"/> অন্তর্জাল
অনুবাদ, কিউবা, ফিদেল, চে গেভারা, পাবলো নেরুদা, মার্কেজ
Hasta la victoria siempre! ভিভা ফিদেল...
ফিদেলকে নিবেদিত লেখার অনুবাদ -11/28/2016





কিউবার অবিসংবাদিত নেতা এবং বিপ্লবের প্রতীক ফিদেল কাস্ত্রো আর নেই৷ কিউবার হাভানায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি৷ কাস্ত্রোর বয়স হয়েছিল ৯০৷মহান এই বিপ্লবী নেতার সহচর, বিপ্লবী সহযোদ্ধা ও রাজনৈতিক সহকর্মী চে গেভারার লেখা  ফিদেলকে নিবেদিত একটি কবিতাসহ পাবলো নেরুদার একটি কবিতা ও গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের একটি লেখার অনুবাদ প্রকাশ করা হলো। অন্তর্জাল.কম এর জন্য লেখাগুলোর অনুবাদ করেছেন এ কে এম জাকারিয়া


 

ফিদেলের গান
-চে গুয়েভারা


তোমাকে বলতে শুনেছি-
সূর্য উঠবে,
মুক্তি পাবে ভালোবাসার সেই সবুজ কুমির।
তাই চাইতে-
একসাথে হেটে যেতে,বহুদূরের অচেনা পথে।
তুমি জানতে-
কেবল নৈরাজ্যের গাঢ়লাল নক্ষত্রমালাই পারে, শ্রেণির গ্লানি ঘুচিয়ে দিতে
আর
অদৃষ্টের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে।

মুক্তির লড়াইটা আমাদের জিততে হবে
অথবা,বুলেটে ঝাঝড়া করে দিতে হবে মৃত অতীত।প্রথম বুলেটের শব্দে আড়মোড়া ভেঙে জংগল উঠবে জেগে আর ভুঁইফোড় নিরপেক্ষতা সুস্পষ্টভাবেই চলে আসবে তোমার পক্ষে।

চিরচেনা আওয়াজে তোমার বজ্রকন্ঠ ঘোষণা করবে চার কথা,
সংস্কারকৃত ভূমিনীতি- ন্যায়বিচার-খাদ্য-স্বাধীনতা।

স্বৈরশোষকের বিরুদ্ধে দাঁড়ালেই মুক্তির লড়াই শুরু হয়ে যায়,হোক।
সেই লড়াইয়ে,তুমি আমাদেরই লোক।
পরাজিত আর তীরবিদ্ধ পশুর মতন শোষক যখন ক্ষতস্থান চাটতে থাকে,তখনও আমরা বুক ফুলিয়ে তোমারই পক্ষে।

এই সর্বহারা ঐক্য সাজানো প্রলোভন আর কুৎসিত ক্ষমতার কাছে টলে না,প্রয়োজনে রাইফেল,বুলেট কিংবা পাথর তো খুঁজে পায়।
নতুন আমেরিকার ইতিহাসের দিকে আমাদের এই পথচলা যদি লোহারপ্রাচীরে থমকে যায় তবে কিউবার কান্নামাখা চাদরে যেন ঢাকা হয় এই নিষ্প্রাণ গেরিলা শরীর।
আর কিচ্ছু চাই না।

ফিদেল ফিদেল
-পাবলো নেরুদা


ফিদেল,ফিদেল,
তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতা,গনমানুষের কৃতজ্ঞতা।
চুক্তি সই কি রাজকর্ম দারুন চলছে,যেমন ছিল তোমার কথা।সেই খুশিতে,অনেক খুঁজে,তোমার জন্য ১গ্লাস মদ এনেছি,দেশী।

