আগে, চলাকালে এবং পরে কতজন মানুষ মারার নির্দেষ দিছেন এ নিয়ে পশ্চিমে বিস্তর বিতর্ক আছে। ওরা অনেক সুশীল আর কূটনীতিক তো ফলে ওদের প্রশ্ন করার ধরণের মধ্যে আবছা আবছা ব্যাপার আছে। পলিটিক্যাল ব্যাপার নাই। যেন পলিটিক্সের চাইতে মানবতা আবশ্যিকভাবে বড় একটা ব্যপার আরকী। পলিটিক্স মানেই মৃত্যুঝুঁকি। স্ট্রিট পলিটিক্স না করার ফলে এমন চিন্তা তৈরি হয় তাদের মধ্যে। সেটা আরেকদিন আলাপ করব।


তাদের কথা মত যদি ধরি, পঞ্চাশ বছর শাসনকালে কিউবায় বিভিন্ন রকম মৃত্যুর জন্য ফিদেলরে দায়ী করা যায় কতটা। কারণ তিনি ছিলেন প্রেসিডেন্ট। না খায়া কেউ মরলে স্বভাবত তার উপর দায় বর্তাবে। কিন্তু ফিদেলের কিউবায় না খায়া কেউ মারা যায় নাই। এমনকী প্রাকৃতিক দুর্যোগেও তার শাসনামলে মৃত্যুর সংখ্যা কম বইলা পশ্চিমা জেলাসি আছে। রোগবালাইয়ের ব্যাপার-স্যাপার যোগ করেন এর লগে। তাদের এই মেডিক্যাল সেবার নাম কিউবান মেডিক্যাল ইন্টারন্যাশনালিজম। ইবোলা থেকে ভূমিকম্প পর্যন্ত কিউবান সেবা ওয়ার্ল্ডের দ্বারে দ্বারে গেছে। ইবোলার বিষয়টা খেয়াল করেন বিশেষত। মার্কিন অবরোধের মধ্যেও কিউবা আফ্রিকাজুড়ে যে সেবা দিছে তা কোনো এনজিও, ইন্টারন্যাশনাল সংস্থা দিতে পারে নাই। এমন নজিরই নাই। কিউবান মিলিটারি রাশিয়া অ্যাফিলিয়েটেড এবং তারা গিনি-বিসাউ থেকে শুরু করে বিভিন্ন আফ্রিকান রাজ্যে মার্কিন কলোনি বিরোধী আন্দোলনে আর্মি পাঠাইছে। নিজেদের রাজনীতির পক্ষের শক্তি বাড়াইতে আর্মি পাঠাইছে। সিরিয়ায় রাশানদের সঙ্গে কিউবানরাও আছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে, আইএস ক্রিয়েশনের বিরুদ্ধে কিউবার অবস্থান পরিষ্কার।


ফিদেল ক্ষমতা নেওয়ার পর পশ্চিমা ক্রিটিকদের মতে ১০-৩০ হাজার মানুষ মারা হইছে। তবে কোথাও গণহত্যা চালান হইছে বা কারুরু বিরুদ্ধে জেনোসাইড পরিচালিত হইছে এমন তথ্য তারা দিতে পারেন নাই। ক্ষমতায় আসার পর বিচারের মাধ্যমে কিছু মানুষের মৃত্যুদন্ড দেওয়া হইছে। মার্কিন চক্রান্তে অংশগ্রহণকারীদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করার পর সমুদ্রে কিছু মানুষ মারা গেছেন। ভেনেজুয়েলা কিম্বা সাম্প্রতিক ব্রাজিলের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিলে নিজের মসনদ টিকায়া রাখার জন্য ফিদেলের এই কাজ বুদ্ধিমানের বলতে হয়। আমার এতে পূর্ণ সমর্থন নাই। কিন্তু মিসরের মতো ঘটনা তো আর কিউবায় ঘটে নাই। নিজের ক্ষমতা টিকায়া রাখার জন্য ফিদেল মিছিলে, সমাবেশে গুলি চালাইছেন এমন নজির নাই।


দুনিয়ায় দুইটা বিপ্লব রক্তপাতহীন ছিল। এর একটা লেনিনের। রাজনৈতিক দূরদর্শিতার কারণে সোভিয়েত ইউনিয়নে রক্তপাত ছাড়াই বিপ্লব হইছে। আর ফিদেল ও অন্যরা মেইকো থেকে কিউবা আসার পর বাতিস্তা বাহিনীর হাতে কেউ কেউ নিহত হইছেন। তাদের হাতেও বাতিস্তাপন্থী কেউ কেউ নিহত হইতে পারেন, কিন্তু এখানে বিচার করতে হবে বিপ্লবের পদ্ধতি নিয়া, কর্মসূচী নিয়া। তাদের রণকৌশলের মধ্যে খুনাখুনি ছিল কীনা তা দিয়া। ফিদেলরা যে বিপ্লব করছেন তার নাম জনগণতান্ত্রিক। এটা সমাজতান্ত্রিক না। লেনিনেরটা সমাজতান্ত্রিক, শ্রমিকরা সেখানে নেতৃত্ব দিছে। মালিকদের উৎখাতের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় বসছে। অন্যদিকে কিউবায় বাতিস্তা সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ ছিল। ফিদেল তাকে কাজে লাগাইছেন। তিনি ম্যক্সিকো সীমান্ত দিয়ে ঢুকে হাভানার দিকে আগাইতে আগাইতে গণমানুষের জোয়ার শুরু করে দিছেন। বাতিস্তা বাহিনী ভয়ে পালাইছে। সেখানে পিটুনিতে কেউ কেউ নিহত হইতে পারে। কিন্তু ফিদেলের মূল দল হত্যা পরিচালনা করে নাই। প্রমাণ নাই। বিচারের আওতায় হত্যা দেশটাতে এখনো চালু আছে। তবে সবশেষ ফায়ারিং স্কোয়াডে বিচারিক হত্য করা হইছে ২০০৩ সালে। ফিদেল এবং রাউল অনেক মৃত্যুদণ্ডের আসামিরে খালাস দিছেন। তবে এই ডেথ পেনাল্টি খারাপ।

ডু ইউ হ্যাভ এনি কোয়েশ্চেন অর কারেকশন?



সালাহ উদ্দিন শুভ্র
লেখক, সাংবাদিক, সমালোচক ও ঔপন্যাসিক।