"/> অন্তর্জাল
ফুটবল, ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ, পর্তুগাল, ফ্রান্স
পর্তুগিজ যুবরাজ নাকি নয়া সুপার ‘গ্রিয়েজ’ মান
মেহেরাব ইফতি -07/10/2016





পূর্বের ২৪ ম্যাচ ইতিহাসের কথা বলে। ভবিষ্যতের প্রস্তাবনা দেয়। কিন্তু, স্কোরলাইন শেষ কথা বলবে। রাত একটায় যার মহারণ ‎Stade de France- এ অনুষ্ঠিত হবে তার ব্যাপারে আগাম ক্যামন করে বলি!  গ্লাডিয়েটর বনাম  গ্লাডিয়েটর। ইতিহাস পর্তুগালের পক্ষে নেই। ফ্রান্সের বিপক্ষে শেষ জয়ের দেখা সেই ১৯৭৫ সালে। সেটাও ছিল প্রীতি ম্যাচ। ইতিহাস বলছে ফ্রান্স দুইবার ইউরো জিতেছে। ১৯৮৪ সনে একবার। দ্বিতীয়বার ২০০০ সনে। দু’বারই সেমিফাইনালে হারিয়েছে পর্তুগালকে। কিন্তু, নক আউটে ৫৮ বছরের খরা কাটিয়ে যদি ফ্রান্স জার্মানিকে হারিয়ে ইতিহাসকে বাহুল্য বা স্মৃতির অংশবিশেষ বলতে পারে তাহলে পর্তুগাল কেনো নয়?
দিদিয়ের দেশম পরাশক্তি জার্মানির সাথে নামবার আগে বলেছেন, ‘ইতিহাস কেউ বদলাতে পারে না। তবে ইতিহাসের নতুন কিছু অধ্যায় লেখা যেতে পারে, আর সেটি করতে পারেন ফুটবলাররাই।’

সেই একই সুর পর্তুগিজ যুবরাজের কণ্ঠে, ‘ফ্রান্স আমাদের চেয়ে কিছুটা বেশি ফেভারিট। কিন্তু আমার মনে হয় শেষ পর্যন্ত জিতবে পর্তুগাল।’

এই সমীকরণ পর্তুগিজ যুবরাজ কোন অংক কষে আঁকলেন? নিজের ছন্দহীনতায়, সামান্য ঝলকেই আস্থা রাখছেন নাকি ২০০৪ সালের ইউরোর স্বাগতিক হিসেবে চাপ নিতে না পেরে গ্রিসের কাছে যেমন অসহায়  আত্মসমর্পণ করেছে ফিগোর পর্তুগাল ঠিক তেমন কিছুই আশা করছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো? সেন্ট্রাল ডিফেন্সে পেপের ফিরে আসা শক্তি জোগাবে। কারভালহো’র দলে সংযুক্তি স্টপার ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে পর্তুগালকে বাড়তি সুযোগ দিবে। ফ্রান্স যদি অল অ্যাটাক ফুটবল খেলতে চায় বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে পর্তুগালের ফরমেশন। ৪-৪-২ ফরমেশনের সাথে আছে মিডফিল্ডে তরুন আন্দ্রে গোমেজ। কয়েক ম্যাচেই যিনি দলে নিজেকে কার্যকারী হিসেবে প্রমান দিয়েছেন। তরুন প্রতিভা সানচেস আগে থেকেই ছিলেন লাইমলাইটে। রাইট উইং দিয়ে তাঁর ক্রস ভীতি ছড়াবে নিঃসন্দেহে। আর ফলস নাইন না রাখা পর্তুগাল সেট পিস করবে নানি আর রোনালদোকে ঘিরে। ইতিমধ্যেই নানি ‘হেডভীতি’ ছড়াতে শুরু করেছেন প্রতিপক্ষের রক্ষণ দেয়ালে। সাথে রোনালদোর সামান্য কিছু ঝলকও যদি দেখা যায় তাহলে ‘সুপারম্যান’  হয়ে উঠা গ্রিয়েজমানের কথাটা ফেলনা নয়, ‘আমি বলবো পর্তুগালের বিপক্ষে আমাদের সম্ভাবনা ফিফটি-ফিফটি’কিন্তু, সুপার গ্রিয়েজমানের তো আত্মবিশ্বাসে মাটিতে পা থাকার কথা না! বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানকে একাই যিনি ‘টুর্নামেন্ট আউট’ করে দিয়েছেন তিনি থাকবেন আরো আত্মবিশ্বাসী বিলীন। ফর্ম সে কথাই বলছে। ৬ গোল করে টুর্নামেন্ট গোল্ডেনবুট এখন সময়ের দাবি তাঁর। মিশেল প্লাতিনির রেকর্ড যেখানে সংকটে ভুগছে সেখানে বিনয়ী গ্রিয়েজমান বলেন, ‘সত্যি বললে আমি মিশেল প্লাতিনির চেয়ে এখনো বেশ দূরেই আছি। যদিও কোনো একদিন তাঁর কাছাকাছি যাওয়ার স্বপ্নটা আমি দেখি।’সেই স্বপ্ন তিনি দেখতেই পারেন। এবং, রোনালদোও সে স্বপ্ন থেকে এক গোল দূরে। ৯টি গোল করে পর্তুগিজ যুবরাজ প্লাতিনিকে আগেই ধরে ফেলেছেন।