দ্যাখো-
তোমার ঠোঁটের কাছে,
কোন তরলের ছায়া লেগে আছে?
ভূগর্ভস্থ সব শ্রমিকের রক্তভরা ঐ গ্লাসে।
যারা শতবর্ষ ধরে,
আগুন তুলছে বরফ-মাটি খুঁড়ে।
অরাই আবার নামছে সাগর ফুঁড়ে,
কয়লা খুঁজে ভুতের বেশে,
আবার আসছে ফিরে।
রাতের আলো সয়ে সয়ে অরা উঠেছে বেড়ে,
কর্মজীবন ওদের থেকে দিন নিয়েছে কেড়ে।
তথাপিও এইখানে এই গ্লাসে,
প্রচন্ড হাহাকার আর দূরত্ব ভরা আছে।
ভরা আছে ভ্রম আর অন্ধকারগ্রস্থ কারারুদ্ধ মানুষের সুখ যারা খনির গভীর থেকেই বসন্তের আগমনী সুগন্ধ বিষয়ক ধারনা পায় কারন তারা জানে যে মানুষ সর্বদা নির্মলতার চূড়ায় পৌছানোর স্ট্রাগলে লিপ্ত।
আর দক্ষিনের খনিশ্রমিকের চোখে কিউবা-
লা পাম্পার নিসংগ পুত্রদের মত,
শীতকালীন পাতাগোনিয়ার শেফার্ডদের মত,
টিন ও সিলভারের পিতাদের মত
যাদের মধ্যে একজন কর্ডিলারাসকে বিয়ে করে চুকুইকামাটা থেকে কপার আরোহণ করত।

শুদ্ধ নস্টালজিয়ায় ভোগা গনমানুষের ভিড়ে বাসের ভেতর লুকিয়ে থাকা পুরুষ,
কারখানা ও ক্ষেতে খামারে কাজ করা নারী,
শৈশব পেরিয়ে আসা শিশু,
সবাই আছে এই তরলভর্তি গ্লাসে,এই নাও,ফিদেল।
আশাবাদে টইটুম্বুর এই গ্লাস তোমাকে তোমার বিজয় দেখিয়ে আনবে,
আমাদের ঐতিহ্যবাহী পুরাতন পানীয়ের মতোই
এর প্রস্তুতিপর্বে থাকে বহু মানুষ,বিবিধ উদ্ভিজ্জ জড়িত থাকে।তাই,এ শুধু এক ফোটা জল নয় যেনবা বয়ে চলা নদী।কেবল একা ১জন সেনাপতি নয় বরং সমরসজ্জিত সম্পূর্ণ সৈন্যদল।
এরা সবাই তোমার পক্ষে কেননা,তুমি আমাদের দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতি সম্মিলিত শ্রদ্ধার শ্রেষ্ঠ  প্রতিনিধি।
তুমি জানো যে,কিউবার পতন মানে ব্যক্তিগতভাবে আমাদেরও পতন এবং অবস্থার পরিবর্তন চেয়ে আমাদের উৎকন্ঠিত অপেক্ষা।
আবার যখন কিউবা ফুলের মত ফোটে তখন মনে হয় আমাদের একান্ত অমৃত হয়ে শোভা বাড়াচ্ছে।
তোমার হাতে মুক্ত হওয়া কিউবার কপাল ছুয়ে দেয়ার মত দু:সাহস যারা করবে,তারা জনরোষ থেকে রেহাই পাবে না।
প্রিয়তমা কিউবার দুর্দিনে আমরা আবার জমা রাখা অস্ত্র হাতে তুলে নিতে পারবো,নি:সন্দেহে।

