"/> অন্তর্জাল
দেশ-কাল
আমি ঊনবিংশ শতাব্দীর কোন এক আত্মা আটকে বসে আছি একবিংশ শতাব্দীর আন্তর্জালে
পান্থ কানাই -11/28/2016

Performance - MOKAM Artist - Syed Muhammad Zakir & Muhammad Emran Photo: Molla Sagor - Shahabag area





ইখানে একটা গল্প বলি। একটা পাড়ায় পাঁচ-সাতজন মাতাল বাস করিত। তাহারা একত্রে মদ্যপান করিয়া অত্যন্ত গোলমাল করিত। পাড়ার লোকেরা একদিন তাহাদিগকে ধরিয়া অত্যন্ত প্রহার দিল। সেই প্রহারের স্মৃতিতে পাঁচ-সাত দিন তাহাদের মদ খাওয়া স্থগিত রহিল, অবশেষে আর থাকিতে না পারিয়া তাহারা প্রতিজ্ঞা করিল আজ মদ খাইয়া আর কোনো প্রকার গোল করিব না। উত্তমরূপে দরজা বন্ধ করিয়া তাহারা নিঃশব্দে মদ্যপান আরম্ভ করিল। সকলেরই যখন মাথায় কিছু কিছু মদ চড়িয়াছে, তখন সহসা একজনের সাবধানের কথা মনে পড়িল ও সে গম্ভীর স্বরে কহিল, 'চুপ্‌!' অমনি আর- একজন উচ্চতর স্বরে কহিল, 'চুপ্‌!' তাহা শুনিয়া আবার আর-একজন আরও উচ্চস্বরে কহিল, 'চুপ্‌', এমনি করিয়া সকলে মিলিয়া চিৎকারস্বরে 'চুপ্‌ চুপ্‌' করিতে আরম্ভ করিল-- সকলেই সকলকে বলিতে লাগিল 'চুপ্‌'। অবশেষে ঘরের দুয়ার খুলিয়া সকলে বাহির হইয়া আসিল, পাঁচ-সাতজন মাতাল মিলিয়া রাস্তায় 'চুপ্‌ চুপ্‌' চিৎকার করিতে করিতে চলিল, 'চুপ্‌ চুপ্‌' শব্দে পাড়া প্রতিধ্বনিত হইয়া উঠিল।
আমাদের " জয় বাংলা " শব্দটিও কি ঠিক এইরূপ হয় নাই? সকলেই সকলকে বলিতেছে, জয়, সকলেই সকলকে বলিতেছে, বাংলা, কে যে জয় পাইয়াছে আর কে যে বাংলা পাইয়াছে সে বিষয়ে আজ পর্যন্ত ভালোরূপ মীমাংসাই হইল না।
রক্ত দিয়া রক্তস্নান করাইয়া একটি ভূমি কে জয় করিয়াছি ,নামকরণ করিয়াছি বাংলা, যা কেবল ডিজিটাল নামক উন্নতির স্রোতধারায় ফিরিঙ্গি বালক বালিকার প্রসব করিতেছে |এরা নামমাত্র দেশপ্রেমী আর অসাম্প্রদায়িক কবিতার আবৃত্তিকার যাহাদের অন্তর সম্পূর্ণ বিপরীত |অভদ্রতাকে বীরত্ব মনে করে, স্ত্রীর কাছে গর্ব করে ও কার্যকালে কী করিবে ভাবিয়া পায় না। গুরুজনকে মানে না, পূজ্যলোককে অপমান করে ও একপ্রকার খেঁকিবৃত্তি অবলম্বন করে।
আর একদল লোক আছেন, তাঁহারা কেবল উত্তেজিত ও উদ্দীপ্তই করিতেছেন, তাঁহাদের বক্তৃতায় বা লেখায় কোনো উদ্দেশ্য দেখিতে পাওয়া যায় না। তাঁহারা কেবল বলিতেছেন, 'এখনও চৈতন্য হইতেছে না, এখনও ঘুমাইতেছ? এই বেলা আলস্য পরিহার করো, গাত্রোত্থান করো। আমাদের পূর্বপুরুষদের একবার স্মরণ করো-- ভীষ্ম দ্রোণ গৌতম বশিষ্ঠ ইত্যাদি।' কী করিতে হইবে বলেন না, কোন্‌ পথে যাইতে হইবে বলেন না, পথের পরিণাম কোথায় বলেন না, কেবল উত্তেজিতই করিতেছেন। বন্দুকের বারুদে আগুন দিতেছেন, অথচ কোনো লক্ষ্যই নাই, ইহাতে ভালো ফল যে কী হইতে পারে জানি না, বরঞ্চ আপনা-আপনির মধ্যেই দু-চারজন জখম হওয়া সম্ভব! কোনো একটা কাজে প্রবৃত্ত হইতে পারিতেছি না কেবল তপ্তরক্তের প্রভাবে ইতস্তত ধড়ফড় করিতেছি! কতকগুলা অসম্ভব কল্পনা গড়িয়া তুলিয়া তাহাকে প্রাণ দিবার চেষ্টা করিতেছি, স্বদেশের বুকে যে শেল বিঁধিয়াছে, মনে করিতেছি বুঝি তাহা বলপূর্বক দুই হাতে করিয়া উপড়াইয়া ফেলিলেই দেশের পক্ষে ভালো, কিন্তু জানি না যে তাহা হইলে রক্তস্রোত প্রবাহিত হইয়া সাংঘাতিক পরিণাম উপস্থিত করিবে।
যে স্বদেশের মানুষ প্রাণভয়ে বিদেশ গমন করিতেছে ,রাজেন্দ্র বর্গ তথা রাজগী প্রজাবৃন্দ নিশ্চুপ রহিয়া মনে মনে তৃপ্তির ঢেকুর উগড়াইতেছেন ,সে দেশে দেশ নামক ভূমি বিদ্যমান থাকিতে পারে কিন্তু বাংলা কতদিন অপমান সহ্য করিয়া তার অস্তিত্ব রক্ষা করিবে সে বেপারে আমি অন্তত বেশ সন্দিহান |
তবুও ,মানুষের জয় হোক, শান্তি ফিরিয়া আসুক, মানবতা ও মনুষত্য পুনর্স্থাপিত হোক মানব মস্তিষ্কে |
জয় গুরু



পান্থ কানাই
জন্ম: ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১
সঙ্গীতশিল্পী।