সেমিফাইনালে দেশমের ট্যাকটিসের ভুল বলতে পায়েতকে না উপরে না উইঙ্গে খেলানো বলা যেতে পারে। অনেক লং বল মিস করা পায়েত আরো বেশি সাহায্য করতে পারতেন ফর্মে থাকা গ্রিয়েজমানকে। জিরদের বাৎসল্য আজ যেন ফ্রেঞ্চদের কান্নার কারণ না হয়ে উঠে এ প্রার্থনা ফ্রান্সভক্তরা করতেই পারে। সাথে আছেন ফর্মের তুঙ্গে থাকা সেটপিস মাষ্টার পগবা। রাফ ট্যাকেলেও যার জুড়ি নেই। পগবা নিজেই একজন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার এবং স্টপার ব্যাকের কাজ করেন। ফ্রেঞ্চদের মূল শক্তি বা এই ম্যাচের নিউক্লিয়ার আসলে পল পগবা। অভিজ্ঞ এভরাকে আজ কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে। তাঁর কাঁধেই থাকবে ফ্রেঞ্চ ডিফেন্সের ভিত। আটকাতে হবে উইং দিয়ে আসা লম্বা ক্রসগুলো।


রফি কার? আক্ষেপ ঘুচবে কি পর্তুগিজ যুবরাজের? কতটা মরিয়া তিনি? উয়েফা ডটকমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোনালদোর কথা শুনলে বুঝতে পারা যায়,
‘হ্যাঁ, ক্লাব পর্যায়ে তো আমি সব কিছুই জিতেছি। এমনকি ব্যক্তিগত পর্যায়েও আমার অর্জন কম নয়। কমতি কেবল জাতীয় দলের হয়ে কিছু পাওয়ার ক্ষেত্রেই। এ শূন্যতা আমি ঘোচাতে চাই। এবারের ইউরোর ফাইনাল পর্তুগিজ দলের হয়ে কিছু জেতার দারুণ সুযোগ এনে দিয়েছে। জিততে পারলে তা নিঃসন্দেহে দুর্দান্ত এক অর্জনই হবে।’

নতুন ইতিহাস কি লিখবেন সুপার গ্রিয়েজমান? তাঁর মনে পরে যায় ২০০০ সালের ইউরো জয়ের কথা,
‘২০০০-এর ইউরোর ফাইনাল মনে আছে আমার, বিশেষ করে ত্রেজেগের গোল্ডেন গোলটার কথা। যেটি করেই উনি জার্সি খুলে ফেলেছিলেন। বাসায় আমাদের পরিবারের সদস্য ও বন্ধুরা মিলে খেলাটি দেখে আমরা আনন্দে লাফাচ্ছিলাম।’

লিসবন থেকে প্যারিস, উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব-পশ্চিম এক প্রশ্ন :  আজ কার ‘উইনিং জার্সি’ খোলার দিন?



মেহেরাব ইফতি