ফিদেল,আমি যেমন চিনেছি
-গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ


সবচে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার ছিল অর কথা আর সম্মোহনী এনার্জি।ও জানত আসলে সমস্যা কোথায়?তারপরও এই যে অর মধ্যে ১টা উৎসাহব্যঞ্জক ভরবেগ,এইটাই অর স্টাইল।প্রচুর বইপত্রেও অর টেস্ট নিয়া কথাবার্তা আছে।ও সিগারেট ছেড়ে দিছে মোরাল ১টা জায়গা থেকে কারন সামরিক বাহিনীতে ধুমপান নিয়ন্ত্রনের কতৃর্ত্বে থেকে নিজেই না মানলে তো সমস্যা।খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে স্বাস্থ্যগত বৈজ্ঞানিক ধারনার মেইনটেইনেন্স ছিল অর।ফিদেল ফিট থাকার জন্য প্রাত্যহিক ব্যায়াম আর সাতারের অভ্যাস করছিল।আর অর ছিল প্রচুর ধৈর্য আর কঠোর শৃংখলাবোধ।দূরদৃষ্টিই অর সবচে বড় এনার্জি ছিল।হোসে মার্টি ফিদেলের প্রিয় লেখক,অর এই লেভেলে বোঝাপড়া ছিল যে মার্টির চিন্তাকে মার্কসবাদী বিপ্লবের পথে একটা সূর্যতোরণ বলত।অর নিজের অবস্থানের সাথে ততটা না মিললেও, ম্যাসের ব্যাপারে সিদ্ধান্তগ্রহণের সময় প্রত্যেককেই সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হয়েছে।ফিদেলের সর্বোত্তম আস্থা ছিল সরাসরি যোগাযোগে আর উপলক্ষভেদে আলাদা আলাদা ভাষা আর সম্মোধনে ও অদ্বিতীয়।
অর স্বভাবই ছিল আপন-আপন,কথোপকথনে কোন দূরত্ব রাখতনা।কথা বলে হোক বা অন্য যেকোনভাবেই হোক সমাধানে পৌছাত।সে যেখানেই যাক না ক্যানো নির্দ্বিধায় সেখানকারই হয়ে যেতে পারতো।
যেখানে ফিদেল ক্যাস্ট্রো জিতে গ্যাছে,
তার পরাজিতের মত বিনয় তাকে আরো মহান করে তুলেছে।সামান্য বেসরকারী নির্দেশনাও সে বিনিতচিত্তে মেনে গ্যাছে,এমন সুপ্রিম শাসক পৃথিবির ইতিহাসে বিরল।তার সবচে কার্যকর অংশ মগজ,তার সর্বোচ্চ ব্যবহারই সে আজন্ম করেছে।১বার কোন আলোচনা/বক্তৃতার জন্য তার মুদ্রাস্ফীতি বিষয়ক কিছু গানিতিক উপাত্ত এবং প্রকৃত তথ্যের প্রয়োজনে সে ব্রেকফাস্টের টেবিলেই ২০০পাতা সংবাদ পড়েফেলেছিল।পাঠক হিসেবে অর কোন বাছবিছার নাই,যখন যা হাতে থাকে তাই পড়ে ফেলে।জানার ব্যাপারে সে উদার,সমৃদ্ধ হবার কোন সুযোগ হাতছাড়া করার নজির নাই।


এংগোলা যুদ্ধের সময় এক ইউরোপিয়ান ডিপ্লোম্যাটের রিসেপসনে সে যুদ্ধের এত চুলচেরা বিবরন দ্যায়,বোঝাই যায়না যে যুদ্ধটা ফিদেল করেনি।ফিদেল,বলিভার বা মার্টির মতো করেই লাতিন আমেরিকার ঐক্য,স্বায়ত্তশাসনের ব্যাপারে ভাবতো আর আমেরিকায় কিউবার ১টা মর্যাদাপূর্ণ উপস্থিতির ব্যাপারে সে আশাবাদী ছিল তাই কিউবার উপর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা সে খুব দক্ষতার সাথেই ডিল করতে পেরেছিল।ইন্টারভিউগুলাতে এমন কোন প্রশ্ন থাকতনা যে যার উত্তর দিতনা,যত প্রোভকেটিভ প্রশ্নই হোকনা ক্যানো অর ছিল ধৈর্যশীল ডিফেন্স মেকানিজম।সে সরকারী কর্মকর্তাদের সত্য গোপন না করার পরামর্শ দিত।অর মতামত খুব স্পষ্ট যে বিপ্লবের স্থায়িত্ব কোন বিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া নয় বরং সামাজিক,রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক,বিজ্ঞান,সংস্কৃতি,খেলাধুলা সকলক্ষেত্র থেকেই সাপোর্টের মাধ্যমে এর ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি হয়।প্রায়শই অকে কিউবার রাস্তায় সাধারন মানুষের সাথে সাবলীলভাবে আলোচনা করতে দেখত মানুষ এবং সাধারন মানুষেরো কোন আড়ষ্টতা/আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই নেতার সাথে তর্ক করত,অভিযোগ জানাতো আর আলোচনা তো চলতোই।গনমানুষ নির্বিশেষে অকে 'ফিদেল' ই বলতো,অফিসিয়ালিটির কোন বালাই ই ছিলনা।যে মানুষটা যাবতীয় অসংগতি অন্যদের বুঝতে না দিয়ে,একাই সবাইকে নিরাপদে আগলে রাখত,সেই ফিদেল কাস্ট্রো,আমার বিশ্বাস আমি অকে চিনতে ভুল করি নাই।
কখনো কখনো অনাগত দিনের গভীর ভাবনায় নিমজ্জিত দেখে আমি অর কাছে জানতে চেয়েছি,পৃথিবীতে কি করতে সবচে বেশী ইচ্ছা করে?সে ১মুহুর্ত না ভেবেই বলে,এক্কেবারে এক কোনায় গিয়ে দাড়ায়ে থাকতে ইচ্ছা করে।